বন্ধ কুবিতে চলছে সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম

KUMILLAক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের বন্ধেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চলছে সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম। আর এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বয়ং দুইটি কোর্সের ক্লাস নিচ্ছেন। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত পহেলা আগস্টে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাইফুল্লাহ খালিদ নামে ছাত্রলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যার ফলে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে পাচঁ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু এই অবস্থায়ও চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চারটি বিভাগের সান্ধ্যকালীন (ইএমবিএ- ইভিনিং মাস্টার্স অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন) প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্যও চলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ভাড়া করা বিআরটিসি’র কয়েকটি বাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা যেখানে আজ ১৫ দিন (১-১৫ আগস্ট) ধরে ক্লাস-পরীক্ষা থেকে দূরে সেখানে সান্ধ্যকালীন এই প্রোগ্রাম চলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর যোগাযোগ করলে প্রত্যেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের স্নাতকোত্তর বর্ষের ছাত্র সাইদুর রহমান টিটু বলেন, ‘ প্রাইভেট এই প্রোগ্রাম যথাযথ চললেও আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী তাদেরকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কোন অগ্রগতিই দেখছিনা। আমরা দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামকে নিয়মিত হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। প্রাইভেট হিসেবে নিয়েই কর্র্তৃপক্ষ চালু রেখেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহার করে এই প্রাইভেট প্রোগ্রাম চালু বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আলী আশরাফ বলেন, ‘ সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরা মারামারি করে না। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে বিবেচনা করব।’

উল্লেখ্য যে, উপাচার্য নিজেই এই প্রোগ্রামের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে দুইটি কোর্সের ক্লাস নিচ্ছেন। এবং তিনি এই প্রোগ্রামের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

ইএমবিএ প্রোগ্রামের প্রধান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. আহসান উল্যাহ এ বিষয়ে বলেন,‘কিছুটা প্রশাসনিক কার্যক্রমের আওতায় পড়লেও এটা প্রাইভেট প্রোগ্রাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।’

পছন্দের আরো পোস্ট