মেধাস্বত্ব দিবসে ভিআইপি বুট ক্যাম্প

আর্ন্তজাতিক মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আইপি ফোরাম (বিআইপিএফ) এর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হলো ভলেনটিয়ার ফর আইপি প্রোগ্রাম। ভিআইপি, আই পি ক্যাম্প বাংলাদেশ আই পি ফোরামের ইয়ুথ সেগমেন্ট যার মাধ্যমে আইপি ফোরাম প্রতি বছর এপ্রিল মাসের এই দিনে ৩০০ জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ উদ্যোক্তাকে মেধাসত্ব সম্পর্কে সম্মুখ প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৩০০ জনকে আইপি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্বউদ্যোগী হয়ে কাজ করার লক্ষ্যে উৎসাহিত করা এই ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস এর রাষ্ট্রদূত লিওনি কিউলিনেয়া।

উদ্ধোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করনের মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারন মানুষের জীবন যাপনের মানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে উদ্ভাবন মানসিকতার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন নতুন আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং চাকরির বাজার সৃষ্টি করে। টেকসই উন্নয়নে মেধা সম্পদ রক্ষার ওপরও জোড় দেন তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস এর সর্ম্পক আরো দৃঢ় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।এ ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করন সংক্রান্ত একটি যুগোপযগী আইনী ব্যবস্থা বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরো বিস্তর ও শক্তিশালী করবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়োজন নতুন নতুন উদ্ধাবন। একই সঙ্গে নতুন নতুন এ উদ্ধাবনের মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারনে বিআইপিএফ এর সচেতনামূলক এ জাতীয় আয়োজন একটি ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

Boot Campএ সময় প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি  মুস্তাফা জাব্বার বলেন, “ দেশে সরকারি হিসেবে বর্তমানে ২৬ লাখ বেকার রয়েছে। এদের কাজে লাগাতে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে এদের মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সচেতন করা গেলে, উদ্ধাবনী ক্ষেত্রে এরা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

আমাদের সন্তানেরা মেধাবী। কিন্তু, সেই মেধা যদি অপর কেউ চুরি করে নিয়ে যায় তাহলে বিপত্তি।তাই নিজের মেধা রক্ষা করতে হবে ওঅপরের মেধার প্রতি সম্মান দেখানোর প্রবণতা তৈরী করতে হবে।আর এ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সচেতন করতে এ জাতীয় দিনব্যাপী কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ আইপি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার এবিএম হামিদুল মিজবাহ্‌ বলেন, “দেশে মেধাস্তত্ব নিশ্চিত করার সংস্কৃতি তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে  যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ আইপি ফোরাম। আর এই পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসকে কেন্দ্র করে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের মেধাস্বত্ব সম্পর্কে সম্মুখ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত বিষয়ে আরো সম্মুখ ধারোনা পেয়ে থাকেন প্রশিক্ষণার্থীরা। একই সঙ্গে তারা অন্যান্যদের কেউ এ বিষয়ে সচেতন করতে পারবে বলেও বলেন তিনি।  “

দিনব্যাপী আয়োজিত এই ক্যাম্পে কপিরাইট ও মেধাস্বত্বের নানা দিক নিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুর রহমান, বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিষ্ট্রার মো. জাফোর  আর চৌধুরী, কাজী ফুড্‌স ইন্ডাস্ট্রীজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী তানভির হায়দার চৌধুরী, বোল্ড এর প্রেসিডেন্ট কাজী এম আহমেদ, উন্মাদ এর সম্পাদক আহসান হাবীব প্রমুখ। দিনব্যাপী আয়োজিত এ বুট ক্যাম্পের শেষ অংশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন সরকারের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশর (এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক কবির বীন আনোয়ার।

বিআইপিএফ এর অনুপ্রেরণায় গঠিত ভলেন্টিয়ার ফর আইপি (ভিআইপি) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিক এই ক্যাম্পে সহযোগী হিসেবে ছিল বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস, ডির্পাটমেন্ট অব প্যাটেন্ট ডিজাইন এন্ড ট্রেডমার্কস ও বেসিস। এছাড়া আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল বেলিসিমো, কাজী ফার্মস কিচেন, আইপি প্লাস, মোর দ্যান ওয়ার্ডস।

পছন্দের আরো পোস্ট