বেরোবি উপাচার্যের দূর্নীতির খতিয়ান পেশ

নিয়োগের পর হতে এখন পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী’র দূর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সেচ্ছাচারিতার খতিয়ান পেশ করেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি যুদ্ধের চেতনা লালনকারী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।সোমবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২ টায় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ খতিয়ান তুলে ধরেন।

সংগঠনটির সদস্য সচিব রাফিউল আজম খান (নিশাত) সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উপাচার্য আইন লংঘন করে একাই ১৭ পদে ও পছন্দের প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার জন্যই একাই নয়টি বিভাগের প্লানিং কমিটির সদস্য হয়েছেন। নিয়োগ পাওয়ার চার মাসের মাথায় ট্রেজারার পদে যোগ্য লোক খোজার অযু হাতে নিজেই এখনও সেই পদ আকড়ে আছেন। পরিচালকের ছয়টি পদ, ৩টি অনুষদের ডিন, ৩টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব পরিচালকের শূন্য পদে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে নিজের কবজায় রেখেছেন।
তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন বিভাগে চরম শিক্ষক সংকট থাকলেও ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল ইউজিসি অনুমোদিত ২১টি পদে এক বছরেও শিক্ষক নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেননি উপাচার্য। মেয়াদ শেষের মাত্র দুই মাস আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে করে তড়িঘড়ি করে নিয়োগের চেষ্টা করছেন, প্রার্থীদের শুধুমাত্র এসএমএসের মাধ্যমে ডেকে সাক্ষাতকার নিচ্ছেন।

এমনকি নজির বহির্ভূতভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে নেয়া হচ্ছে। অথচ ঢাকায় আমাদের গেস্ট হাউজ রয়েছে। তিনি সেখানে বোর্ড করতে পারতেন। এতে বাণিজ্যিকভাবে লাভবানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে মি: খান আরো বলেন,স্থাপনা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর পর জুন, ২০১৪ এ শেষ হয়। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বরং প্রথম পর্যায়ে স্থাপিত স্থাপনা এখনো চালু না করে ফেলে রাখা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পার হলেও ক্যাফেটেরিয়া ও ডরমেটরি ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এছাড়াও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর স্বতন্ত্র ভবন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নির্মানাধিন হলের টেন্ডারে বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগের তিন বছর চার মাসের মাথায় ৫১৪ দিন বিশ্ববিদ্যালযে অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ঢাকায় গিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইলপত্র বস্তায করে তিনি গাড়িতে নিয়ে যান। এছাড়াও তিনি অ্যাপায়ন বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যদিও আমাদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে তিনি কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন।

উপাচার্যের বিলাসিতার কথা তুলে ধরে আজম খান বলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাদুর ঝোলা হয়ে যাতায়াত করে। তীব্র পরিবহন সংকটে শিক্ষার্থীরা ভোগে। সেখানে উপাচার্য তিনটি গাড়ি ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে একটি গাড়ি ঢাকা অবস্থিত তার পরিবার ব্যববহার করেন।

তিনি আরো বলেন, আইন লংঘন করে রেজিস্ট্রারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তার অযুহাতে তিনি শিক্ষকদেও পদোন্নতি আটকিয়ে রেখে হয়রানি করেছেন। যদিও এসব মামলার বেশ কয়েকটিতে কোন তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তার নিস্পত্তি করা হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকের বাসায় ভর্তি পরীক্ষার ওয়েমার শীট পাওয়া গেল। অথচ সেই শিক্ষক উপাচার্যেও আস্তাভাজন হওয়ায় তাকে কোন শাস্তি দেয়া হলো না। যদিও জালিয়াতির দায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্যের দূর্নীতি তদন্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশন। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও তার কোন ফলাফল দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আচার্য এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ মে বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তিনি জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে বরাবরই প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এ উপাচার্যের বিভিন্ন সময়ে করা দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। তবে মেয়াদ বাড়ানো হলে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।

পছন্দের আরো পোস্ট