কি আনন্দ লাগলো মনে..

বিস্ময়রা জায়গা বেদে কত বৈচিত্র্যের হয়। কি বলেন,আপু! আপনার বাচ্চা বাংলা বলে? কি করে ধরে রাখলেন।এই হলো বিদেশের বিস্ময়। দেশের বাহিরে জন্মগ্রহণ করা কিংবা বড় হওয়া বাচ্চারা আধো আধো বাংলাতে এতটুকু বাংলা কথাও বলতে পারলে কি যে খুশি লাগে মাতৃভূমির বোঁটা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা আমাদের সর্বজনীন মনে। তার জন্য স্বীকৃতি দিতে ইচ্ছে হয় ওদের মা বাবাকে। বিদেশে চাইলেও যে বাংলা বোল ধরে রাখা সহজ হয়না। স্রোতটা তো একেবারে বিপরীত মুখী। ওরা প্রথম প্রথম বাংলা বলতে পারে। লিখতে পারে। বুঝে! কিন্তু সেসব স্কুল যাবার আগ অবধি। এরপর প্রথমে বলাটা হারায়। বোঝাটা হিমশিম! আর লিখতে পারাটা আকাশ কুসুম!

তবু এই আকাশ কুসুমদের উৎসর্গ করে আমরা একটা আকাশ কুসুম কাজ করে ফেলতে চেয়েছি। মনের বিহ্ববল ভাবনাকে মলাটে সাজানোর পরিকল্পনা করেছি। রাতের ঘুমকে বনবাসে দিয়ে এইতো সেদিন সাহিত্য ম্যাগাজিন বের করে ফেলেছি! যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এই প্রথম সর্বাঙ্গে সাহিত্য নিয়ে হাজির হয়েছে চৌধূরী এহসান সম্পাদিত সাহিত্য ম্যাগাজিন: একতারা!

বাংলাদেশ সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার আয়োজিত
বৈশাখী মেলার অডিটরিয়ামে তার জন্য স্টল নিয়েছি। জ্বি নিজেদের খরচে সুদূর বাংলাদেশ থেকে কি কষ্ট করে যে ম্যাগাজিন প্রিন্ট করে এনেছি! সে কথা আল্লা জানে আর জানে সম্পাদক! এবং আমরা সে সাহিত্যর ম্যাগাজিনের নাম মাত্র মূল্যও নির্ধারণ করিনি। আমাদের স্বপ্ন যে সে মূল্যেরও অধিক: পড়ো পড়ো এবং পড়ো!

কি আনন্দ লাগলো মনে..
মুহূর্তেই মন ভুলে গেলো পড়াশুনা নিয়ে ভয়াবহ ব্যস্ত থাকা সত্বেও
মাথাতে এই সাহিত্যের ভূতের চাপ নিয়েছিলাম। লেখকদের লেখা সংগ্রহ করা। অসম্ভব সময় স্বল্পতা। (এখনও কিছু কাজ বাকি। শুধুমাত্র ভাষাকে ভালো বেসে করা নিঃস্বার্থে তাদের অংশগ্রহন করবার স্বদিচ্ছা আছে কি না। আমরা প্রতি তিন মাস অন্তর ম্যাগাজিনটা প্রকাশ করবো। তো সেসব প্রকাশিত লেখা সম্পর্কে জানানো। অনুমতি নেয়া। আরো কাজ বাকি!) তবু সব কষ্টরা বনবাসে গেলো দিনশেষে ঘরে ফেরা মানুষের হাত দুটোতে আমাদের একতারা’র শব্দে বোঁনা ম্যাগাজিন দেখে।

কি আনন্দ লাগলো মনে..
বৈশাখের মেলাতে শাড়ি চুরি খাবারের উৎসবের স্রোতে মিশেছে আমাদের শব্দে বোঁনা কথার উৎসব। বাহিরে তুমুল হৈ চৈ ফুচকা চটপটি! আর স্টেজ জুড়ে ছিলো নৃত্যশিল্পী মাহিমার মন মাতানো নাচ। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পুরুষ্কার প্রাপ্ত লেখক সেজান মাহমুদের দরদী কন্ঠের গান। আমায় ভাসাইলিরে..আমায় ডুবাইলিরে..

একটা দিনের জন্য আমরা সত্যিই ভেসে গেলাম বাংলাদেশ থেকে সহস্র মাইল দূর থেকেও আবহমান বাংলার চিরাচরিত সংস্কৃতিতে..পালা পার্বণে।

পছন্দের আরো পোস্ট