পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করে ফেল করা শিক্ষার্থীরা পেয়েছে জিপিএ-৫

images (3)১৭ই মে প্রকাশিত এসএসসি’র ফলে রসায়নে ফেল করেছিল ১৩৬৩২১ রোলধারী শিক্ষার্থী। ওই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করে ওই শিক্ষার্থী। এখন সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। একইভাবে ১৩১৭৫৫ রোলধারী শিক্ষার্থী ধর্মীয় (বৌদ্ধ) বিভাগে ফেল করেছিল। পুনঃনিরীক্ষায় ওই শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৫৪৮৬৩৪ রোলধারী শিক্ষার্থীও কৃষি শিক্ষা বিষয়ে ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পুনঃনিরীক্ষায় শুধু ঢাকা বোর্ডেই নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৮ জন। সর্বমোট ফল পরিবর্তন হয়েছে ৫৯৪ জনের। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৬ জন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। রোববার পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ১৮ই মে থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। রাজশাহী বোর্ডে ফল উন্নতি হয়েছে ১২০ জনের। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন। ফেল থেকে পাস করেছে ২০ জন। গত ১৭ই মে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করে এবং জিপিএ-৫ পায়। ১৮ই মে থেকে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন জমা নেয়া হয়। সবচেয়ে আবেদন জমা পড়ে ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৫১ হাজার ৩৯টি আবেদন জমা পড়ে। বরিশাল বোর্ডে ৮ হাজার ৫১৬টি আবেদন জমা পড়ে। চট্টগ্রাম বোর্ডে ১১ হাজার ৯২৭টি আবেদন জমা পড়ে। কুমিল্লা বোর্ডে ১৪ হাজার ১৩৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। দিনাজপুর বোর্ডে ১০ হাজার ১৭৩টি আবেদন জমা পড়ে। যশোর বোর্ডে জমা পড়ে ২০ হাজার ৭২টি আবেদন। মাদরাসা বোর্ডে ১৭ হাজার ৮৩৮টি আবেদন করা হয়। রাজশাহী বোর্ডে ১৪ হাজার ৭৮০টি আবেদন করা হয়। সিলেট বোর্ডে ৭ হাজার ১৩২টি, কারিগরি বোর্ডে ১১ হাজার ৫৫১টি আবেদন করা হয়। এবার ৮টি সাধারণ বোর্ডসহ ১০টি বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৩৩১ জন। পাসের হার ৯১.৩৪ ভাগ। যা গতবছরের চেয়ে ২.৩১ ভাগ বেশি। গতবছর পাসের হার ছিল ৮৯.০৩ ভাগ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮ই মে ১৭ হাজার ২৯৪ জন, ১৯শে মে ২১ হাজার ১৮৫ জন, ২০ শে মে ১৮ হাজার ২৭১ জন, ২১শে মে ১৩ হাজার ৬০৭ জন, ২২ শে মে ১১ হাজার ৭৮৭ জন, ২৩ শে মে ৬ হাজার ৩২৮ জন এবং ২৪ শে মে ১০ হাজার ২৫৯ জন শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করে। বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুনঃনিরীক্ষায় সাধারণত বৃত্ত ভরাটে ভুল হয়েছে কিনা, উপরে যে নম্বর দেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে কিনা এবং উত্তরপত্রে লেখা আছে কিন্তু নম্বর দেয়া হয়নি- এ তিনটি বিষয় দেখা হয়। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, অনেক পরীক্ষক নিজেরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে আত্মীয়-স্বজন, স্ত্রী এমনকি প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করান। এসব ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভুল হয়ে থাকে। পরীক্ষক হয়েও দিনের বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন কোচিং বা ব্যবসা-বাণিজ্যে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বলেন, পুনঃনিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হয়েছে শুধু তাদের নামের তালিকা দেয়া হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেও যাদের ফল পরিবর্তন হয়নি তাদের বিষয়টি মোবাইলে এসএমএস’র মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

পছন্দের আরো পোস্ট