পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯ মাসেও হয়নি ফল প্রকাশ

রাবিরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফল নয় মাসেও প্রকাশ হয়নি। ওই বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা বিভাগের বিএনপিপন্থী এক শিক্ষকের গড়িমসিতে এ ফল আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এতে করে ওই বর্ষের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়েছেন। আইন বিভাগের একটি সূত্রের দেওয়া তথ্য মতে, শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রথম দিন থেকে ৮ মাসের মধ্যে ক্লাসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় শেষ করতে হবে। এরপর চার বা ছয় সপ্তাহ শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। পরীক্ষার শুরুর দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করার নিয়ম আছে। কিন্তু ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ার নয় মাস পার হলেও ফল প্রকাশ হয়নি। ওই পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আইন বিভাগের বিএনপিপন্থী সহযোগী অধ্যাপক মো. মোর্শেদুল ইসলাম। বিভাগের সভাপতিসহ অনেক শিক্ষক তাকে দ্রুত ফল প্রকাশ করতে বললেও তিনি তা করেননি।

 

আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সহযোগী অধ্যাপক মো. মোর্শেদুল ইসলাম তাদের ‘একুইটি ট্রাস্ট এন্ড স্পেসিফিক রিলিফ এক্ট’ শিরোনামের ২০৩ নম্বর কোর্সের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ওই শিক্ষক কোর্সটি ভালো পড়াতে না পাড়ায় শিক্ষার্থীরা তাঁর ক্লাস খুব বেশি করেননি। নিয়মতি ক্লাস না করার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর ওই শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন।

 

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তাদের দ্বিতীয় বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষা ১ মার্চে শুরু হয়। পরীক্ষা শেষ হয় ৭ এপ্রিল। তাদের সাক্ষাতকার নেওয়া হয় ১২ এপ্রিল। এরপর নয় মাস পার হলেও তাদের ফল দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ওই শিক্ষক ইচ্ছা করে পরীক্ষা ফল দিতে বিলম্ব করছেন। এ বিষয়ে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোর্শেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

আইন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, আইন বিভাগে কখনও ফল প্রকাশে এতো দেরি হয়নি। দ্বিতীয় বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশ করার জন্য পরীক্ষা কমিটির সভাপতিকে অনেক বার বলা হয়েছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কেনো ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে তা আমাদের জানানো হয়নি। এই ফল প্রকাশের পর বিভাগের একাডেমিক কমিটিতে ফল বিলম্বের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক মো. মোর্শেদুল ইসলামের জানতে চাওয়া হবে। পরবর্তীতে তার উত্তরের পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে বলেও জানান তিনি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আমানুল হক বলেন, কোনো বিভাগ চুড়ান্ত পরীক্ষার ফল তৈরী করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরে পাঠালে আমরা সর্বোচ্চ দুই দিনের মধ্যে তা প্রকাশ করি। ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বিভাগের হাতে। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরের কিছু করার নেই।###

 

লেখাপড়া২৪.কম/রাবি/তমাল/এমএএ-০৪০০

পছন্দের আরো পোস্ট