প্রধান শিক্ষকদের কোচিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ই্উএসএআ্ইডি এর আর্থিক সহায়তায়, সেভ্ দ্য চিল্ড্রেন এর কারিগরী সহযোগিতায়, আরডিআরএস বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত রিড প্রকল্পের আওতায়   গত ১৩ থেকে ২১ মে, ২০১৭ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর ও উলিপুর উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের জন্য কোচিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রশিক্ষণের ৩টি ব্যাচে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭১জন প্রধান শিক্ষক এবং ২টি ব্যাচে উলিপুর উপজেলার ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯জন প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

দুটি উপজেলার ৫টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ পরিচালনায় সহায়কের ভূমিকা পালন করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার  উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজল কুমার সরকার, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মো: লুrফর রহমান ও নার্গিস ফাতেমা তোকদার এবং উলিপুর উপজেলার মো: আলী ইমরান ও মো: ফরহাদ হোসেন খন্দকার।

এছাড়াও রিড প্রকল্পের নাসিম উদ্দীন আহম্মেদ, সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার-রিড ও আরও ৫জন টেকনিক্যাল অফিসার এই প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

উলিপুর উপজেলার একটি ব্যাচে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ.কে.এম. তৌফিকুর রহমান, সুপারিনটেন্ডডেন্ট-পিটিআই, কুড়িগ্রাম বলেন, ‘‘ ইতিপূর্বে কোচিং শব্দটি শুনলে আমাদের মনে একটি ব্যবসায়িক ভাব ফুটে উঠতো। কিন্তু রিড প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কোচিং সম্পর্কিত নুতন একটি ধারণা পেলাম। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশে কোচিং অতি পুরানো একটি ধারণা। যতদূর মনে হয়, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং ধারণা একটি নব সংযোজন। একটি খেলায় যেমন একজন কোচ তার টিমকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিবিড় সহায়তা প্রদান করে থাকেন। তেমনিভাবে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোচ হিসেবে তাঁর সহকারী শিক্ষকদের নিবিড় সহায়তাদানের মাধ্যমে তাদের সামর্থ্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবেন। এরফলে আমরা অতি সহজে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব। এর মাধ্যমে একদিকে উপকৃত হবে আমাদের শিক্ষক সমাজ এবং অন্যদিকে উপকৃত হবে আমাদের শিক্ষার্থীগণ।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল অংশগ্রহণকারী এই প্রশিক্ষণ থেকে জেনেছেন যে, প্রধান শিক্ষকগণ একদিকে যেমন তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের একজন একাডেমিক সুপারভাইজার, অন্যদিকে একজন কোচ। একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে তিনি একদিকে যেমন তাঁর বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সুপারভিশন করবেন, অন্যদিকে কোচ হিসেবে তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের শ্রেণি পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে তাদের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নকল্পে নিবিড় সহায়তা প্রদান করবেন।

তিনি শুধু পরামর্শ্ই দিবেননা, কাজটি প্রয়োজনে করেও দেখাবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল প্রধান শিক্ষক বিশ্বাস করেন, কোচিং কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে শিক্ষকের আন্তtসম্পর্ক্ তৈরি করবে, অন্যদিকে শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হবে। এটি শুধু পড়তে শেখায় শিক্ষার্থীর সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবেনা, প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের গতিকেও তরান্বিত করবে।

পছন্দের আরো পোস্ট