চবিতে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী

চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গতকাল (৩০ জুলাই ২০১৭) রবিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর-এর প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি.।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব মো. সোহরাব হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এতে ধন্যবাদ সূচক ভাষণ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

শিক্ষামন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক-প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমাদের এ তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার। তাদের মাধ্যমেই আগামীদিনে রচিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। মাননীয় মন্ত্রী বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক, শিক্ষা-সংস্কৃতি-ক্রীড়া, সামাজিকসহ বিভিন্ন সূচক আলোকপাত এবং এর একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্ব মানচিত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতির যে সফলতার স্বীকৃতি অর্জন করেছে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমাদের চাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে জ্ঞান-দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা সম্পন্ন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ বিশ্বমানের মানবসম্পদ, যাতে তারা যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের পারদর্শীতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ অবলোকন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মাননীয় সচিব কৃতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে প্রজন্মের সন্তানদের সৃজনশীল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি অর্জনে সৎ-দক্ষ মানবসম্পদের কোন বিকল্প নেই। তিনি যে লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন এর সুফল ঘরে পৌঁছে দিতে কৃতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকতর দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান।

উপাচার্য তাঁর ভাষণে আজকের এ মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় সচিব মহোদয় উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। এ জন্য মাননীয় উপাচার্য তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগমন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি’র প্রায় পাঁচশতাধিক চৌকষ ক্যাডেট মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তাদের এ অনবদ্য পরিবেশনা অবলোকন করে মাননীয় মন্ত্রী মুগ্ধ হন এবং তা’ উপভোগ করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে চ.বি. সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত এবং উদ্বোধনী সংগীত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ-পবিত্র কোরআন, পবিত্র গীতা, পবিত্র ত্রিপিটক ও পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, হলসমূহের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ, অফিসার সমিতি-কর্মচারী সমিতি-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মিহির কুমার রায়, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হুদা, অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক খোকন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে জনাব রিজওয়ানা ইসলাম ও জনাব মো. হুমায়ুন কবীর বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য) জনাব মো. ফরহাদ হোসেন খান। উল্লেখ্য, এ চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক রচনা প্রতিযোগিতা ২০০৯-২০১৬ পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মোট ৩৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

পরে দুপুর ২ টায় উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ‘ইনক্লুসিভ ইউনিভারসিটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ফান্ড-২০১৭’ এর শুভ উদ্বোধন করেন।

এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। চ.বি. মাননীয় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ইনক্লুসিভ ইউভারসিটির উদ্যোগের ফোকাল পার্সন প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের পরিচালক ও বাংলাদেশ সরকারের যুগ্নসচিব জনাব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, এটুআই প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট