কি বললেন তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে বললেন

যখন কোন বিষয়ের উপর আপনি বক্তৃতা বা উপস্থাপনা করবেন সেটি প্রাণবন্ত, শ্রুতিমধুর, আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে তখন যখন ঐ বিষয়ের উপর আপনার গভীর জ্ঞান এবং গভীর আবেগ ( ভালোবাসা) থাকবে। কি বললেন তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে বললেন।

বিরক্ত হয়ে ভালোবাসার কথা বললেও কাজ হয় না! যখন কোন বক্তব্য রাখবেন কোন ভাষায় বলবেন সেটা ঠিক করে নিবেন। ধরে নিলাম বাংলায়। কোন বাংলায়? সাধু, কথ্য, চলতি কিংবা প্রমিত।

আমরা বাংলাদেশের মানুষ (শহরে, বিদ্যালয়ে, অফিসে, খেলাধুলার অঙ্গনে) সাধারণত যে ভাষায় কথোপকথন করি তাই এদেশের আদর্শ চলিত ( যেমন- করতেছি, বলতেছি, বুঝাইতেছি, পারতেছি ইত্যাদি)। এমন যদি হয় আপনি চলতি ভাষাতে স্বচ্ছলভাবে, আত্মবিশ্বাসের সাথে শ্রোতার মনের গভীরে প্রবেশ করতে পারছেন তবে চলতি ভাষাতেই আপনার বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিৎ, আর এটাই উত্তম। কিন্তু শব্দ পরিবর্তন করে চলতি ভাষার স্থানে প্রমিত শব্দে প্রমিত ভাষা বলতে চেষ্টা করলে তা হবে অতি শ্রুতিকটু, টোন হবে অস্বাভাবিক এবং বিরক্তিকর। এতে স্বতঃস্ফূর্ততা বিনষ্ট হয়।

পড়াশোনা, চর্চা এবং প্রশিক্ষণ না থাকলে হটাৎ করে মঞ্চে প্রমিত ভাষায় কথা বলতে যাওয়াটা বোকামি। তবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমাবেশে বা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আপনাকে অবশ্যই প্রমিত বাংলা ভাষায় কথা বলতে হবে ।

দুই ভাষা (চলতি ও প্রমিত) একসাথে মিশিয়ে ফেললে বিষয়টি আরও শ্রুতিকটু এবং বিরক্তিকর হবে। প্রমিত ভাষার শব্দ, বাক্যে শব্দের ব্যবহার, উচ্চারণ, টান বা টোন প্রভৃৃতি বিষয়গুলো ভালো করে বুঝতে গেলে অবশ্যই বাংলা সাহিত্য , প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস (রবীন্দ্রনাথ, তারাশঙ্কর, শরৎচন্দ্র, নজরুল, হুমায়ুন, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখ) পড়তে হবে; সাথে বাংলা নাটক, কবিতা চর্চা করতে হবে। প্রয়োজনে বাংলা ভাষার উচ্চারণ, প্রমিত ভাষা চর্চা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেয়া প্রয়োজন। সফল বক্তা বা উপস্থাপক হতে সাধনার কোন বিকল্প নেই।

 ড. আলমাসুর রহমান. বাংলাদেশের প্রখ্যাত মটিভেশনাল স্পিকার, লেখক ও গবেষক।

পছন্দের আরো পোস্ট