জাবি বিজ্ঞান ক্লাব: প্রতিষ্ঠার ১১ বছর

মানব সভ্যতাকে উন্নতির সর্বোচ্চ শেখরে পৌছে দিতে যা সবচেয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে তা হলো বিজ্ঞান। পৃথিবীর সব নামকরা বিজ্ঞানী ও গবেষকরা তাদের নিত্য নতুন আবিষ্কার ও গবেষনার মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে একটি রুচিশীল মানদন্ডে উপনীত করেছেন। অর্থাৎ যে জাতি তাদেরকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত করতে পেরেছে তারা পেয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের আসন। সেই বিজ্ঞানকে পুঁজি করে বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাজ বিনির্মান করতে এখন থেকে ১১ বছর আগে কাজ শুরু করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ক্লাব।

বর্তমানে স্কুল, কলেজ সহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনষ্ক করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ক্লাবটি। খোলা আকাশের নীচ থেকে যাত্রা শুরু করা সেই ক্লাবটি আজ অনেকটাই ঘুরে দাড়াতে সক্ষম হয়েছে। যার ধারাবাহিক বিজ্ঞান ভিত্তিক কার্যক্রম গুলো বাড়িয়েছে নামডাক। ক্লাবটির সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে অন্যতম একটি সক্রিয় সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞান মনষ্ক করে গড়ে তোলার জন্য গৃহীত কার্যক্রমগুলো শুধু ক্যাম্পাসে নয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। যার জন্য সংগঠনটিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় গত বছর নগদ এক লক্ষ টাকার অনুদান প্রদান করেছে। ক্লাবটি কর্তৃক আয়োজিত সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হলো বার্ষিক গণিত অলিম্পিয়াড।

২০১৪ সাল থেকে শুরু করে প্রতিবছর ক্লাবটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগীতায় সাভার অঞ্চলের প্রান্তিক স্কুল-কলেজ গুলোর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আয়োজন করে আসছে গণিত বিষয়ক এ প্রতিযোগীতা। গত বছর অনুষ্ঠিত গণিত অলিম্পিয়াড এ সাভারের ৩৫টি স্কুলের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেছিল।

উক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উঠে আসা নবীন গণিতবিদদেরকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থাও করেছে এ সংগঠনটি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে মুক্ত বিজ্ঞান আলোচনা নামে আরও একটি অনুষ্ঠান হাতে নিয়েছে ক্লাবটি। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্বের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আবিস্কার, গবেষনা ও সেই দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কি করনীয় সেসম্পর্কে আলোচনা করা হয়। প্রতি দুই মাস অন্তর এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে থাকে ক্লাবটি। যার মাধ্যমে সাম্প্রতি বিশ্বে নতুন আবিষ্কৃত গবেষনা কর্মকান্ড উক্ত ক্লাবের অধীনস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌছে যাচ্ছে। এ

র পাশাপাশি প্রতিবছর প্রথম বর্ষের শিক্ষাথীদের জন্য মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করে থাকে ক্লাবটি। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের তত্বাবধানে বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রছাত্রীদেরকে কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, উচ্চ শিক্ষার জন্য ক্যারিয়ার গাইড লাইন সহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারনা দেওয়া হয়। নিউক্লিয়াস নামে একটি বাৎসরিক প্রকাশনাও রয়েছে ক্লাবটিতে । যাতে ক্লাবের সদস্য সহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভাবনা সহ আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও গবেষনা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া সদস্যদের নিয়ে বিজ্ঞান ভ্রমন, বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ, বিজ্ঞান মেলার আয়োজন, বিজ্ঞান বিষয়ক বিতর্ক, বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন, বিভিন্ন দিবস পালন সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে থাকে এই ক্লাবটি।

ক্লাবটির উপদেষ্টা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এ এ মামুন এ সংগঠন সম্পর্কে বলেন, সারা বিশ্ব যখন বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে তখন আমাদের দেশে আমরা লক্ষ করছি একটা পর্যায়ে এসে এদেশে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে জাবি সায়েন্স ক্লাব স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক করার জন্য যে কাজ করে যাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ক্লাবটির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আমরা আজ অবধি বিজ্ঞান ভিত্তিক নতুন নতুন অনুষ্ঠান উদ্ভাবন ও সেটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে চলেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অসাধারন সাফল্য পেয়েছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত সহযোগীতা পেলে আমরা আরও ভাল কাজ করতে পারব।##

পছন্দের আরো পোস্ট