শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন

_MG_9564উৎসবমুখর পরিবেশে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম সমাবর্তন আজ (১৬ নভেম্বর) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিতত্ত্ব খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিভিন্ন বিভাগ, হল, প্রশাসনিক ভবন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। কালো গাউন পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। দিনভর ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈ চৈ ও কোলাহলে মেতে থাকে সবাই।

 

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ন্যাশনাল অ্যামিরেটাস সায়েনটিস্ট কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাদাত উল্লা। এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন  উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। এসময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: হযরত আলীসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা, গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনাকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি ‘ডক্টর অব দ্য ইউনিভার্সিটি’ ডিগ্রি প্রদান করা হয় । অনুষ্ঠানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম হওয়া ২২ জন স্বর্ণ-পদক এবং স্নাতক ২১১০ জন, স্নাতকোত্তরে ৫১২ জন এবং পিএইচডিতে ৩ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ মো. রেজাউল করিম সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ ২০৫০ সালকে সামনে রেখে দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তার আলোকে কৃষিকে এগিয়ে নেওয়া জন্য কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এক সময় দেশে কৃষি ব্যবস্থা সনাতনী প্রথা নির্ভর হলেও আজ তাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছোঁয়া লেগেছে। ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন। এজন্য তিনি কৃষক, কৃষি বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাই জানান। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারনে কৃষি উৎপাদন পূর্বের তুলনায় বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাদাত উল্লা বলেন, এদেশের ক্ষুধার্ত মানুষের অন্ন যোগাতে, কৃষিনির্ভর অথীনীতিকে সচল রাখতে এ প্রতিষ্ঠানের গ্রাজুয়েটগণই অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এদেশের মৌলিক ও প্রাথমিক কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন এ ইনস্টিটিউটের গ্রাজুয়েটগণই। উনবিংশ শতাব্দীর দুর্ভিক্ষ ও বিংশ শতাব্দীর খাদ্যাভাব নিরসনে এ প্রতিষ্ঠানের গ্রাজুয়েটগণ নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিয়ে কৃষিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনয়ন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টগণ এ ইনস্টিটিউটের কোন উন্নয়ন সাধন না করে দিনের পর দিন অবনমিত করার নানা প্রক্রিয়া চালু রাখে। এর উন্নয়নের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীগণ বিভিন্ন ভাবে প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইনস্টিটিউটের এলামনাইগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার আবেদন করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সনে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটকে রূপান্তর করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে তা লিখা থাকবে বলে তিনি জানান।

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, দেশে আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বৎসর ৩৮ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে, এটি একটি বিশ্বরেকর্ড। দেশে শিক্ষার হার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭ টি এবং বেসরকারী ৮৩ টি, যাতে প্রায় ত্রিশ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন ও গবেষণা করছে । এটিও এ যাবতকালের সর্বোচ্চ সংখ্যা, যে গুলোর অধিকাংশই স্থাপিত হয়েছে এ সরকারের আমলে। আমরা মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ হতে নানাভাবে এগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করছি। আমরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

সমাবর্তন বক্তা ন্যাশনাল অ্যামিরেটাস সায়েনটিস্ট কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা বলেন, কৃষি দিন দিন নানা রকম বৈরি পরিবেশের সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। দেশের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ আবাদি জমি কোন না কোন বৈরি পরিবেশের শিকার। ফলে আজ কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার ধরন ধারণেও পরিবর্তন আনা জরুরী হয়ে পড়েছে। আজ যারা গ্রাজুয়েট হিসেবে সনদ গ্রহণ করছেন, তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ কিন্তু অনেক। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাড়াতেও হবে আমাদের উৎপাদনও। সেটি যে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ বলাই বাহুল্য। অবশ্যই সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনারা প্রস্তুত এটি আমি বিশ্বাস করি।

 

লেখাপড়া২৪.কম/শেকৃবি/পিআর/স্বশা-৪৪৩২

পছন্দের আরো পোস্ট