বহিরাগত যানবাহনে নিরাপত্তাহীন জাককানইবি ক্যাম্পাস

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ গুলোতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বহিরাগত মোটর-বাইক হাওয়ার বেগে ছুটছে উদ্দেশ্যহীন। স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক গতি নিয়ে চলার পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় শব্দ সৃষ্টি করছেন মোটরসাইকেলে। নিরাপত্ত্বাকর্মীদের দায়িত্ব অবহেলায় অবাধে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের বহিরাগত মোটরবাইক, অটোরিক্সা সহ অন্যান্য যানবাহন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় দিনই ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে অবাধে যাতায়াত করছে বহুসংখ্যক বহিরাগত যানবাহন এবং দ্রুতগতির মোটর বাইক। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষর অবহেলাকেই।

ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে ‘বহিরাগত যানবাহন প্রবেশ নিষেধ’ এবং ‘আপনার পরিচয় দিন’ লেখা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। হরহামেশাই ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে যাতায়াত করছে মোটরবাইক-অটোরিক্সাসহ নানা যানবাহন। এতে করে নানা সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়ছে দুর্ঘটনায়।

সরোজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি প্রবেশপথ প্রায় সময় খোলা থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ রয়েছে তিনটি। এগুলোর কোনোটিরই নিরাপত্তাকর্মী বেশির ভাগ সময় অবস্থান গেইটে অবস্থান করেন। প্রবেশ পথে নিরাপত্ত্বাকর্মীরা থাকার পরও তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এবং বহিরাগত মোটরবাইক-অটোরিক্সার প্রতি তাদের কোন দৃষ্টি না থাকার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা মেরামতের সুবাধে ক্যাম্পাসের ভিতরের রাস্তা ব্যবহার করছে বহিরাগতরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ।

এছাড়া ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে রাস্তা দিয়ে ভারী যান যেমন; বালুর ট্রাক চলাচল করে । সম্পুর্ন রাস্তা মেরামত না করে এভাবেই চলে উন্নয়ন কাজ। অল্প বৃষ্টিতেই পানি, কাঁদা জমে থাকে। ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায় না। একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবাসিক হলগুলোতে চলাচলের মত নেই কোন রাস্তা।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অমিত বসাক শুভ বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ দিয়ে যাতায়াত করলে নিজের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকতে হয়’।
ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বহিরাগত মোটরবাইক, অটোরিক্সা, অটোসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচলকে এর কারণ হিসেবে জানান তিনি।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিনিয়তই ক্যাম্পাসে দ্রুতগতির যানবাহন চলতে দেখা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বেপরোয়া গতির মোটরবাইকের যন্ত্রণায়ও অতিষ্ঠ অনেকে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং এভাবে চলতে থাকলে ক্রমাগত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে শিক্ষার্থীদের।

এদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইমন জানায়, পরিচয়পত্র না দেখিয়েই শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতদের যেতে দেয়া হচ্ছে হরহামেশাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, “কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা যে কোনো মুহূর্তে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। তাছাড়া সামনে সমাবর্তনকে সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্ত্বায় থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।’’

ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ গুলোর নিরাপত্তা এবং বহিরাগত যানবাহন চলাচলের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ জাহিদুল কবীর বলেন, ‘‘ক্যাম্পাস দিয়ে বহিরাগত যান চলাচলে যেমন সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি শিক্ষকগণও। এ বিষয়ে নিরাপত্ত্বা গার্ড এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আরো জোড়াল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পছন্দের আরো পোস্ট