শেষ হলো ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রতিযোগিতা

শেষ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাব ‘ন্যাক নেশন’ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রতিযোগিতা ‘স্লা­ইড ফিয়েস্টা’ ২০১৭।

ডেটা ভিজ্যুায়ালাইজেশন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই ‘স্লা­ইড ফিয়েস্টা’ ২০১৭ আয়োজন করা হয়। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স হলে ‘স্লা­ইড ফিয়েস্টা’ ২০১৭ ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি হয়।

বিকাল তিনটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা শেষ পর্বের এই প্রতিযোগিতায় চুড়ান্ত পর্বে উঠা ছয়টি দল তাদের উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এর আগে প্রথম রাউন্ড ‘ইনফোগ্রাফ ইট!’ ও দ্বিতীয় রাউন্ড ‘বোল্ট ফ্রম দ্য ব্লু’ পেরিয়ে এই ছয়টি দল চুড়ান্ত পর্বে আসে।

ছয়টি দলের মধ্যে বিচারকদের রায় অনুযায়ী একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন এবং দুইটি দলকে প্রথম রানার ও দ্বিতীয় রানার আপ ঘোষণা করা হয়। প্রত্যেকটি দলই ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের।

প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দলকে ২০ হাজার, প্রথম রানার-আপ দলকে ১৫ হাজার এবং দ্বিতীয় রানার-আপ দলকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।এই আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলো আইপিডিসি ফিন্যান্স।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কিসমাতুল আহসান।

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘ডেটা আমাদের দেশের বাণিজ্যিক খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আকর্ষণীয় করে ডেটাকে উপস্থাপন করতে পারলে কর্পোরেট খাত আরও উন্নত হবে। আর সেটা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে করতে পারলে সবার আগ্রহটা একটু বশি থাকে। এজন্য এধরনের আয়োজন বেশি বেশি হওয়া দরকার।’ ২৯ অক্টোবর থেকে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়ে চলে ৮ নভেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।

প্রতিযোগিতাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিলো। প্রতিযোগিতায় তিনজনের একটা দল করে মোট ৪৭টি দল অংশ নেয়। প্রথম রাউন্ড ছিলো ‘ইনফোগ্রাফ ইট!’ অর্থাৎ প্রতিযোগীদের একটা নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে সেটার ওপরে যেকোনো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে ইনফোগ্রাফিক স্লা­ইড বানাতে বলা হয়।

দ্বিতীয় রাউন্ড ছিলো ‘বোল্ট ফ্রম দ্য ব্লু’ বা ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ অর্থাৎ এই পর্বে প্রতিযোগীদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তৃতীয় অর্থাৎ চুড়ান্ত রাউন্ড হচ্ছে ‘দি আলটিমেট ভিজ্যুয়ালাইজার’ যা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে একটি কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন উদ্ভাবনী দক্ষতা দিয়ে উপস্থাপন করতে হয় স্লাইডের মাধ্যমে।

আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘ন্যাক নেশনের সভাপতি ইশতিয়াক ইবনে ইউসুফ রাফ বলেন, ‘ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন’ বাইরের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন কোনো জ্ঞান নেই। বর্তমানে আমাদের দেশে সরকারী ও বেসরকারি অনেক চাকরির ক্ষেত্রে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের দক্ষতাকে বড় করে দেখা হয়। তাই এদেশের তরুণদের মাঝে এটাকে জনপ্রিয় করে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন।

পছন্দের আরো পোস্ট