উপাচার্য হিসেবে ড. ফারজানা ইসলামের তৃতীয় বর্ষপূর্তি

জাবি প্রতিনিধি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের দ্বিতীয় মেয়াদের আজ তৃতীয় বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে আজ অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অফিসার, কর্মচারি ও ছাত্র-ছাত্রীগণ তাঁকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের ২ মার্চ তিনি ৪ বছরের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্বগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম মেয়াদে ৪ বছর এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ বছর মোট ৭ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন, সকলে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

দায়িত্ব পালনের ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে উপাচার্য তাঁর অনুভূতি ব্যক্তকালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর জনাব আবদুল হামিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব এবং ইউজিসির চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

উপাচার্য বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনা আমাদেরকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। করোনায় আমরা অনেককে হারিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং অনেক স্বজন ও প্রিয়মুখ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি তাঁদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। উপাচার্য করোনাকালে নতুন স্বাভাবিক জীবন যাপনে সকলকে মুখে মাস্ক পরিধান করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমি উপাচার্যের দায়িত্ব পালনে ‘একযোগে চলার’ নীতিতে বিশ্বাস করি। এ লক্ষ্যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের কথা শুনি। আমার মেয়াদকালের অবশিষ্ট সময়েও আমি এ ধারা অব্যাহত রাখবো।

উপাচার্য তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিগত অর্থবছরে কয়েকটি অসম্পন্ন কাজসহ উল্লেখযোগ্য ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বলেন, প্রায় সাড়ে ১৪শত কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন” শীর্ষক একটি প্রকল্প-প্রস্তাব ২০১৮ সালে সরকার অনুমোদন করে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় উন্নয়ন বাজেট। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ১০-তলা প্রশাসনিক ভবন, ১০০০ জন ছাত্র ও ১০০০ জন ছাত্রীর জন্য ৩টি করে ১০-তলা মোট ৬টি হল, বিভিন্ন হলের হাউজ টিউটরদের জন্য ১০-তলা ১টি বাসভবন, শহীদ রফিক-জব্বার হলের উত্তর ব্লকের ৪র্থ ও ৫ম তলা নির্মাণ, ১০-তলা বিশিষ্ট ১টি প্রভোস্ট কমপ্লেক্স, শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ১টি করে ১১-তলা আবাসিক টাওয়ার, তৃতীয় শ্রেণি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ১টি করে ১১-তলা আবাসিক টাওয়ার, ১০-তলা ১টি গেস্ট হাউজ কাম পোস্ট গ্রাজুয়েট গবেষক হাউজ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানবিকী অনুষদ ও গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদ ভবনের আনুভূমিক সম্প্রসারণের জন্য ৬-তলা ৪টি নতুন ভবন, ৬-তলা ১টি লেকচার থিয়েটার এবং পরীক্ষা হল, ৬-তলা ১টি লাইব্রেরি ভবন এবং ৩-তলা ১টি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পে আরও প্রস্তাব করা হয়েছেÑ জহির রায়হান মিলনায়তনের মডিফিকেশন, সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চের উন্নয়ন, ছাত্রীদের জন্য একটি খেলার মাঠ এবং আল-বেরুণী হলের খেলার মাঠের উন্নয়ন।

এছাড়াও, প্রকল্পটিতে ১টি মিনিবাস, ১টি ডাবল কেবিন পিক-আপ, ২টি এ্যাম্বুলেন্স, গ্যাস লাইন সম্প্রসারণ, অফিস আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক লাইন সম্প্রসারণ এবং ২২টি ট্রান্সফরমার স্থাপন, পানির লাইন সম্প্রসারণ ও ১০টি গভীর নলকুপ স্থাপন, ব্রিজ ও ড্রেনসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে মহামারি করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। চতুর্থবর্ষ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে অফিস কাজ-কর্ম চালু করা হয়েছে। উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণের করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের পর্ব শেষ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে।

এ সময় উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ছুটিতে পরিবর্তন আনা হবে। উপাচার্য বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেভাবে করোনা সময়কে মোকাবেলা করা হচ্ছে, করোনা উত্তরকালেও এর সুফল পাওয়া যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ডিজিটাল বাংলাদেশের মূলচিন্তক সজীব ওয়াজেদ জয়-এর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ডিজিটাল সেবা, ই-ফাইলিং এবং ইন্টারনেট তথা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।

পছন্দের আরো পোস্ট