বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে কুবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা

KUMILLAলালমাই পাহাড়ের পাদদেশ ঘেরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৬ সালে এটি যাত্রা শুরু করে। ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিভিন্ন পরিবার থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন ক্যাম্পাসে এসে যেন নতুন একটি পরিবার খুঁজে পান। সারাদিন ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ করেই জমে উঠে আড্ডা-গান আর কৌতুকের আবহ। প্রানোচ্ছলতার এ যেন এক অন্যরকম দুনিয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পর হঠাৎ করেই যেন ছন্দপতন ঘটলো ক্যাম্পাসের এই আনন্দ মেলায়। শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত মার্কেটিং বিভাগের ৭ম ব্যাচের ছাত্র সাইফুল্লাহ খালিদ হত্যার ঘটনাটি পুরো ক্যাম্পাসকে মৃতপ্রায় করে দিয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাম্পাস।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা নিয়ে তাদের কে কি ভাবছেন তা জানতেই যোগাযোগ করা হয়েছে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাধারণ সম্পাদক ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের ছাত্র রন্টি সাহা বলেন, ‘ ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট সময় এর জন্য বন্ধ হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা সবাই অনিশ্চিয়তার মধ্যে আছি। আমার স্নাতক ফাইনাল সেমিস্টার এর আর মাত্র একটি পরীক্ষা বাকি। এই পরীক্ষাটি কবে হবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের নিকট আবেদন যাতে এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত ক্যাম্পাস খোলার ব্যবস্থা করা।’

আইসিটি ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা সায়েম বলেন, ‘ঘটনা যা ঘটেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার করা হোক এটাই চাই কিন্তু এর জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। প্রশাসনের উচিৎ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া।’

আইন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিঠুন খান বলেন, ‘অল্প কয়েকদিন আগেই আমরা প্রায় ৫০ দিন ছুটি কাটিয়েছি। এছাড়াও সামনের সেপ্টেম্বরে ঈদুল আযহা ও পূজার বন্ধ মিলিয়ে প্রায় ২৫ দিনের মত বন্ধ থাকবে ক্যাম্পাস। এই অবস্থায় অনাকাঙ্খিত এই ছুটি আমাদেরকে সেশনজটে পরারই আভাস দিচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হোক।’

বাংলা বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: মোশারফ বলেন, ‘আগামী ১৭ ই আগস্ট আমাদের সেমিস্টার পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষার আগমুহুর্তে আমরা পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এই ঘটনার পর ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন হয়তো ঠিক সময়ে পরীক্ষাটা দিতে পারবোনা। ফলে অনেকদিনের জন্যই পিছিয়ে যাবো আমরা। তাই এই অবস্থার দ্রুত অবসান হোক এটাই চাই আমরা।’

তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে সহপাঠী নূরজাহান তন্বী বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বুঝি না বা রাজনৈতিক দ্বন্ধেও জড়াতে চাই না। আমরা খুব তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাই। প্রশাসনের উচিৎ ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে আমাদেরকে দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়া।’

প্রসঙ্গত, গত ১আগস্ট মধ্যরাতে শোকাবহ আগস্টের কর্মসূচি পালনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জলনকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এতে মার্কেটিং ৭ম ব্যাচের ছাত্র সাইফুল্লাহ খালিদসহ ২জন গুলিবিদ্ধ হন, আহত হন অন্তত ১০জন। গুলিবিদ্ধ সাইফুল্লাহ খালিদ ভোর ৪টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান। নিহত সাইফুল্লাহ কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তুজারভাঙ্গা গ্রামের হাইস্কুলমাস্টার জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘সাইফুল্লাহ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে মামলা করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কাজও চলছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা এই বিষয়ে কাজ করছি। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে জানানো হবে।’

সবশেষে, শিক্ষার্থীদের একটাই চাওয়া, যত দ্রুত সম্ভব ঘটনার বিচার করে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।

পছন্দের আরো পোস্ট