ফুলছড়িতে আনন্দ স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় আনন্দ স্কুল স্থাপন ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Primari-education

জুন মাসের শেষ ভাগে তড়িঘড়ি করে ৫০ জন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। ফুলছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝরে পড়া অবহেলিত হতদরিদ্র শিশুদের স্কুলমুখী করতে ২০১০ সালে ফুলছড়ির সাত ইউনিয়নে রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের আওতায় ২৮১টি আনন্দ স্কুল চালু করা হয়।

 

শুরুতে স্কুলগুলো ভালোভাবে চললেও পরবর্তীকালে ছাত্রছাত্রীর অভাবে স্কুল সংখ্যা ৯৬টিতে নেমে আসে। কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট ১৮৫টি স্কুলের কোনো কার্যক্রম না থাকায় সেগুলো বন্ধ করে দেয়।

 

উপজেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী তেমন একটা না থাকলেও একটি বিশেষ মহল তদ্বিরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরাধীন রস্ক ফেইজ-২ প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরে আবার ৫০টি স্কুলের অনুমোদন নেয়।

 

স্কুল স্থাপনের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা ও রস্কের ট্রেনিং সমন্বয়কারী শাহ আলমকে সাতটি ইউনিয়নে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

 

কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও ট্রেনিং সমন্বয়কারী মাঠপর্যায়ে না গিয়ে পূর্বের আনন্দ স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিদ্যালয় পড়ূয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে জরিপ কার্যক্রম চালায়।

 

এ ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ছাত্র-ছাত্রী দেখিয়ে ১৫১টি স্কুলের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

 

এরপর কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপজেলা শিক্ষা কমিটি ওই তালিকাটি অনুমোদন করে।

 

১৯ জুন অনুমোদিত তালিকা থেকে ৫০টি আনন্দ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইউএনও স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

 

ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ২৬ জুন দুপুরে নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়। এমনকি এ ক্ষেত্রে পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা কোনো প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়নি।

 

সকালে নোটিশ এবং বিকালেই দরখাস্ত জমাদানের শেষ সময় দেয়া হয়েছিল। স্বল্প সময়ের নোটিশের সুযোগে পূর্ব নির্ধারিত বিশেষ ৫০ প্রার্থীসহ তাদের সাপোর্টিং হিসেবে আরও ৪০ জন প্রার্থীর আবেদন জমা নেয়া হয়।

 

আনন্দ স্কুলের শিক্ষক হতে আগ্রহী প্রার্থীরা জানান, একটি মহলের কাছে আগেভাগেই ওইসব দরখাস্ত জমা রাখা হয়েছিল।

 

পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ২৯ জুনের মৌখিক পরীক্ষায় সব প্রার্থীকে ডাকা হয়।

 

নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ওই প্রার্থীদের মধ্যে থেকে ৫০ জনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য তালিকা তৈরি করা হয়। সূত্র জানায়, ওই বিশেষ মহল আনন্দ স্কুলের ৫০ জন শিক্ষকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

 

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলায় আনন্দ স্কুল হওয়ার পর কোন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী নেই। একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই ১৯ জুনের বিজ্ঞপ্তি ২৬ জুন দুপুরে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

রস্কের ট্রেনিং সমন্বয়কারী শাহ আলম বলেন, আনন্দ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে তার দেখা ছাড়া করার কিছুই নেই।

 

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ২৬ জুন ইউএনও স্বাক্ষরিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া ছাড়া এ সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন।

 

তবে ফুলছড়ি ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুসরণ করে যথা সময়েই নোটিশ দেয়া হয়েছে।

 

স: ইএইচ

 

পছন্দের আরো পোস্ট