রাবির বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বাণিজ্য’

রাবিরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বাণিজ্য অনুষদের (‘ডি’ ইউনিট) বিরুদ্ধে পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি ১৫জন ভর্তিচ্ছুর জন্য একজন পরিদর্শক রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানেনি অনুষদটি। এতে করে ওই অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা জালিয়াতর সুযোগ পেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা কমিটির সকল সদস্যের সিদ্ধান্ত মতে প্রতিটি কক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক রাখার নিয়ম করা হয়। যাতে করে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘেœ ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন এবং জালিয়াতির সুযোগ না থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি একজন পরিদর্শকের জন্য একটি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য এক হাজার টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা শেষে অনুষদের ডীনের মাধ্যমে সেই টাকা পরিদর্শকদের মাঝে বিরতণ করার কথা রয়েছে।

 

মঙ্গলবার বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাণিজ্য অনুষদের বিজোড় ও বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জোড় রোল নম্বরধারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বাণিজ্য অনুষদের বিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের ২০২ নম্বর কক্ষে ৫০ জন ভর্তিচ্ছুর বিপরীতে ৩ জন রাখার কথা থাকলেও পরিদর্শক ছিল ২ জন, মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষে ১১০ জন ভর্তিচ্ছুর বিপরীতে ৭জন পরিদর্শক থাকার নিয়ম থাকলেও সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন ৫জন, একইভাবে রবীন্দ্র কলাভবনের ১২০ নম্বর কক্ষে ৭৫ জন ভর্তিচ্ছুর বিপরীতে ৫জন পরিদর্শক রাখার কথা থাকলেও সেখানে ছিল ৪জন। সকাল ও বিকেলের ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রতিটি কক্ষেই এভাবে পরিদর্শক কম রাখা হয়। যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী হিসেব করে টাকা তুলে অনুষদে রাখা যায়।

 

এ বিষয়ে বাণিজ্য অনুষদের ডীন অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার আত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করায় উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে এবার পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে দূরে রয়েছি। তাই ভর্তি পরীক্ষার কোনো বিষয় সম্পর্কে আমি জানি না।’

 

বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অনেক শিক্ষক পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে। তাই হয়তো পরিদর্শক কোনো কোনো কক্ষে কম হয়েছে। তবুও আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।’ তবে টাকা অনুষদে রাখা বা শিক্ষার্থীদের জালিয়াতির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগগুলো সত্য নয় বলেও জানান তিনি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছেও অভিযোগটি এসেছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষে কমিটির বৈঠকে শিক্ষার্থী অনুপাতে পরিদর্শক রাখার বিষয়ে হিসেব নেওয়া হবে।

 

লেখাপড়া২৪.কম/রাবি/তমাল/স্বশা-৪৪০৭

পছন্দের আরো পোস্ট