মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তন দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

DUঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পের রুট পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই আন্দোলন কর্মসূচীর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামীকাল (০৭ জানুয়ারি), বৃহঃস্পতিবার সকাল ১১ টায় টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হবে।

 

প্রস্তাবিত মেট্রোরেলের পরিকল্পনায় এর রুটের একটি অংশ শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দোয়েল চত্বরে একটি স্টপেজ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা মোতাবেক এখানে একটি সুপরিসর স্টেশন নির্মিত হবে। স্টেশনের প্রস্থটি বেশ বড়সড়। সাড়ে তিন মিনিট পর পর ট্রেন থামবে এই স্টপেজে। কাজেই সারাদিন ভিড় লেগেই থাকবে।

 

এই স্টপেজ শুধু যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ব্যবহার তা নয়, ঢাকা মেডিকেল, বংশাল, চক বাজার, বাবু বাজারসহ একটি বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দা এবং যাত্রীরা এই স্টপেজ ব্যবহার করবেন। ট্রেন থামবে, তারপর নিশ্চয়ই তারা হেঁটে গন্তব্যে যাবেন না, রিকশা, সিএনজি বা টেম্পু ব্যবহার করবেন। এই স্টপেজ ঘিরে ছোট যানবাহনের একটি বড় জটলা তৈরি হবে।

 

একটা স্টপেজ মানেই কিছু খাবার দোকান, নিশ্চিতভাবেই বলা যায় স্টপেজ ঘিরে অস্থায়ী দোকানের একটা পসরা গড়ে উঠবে। এবং আমরা অভিজ্ঞতা থেকে জানি, সেই পসরা উচ্ছেদ করা কতটুকু সম্ভব।

 

মেট্রোরেলের পিলারগুলো রাস্তার মাঝ দিয়ে যাবে ফলে নিচের রাস্তাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে। তার উপর বাড়তি যানবাহনের চাপে পুরো এলাকায় যে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হবে তা বলা বাহুল্য। ধরা যাক, নিচের রাস্তা প্রসারিত করার ব্যবস্থা নেয়া হলো, তাতে কী হবে? ভাঙতে হবে টিএসসি, কার্জন হল, বাংলা একাডেমি, মুঘল আমলের নিদর্শন, পরমাণু শক্তি কমিশন, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট, তিন নেতার মাজার ইত্যাদি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা বিপর্যস্ত হবে। অরক্ষিত হয়ে পড়বে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় একশ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা ট্রেনের শব্দের কারণে মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের কবলে পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়। সুস্পষ্টভাবেই শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। বিপুল পরিমাণ গাছ কাটা পড়বে, ক্যাম্পাস হারাবে তার স্বাভাবিক সবুজ সৌন্দর্য। বস্তুত ক্যাম্পাসের একটি বড় অংশজুড়ে ঝুলন্ত ছাদ থাকবে, ঐতিহাসিক রাজু ভাষ্কর্য হারাবে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

 

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, মেট্রোরেল আমরাও চাই, তবে আমাদের শিক্ষাঙ্গনের বুক চিরে নয়। যেহেতু শাহবাগে একটি স্টপেজ রাখা হয়েছে তাই দোয়েল চত্বরে স্টপেজের কোনো প্রয়োজন নেই । আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, মেট্রোরেলটির রুট পরিবর্তন করে বিকল্প পথে নিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত যাদুঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষার পাশাপাশি এর শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।

 

আগামীকালের মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষার এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সচেতন দেশবাসীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।

 

লেখাপড়া২৪.কম/ঢাবি/পিআর/এমএএ-০৫৭৩

পছন্দের আরো পোস্ট