আনন্দ-উচ্ছ্বাস কলেজে কলেজে

HSC-Resultএইচএসসির ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সব কলেজের শিক্ষার্থীরাই বৃহস্পতিবার আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তারা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও। আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে কলেজের আঙিনা।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ : দুপুর ঠিক ২টায় ফল হাতে নিয়ে স্টেজে হাজির হন অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকরা। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভালো ফল করে এ উল্লাসের মধ্যে জীবনে কাক্সিক্ষত উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অন্য এক স্বপ্ন দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিক্ষার্থী রাফিউর রাব্বি বলেন, শিক্ষক আর অভিভাবকদের পরিশ্রম ও আল্লাহর কৃপায় আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।

এবার ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ফলের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ফল ঘোষণার সময় অধ্যক্ষ ব্রি. জেনারেল মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, ৭ বছরের মধ্যে এবার আমাদের কলেজ ভালো ফল করেছে। এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৬২৬ জনের মধ্যে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১২১ জনের মধ্যে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭ জন। অন্যদিকে মানবিক শাখা থেকে ১২১ জনের মধ্যে শতকরা ৯৯ দশমিক ১৭ ভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন আটজন।

ফল ভালো হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, প্রথমত আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মতবিনিময় সভা করি। দ্বিতীয়ত, আমরা কলেজে চেক বেক সিস্টেম চালু রেখেছি। এর মাধমে আমরা সকাল ও বিকাল দুই বেলা শিক্ষার্থীদের হাজিরা নেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা কলেজ ফাঁকি দিতে পারেন না। তৃতীয়ত, প্রথম বছর থেকে আমরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাছাই করে তাদের নিয়মিত ২ ঘণ্টা করে আলাদা ক্লাস নিই। সর্বোপরি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এত ভালো ফল করা সম্ভব হয়েছে।

নটর ডেম কলেজ : রাজধানীর নটর ডেম কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে অধ্যাক্ষ ড. জে আর হেমন্ত পিয়াস রোজারিও বলেন, মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৬৩৯ জন। পাস করেছেন ২ হাজার ৫৭৪ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ জন। ৬৫ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এদিকে ফল ঘোষণার পরপরই কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ছাত্ররা হই-হুল্লোড় করতে করতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। দল বেঁধে নেচে-গেয়ে মুখর করে তোলেন কলেজ ক্যাম্পাস।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ : এবারও রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ আগের বছরগুলোর মতো ফলে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে। কাক্সিক্ষত ফল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলেছেন। এবার এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দেন মোট ১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ এর শতকরা হার ৯২ দশমিক ৪৭, ব্যবসায়ী শাখা থেকে ৪২ দশমিক ৬৭ এবং মানবিক শাখা থেকে ৩৮ দশমিক ১৪ ভাগ। এবারও আগের ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ ব্রি. জেনারেল এম এম সালেহিন বলেন, আমাদের এ কলেজে তুলনামূলক ভালো শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে থাকেন। তাছাড়া আমরা নিয়মিত যে মডেল টেস্ট ও ক্লাস টেস্ট নিই সেগুলো তুলনামূলক অনেক কঠিন প্রশ্নের মাধ্যমে নেয়া হয়। ফলে এতে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ : ফলের তালিকা টাঙানোর পরপরই শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। ফল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এবার ভিকারুননিসা কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অধ্যক্ষ মোছাঃ সুফিয়া খাতুন জানান, এবার মোট ১ হাজার ৫৬৮ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৫৫৯ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৪০ জন। অধ্যক্ষ আরও বলেন, এ কলেজের ফল আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ বেশি এসেছে।

মাইলস্টোন কলেজ : এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগের ১ হাজার ৬২৬ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮১৫ জন। এদের মধ্যে পাসের হার ছিল শতকরা ৮৯ ভাগ। মানবিক শাখা থেকে মোট পরীক্ষা দেন ১০৭ জন। এদের মধ্যে পাসের হার ছিল শতকরা ৯৯ দশমিক ৪৭ ভাগ। পরীক্ষার ভালো ফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে পারসোনালি যোগাযোগ করি। কেউ কলেজে না এলে তার বাসায় শিক্ষক পাঠাই। সর্বোপরি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এ ফল করা সম্ভব হয়েছে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ : ফল পাওয়ার পরই আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। নেচে-গেয়ে মনের আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন তারা। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও আনন্দ-উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ফলের সম্পর্কে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল ক?রে?ছেন। তাদের সাফল্যে আমা?রা সন্তুষ্ট। এ ক?লে?জে ?এবার ১ হাজার ৪৩৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ক?রেন। এর ম?ধ্যে পাস ক?রে?ছেন ১ হাজার ৪১৮ শিক্ষার্থী। ফেল ক?রে?ছেন ১৬ জন।

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ : এবার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দেন ১ হাজার ১২০ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পান ৩৩৫ জন। ব্যবসা শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন। প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের কোনো প্রাইভেট পড়তে হয় না। তাছাড়া আমরা এখানে এসএসপি (সুপারভাইজার স্টাডি প্রোগ্রাম) চালু রেখেছি। এর মাধ্যমে দুর্বল শিক্ষার্থীরা ক্লাসের মধ্যেই পড়া শেষ করে যেতে পারেন।#

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট