পৈশাচিত গণহত্যার নীরব স্বাক্ষী বাকৃবির বধ্যভূমি

????????????????????????????????????

গৌরবময় মুত্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাশাপাশি বাকৃবির সবুজ চত্বরকে সে দিন রক্তে রঞ্জিত করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। সে সময় এ দেশের লাখো কোটি জনতার পাশাপাশি বাকৃবির ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে, ৩০ লাখ শহীদের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জানা অজানা অনেক ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরীতে একজন শিক্ষকসহ ১৮ জন শহীদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। শহীদের স্মৃতিকে ধরে রাখার লক্ষ্যে তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ জামাল হোসেন হল, শহীদ শামসুল হক হল এবং শহীদ নাজমুল আহসান হল নামে তিনটি হলের নামকরণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর শামসুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রফিকুল হক, প্রফেসর আতিয়ার রহমান মোল্লা, প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন, প্রফেসর ড. শেখ জিনাত আলী, প্রফেসর ড. নূর মো. তালুকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাবেক রেজিস্ট্রার মো. নজিবুর রহমানসহ ৮৫ জন বীর মুক্তিযুদ্ধার নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরীতে উল্লেখ রয়েছে।

 

রাজাকার-আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনী ময়মনসিংহ শহরের আনাচে কানাচে থেকে মুক্তিকামী মানুষদের ধরে আনে বাকৃবির পাশ দিয়ে বহমান পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। তা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এমন কোন লোক বাকি নেই যারা তাদের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে। হানাদার বাহিনী কুয়া খুড়ে ফেলে দেয় লাশ। কারো কারো লাশ শেয়াল, কুকুরের খাদ্য হিসেবে মাটির উপরে ফেলে রেখেই চলে যায়।

 

পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হয়। বিজয়ের পতাকা হাতে নিয়ে গণকবরের কাছে কেউ তার মাকে, কেউ তার স্বামী, কেউ তার সন্তানকে খুঁজে ফেরে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অগণিত মানুষকে মেরেছে পাক হানাদার বাহিনী। এ সকল বীর শহীদদের আত্মহুতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বাকৃবির ফাস্টগেট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বধ্যভূমি। স্বাধীনতার পর সেখানে কোন স্মৃতিস্তম্ভ না থাকলেও শুধু ঘোষণা দেওয়া হয় বধ্যভূমি হিসেবে।

 

পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে এক সাথে সব জেলায় বধ্যভূমি নির্মাণ করা হয়। তখন বাকৃবিতে এ বধ্যভূমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকারের পিডবলিওডি (চডউ) এর অর্থাায়ন ও পরিকল্পণায় বধ্যভূমির নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরে ১৯৯৩ সালের ১৪ নভেম্বর তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহ মো. ফারুক বাকৃবির এ বধ্যভূমি উন্মোচন করেন।

 

এরপর থেকে প্রতি বছর বধ্যভূমি ও গণকবর স্মৃতিফলকে শহীদদের প্রতি পুস্পস্তবক অর্পণ করে বাকৃবির ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাসহ ময়মনসিংহবাসী।

 

লেখাপড়া২৪.কম/বাকৃবি/আবদুর/স্বশা-৪৫৩৭

পছন্দের আরো পোস্ট