২৬ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক বিসিএস শিক্ষকদের

bcs shikha samitiপদোন্নতিসহ পাঁচ দফা দাবি আদায় না হলে ২৬ জানুয়ারি থেকে তিনদিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবস্থানসহ পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

সেই সঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি না মানলে ফের ৬ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও দাবি মানা না হলে ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষাসহ ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। তবু দাবি মানা না হলে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি।

 

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক নাসরীন বেগম ও সদস্যসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত অষ্টম বেতন স্কেলে অধ্যাপকদের পদমর্যাদা ও বেতনক্রম অবনমনের প্রতিবাদে এবং পদ আপগ্রেডেশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল, বৈষম্য নিরসনে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি ২২ জানুয়ারি শুক্রবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে জরুরি সাধারণ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক নাসরীন বেগম। সমিতির সদস্যসচিব সূচনা বক্তব্যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, চলমান আন্দোলন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও এর গতিপ্রকৃতি বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বেতন বৈষম্য নিরসনে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও অধ্যাপক পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীতকরণ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালেরও কোনো পদক্ষেপ নেই।

 

সভায় সমিতির অন্য নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন আবদুল হান্নান খন্দকার, কালাচাঁদ শীল, শফিকুল ইসলাম, ফারখ এ আজম, শাহ আলমগীর, অধ্যাপক মো. নেছাওয়ার মিয়া, মাসুদা বেগম, আবুয়াল কায়ছার, শাহেদুল খবির চৌধুরী, অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান, মো. ইদ্রিস আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী।

 

সাধারণ সভায় সারা দেশের শিক্ষা ক্যাডারের মতামতের ভিত্তিতে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

 

শিক্ষা সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের অনুমোদিত ১৯৮৩ সালের এনাম কমিটি ও ১৯৮৭ সালের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদ সৃষ্টি না করায় অনার্স-মাস্টার্সে পাঠদানকারী সরকারি কলেজগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতির সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি, সব যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেড পরিবর্তনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

সমিতির প্রস্তাবিত দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এর আগেও বহুবার দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয়।

 

দাবি আদায়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমিতি আজ ঢাকা কলেজসংলগ্ন নায়েম মিলনায়তনে জরুরি সাধারণ সভা করে।

 

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ৫ দফা দাবি হলো:

১. প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য ক্যাডারের মতো পঞ্চম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকেরা পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক পদে তৃতীয় গ্রেডে বেতন পাবেন এবং ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর হবে, এর সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি।

২. ক) সমিতির প্রস্তাবিত নায়েমের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান, জেলা সদরের অনার্স/মাস্টার্স কলেজের অধ্যক্ষের পদ ১ নম্বর গ্রেডে উন্নীতকরণ।

খ. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, নায়েম, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের পদসমূহ, অনার্স/মাস্টার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ পদ, শিক্ষা বোর্ডসমূহের সচিব এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য পদসমূহ ২ নম্বর গ্রেডে উন্নীতকরণ।

গ) ১৯৮৭ সালের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অনার্স/মাস্টার্সের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগে দুজন করে অধ্যাপকের পদ সৃষ্টির কথা বলা আছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি অনার্স/মাস্টার্স বিভাগে দ্বিতীয় গ্রেডের একজন সিনিয়র অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করতে হবে।

ঘ) স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষার মতো শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগী অধ্যাপকদের বেতন স্কেল চতুর্থ গ্রেডে উন্নীতকরণ।

৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ফাইলবন্দি ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির প্রস্তাব অনুমোদন করতে হবে। চূড়ান্ত প্রাপ্য পদের বিপরীতে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে এবং ১৯৮৭ সালের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত) অনুযায়ী প্রতিটি অনার্স মাস্টার্স বিভাগে দুজন অধ্যাপকের একজনকে দ্বিতীয় গ্রেডের সিনিয়র অধ্যাপকের পদমর্যাদায় উন্নীত করতে হবে।

৪. বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রাখতে হবে।

৫. প্রজাতন্ত্রের অন্য ক্যাডারের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

পছন্দের আরো পোস্ট