ইবিএইউবিতে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (ইবিএইউবি)-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে সকাল ৬.০৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এরপর সকাল ৮.৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে র‌্যালির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিফলকে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গনে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস ২০২১ উদ্্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. মোস্তফা মাহমুদ হাসান-এর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এবিএম রাশেদুল হাসান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ট্রেজারার (অ.দা) মোঃ শাহরিয়ার কবীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি ও কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ডীন ও রেজিস্ট্রার (অ.দা) ড. মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ১৯৭১ সালের অত্যাচারের সেই ভয়াবহ চিত্র সবার সামনে তুলে ধরেন ও স্বাধীনতার চেতনা সবার মনে জাগ্রত রেখে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। সকলকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথাকথিত কিছু ইতিহাসবিদগনের কারনে আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস জানতে দেওয়া হয়নি। আল্লাহর কৃপায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কারণে বর্তমান প্রজন্ম ও পরের প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক পরিবার স্বাধীনতার যুদ্ধে তাদের অনেক আপনজনকে হারিয়েছে।

স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে তাঁর পরিবারের কয়েকজন আপনজনকে পাকিস্তানের দোসর হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে হত্যা করার কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে যান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সকলকে সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই সরলতার সুযোগ নিয়ে খন্দকার মোস্তাকের নেতৃত্বে কতিপয় বিপথগামী সেনাবাহিনীর অফিসার বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ হত্যা করে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি সকল ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত রাষ্ট্র হতে চলেছি। আসুন আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছরে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা গড়তে মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করি। সবশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০লক্ষ শহীদ যারা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

বিশেষ অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, পাকিস্তানের দোসর রাজাকাররা অনেকের পরিবারের সদস্যদেরকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনেক বড় মনের একজন মানুষ। তিনি সকলের কাছে জনপ্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে সকল ভেদাভেদ ভুলে অহঙ্কার ঝেড়ে ফেলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনার মাঝে মাঝে শিক্ষকগণ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার উপর স্বরোচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। পরিশেষে সভার সভাপতি সকলকে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানার জন্য বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ও এ জাতীয় বই পড়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উদ্্যাপন কমিটির সকল সদস্য ও উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোঃ মকবুল হোসেন; পরিচালক (আইকিউএসি) ড. শামীমুল হাসান;, পরিচালক (পিআরডি) ড. মোঃ সোহেল আল বেরুনী, প্রক্টর ড. মোঃ মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ ছাড়াও সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট