প্রযুক্তির অপব্যবহারে ধ্বংসের পথে শিশুরা

সৈয়দা মুনিয়া জান্নাত।

বর্তমানে সবকিছু প্রযুক্তিনির্ভর হওয়াতে পরিণত বয়স হওয়ার আগেই ইঁচড়ে পাকা হয়ে গড়ে উঠছে অধিকাংশ পরিবারের কোমলমতি শিশুরা । খুব কম বয়সেই এরা আনমনা হয়ে যাচ্ছে, পরিবারের মানুষদের সাথে সময় কম দিচ্ছে । দিনের সিংহভাগ সময় অতিবাহিত করছে মোবাইল নয়তো ল্যাপটপ স্ক্রিনের পর্দায় ।

অনলাইন ক্লাসের কথা বলে শিশুরা স্মার্টফোনের অপব্যবহার করে বেড়াচ্ছে । লেখাপড়ার মনোযোগ ও খেয়াল করলে দেখতে পাবেন নেই বললেই চলে । শৈশবের আসল আনন্দ উপভোগ করার আগেই এরা হতাশার রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছে । মাঝেমাঝে অপ্রত্যাশিত দৃশ্যগুলো খুববেশি চমকে দেয়, যে কোথায় আছি আমরা ! ক্লাস ফাইভ-সিক্সের বাচ্চারা দুইতিনটা ফেইসবুক একাউন্ট খুলছে বড়দের না জানিয়ে ।তারপর নানান অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে পারিবারিক সঠিক দেখভালের অভাবে ।

সুইসাইডাল স্ট্যাটাস দিচ্ছে অপরাধের ত্রিসীমানায় পৌঁছে কোনো কুলকিনারা খুঁজে না পেয়ে । অনেকে অল্প বয়সে নিজেদের বিপদগামী করে তুলছে নানা ফাঁদে পা দিয়ে । বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও দেখে এরা নিকৃষ্ট জিনিস শিখছে ও সেসব নোংরামি নিজেদের লাইফে প্রয়োগ করে অসময়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছে । বেশিরভাগ পরিবারের বাবা মায়েদের সাথে কথা বলে জেনেছি , তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে ।

গার্ডিয়ানরা ভাবে যে, ছেলেমেয়েরা মোবাইল ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত মানে হয়তো নতুনকিছু শিখছে নয়তো গেমস খেলছে । কিন্তু আধুনিক যুগের নিষ্পাপ মুখোশের আড়ালে বেশিরভাগ শিশুরা প্রযুক্তির বেড়াজালে বন্দি হয়ে যে অপরাধী হয়ে উঠছে তার বিন্দুমাত্র ধারণা পরিবারগুলোর নেই ।

বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটায় তখন বেখেয়ালি বাবামায়ের টনক নড়ছে । এখনই সময় প্রতিটি পরিবারের মা-বাবাকে অনুরোধ করছি খেয়াল রাখুন আপনার আদরের সন্তান কি করছে , কাদের সাথে মিশছে , কোথায় যাচ্ছে ,অনলাইনে কি কি করছে ঐদিকে বেশি গুরুত্বআরোপ করুন ।

চোখ-কান খোলা রাখার চেষ্টা করতে হবে বড়দের নয়তো ছেলেমেয়েগুলো অকালে ধ্বংসের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই । মনে রাখবেন, “সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় ” ।

পছন্দের আরো পোস্ট