স্বপ্ন পল্লীর সকল সদস্যকে সন্ধ্যার পরে পড়ালেখা শিখতে হবে

আহসান উল্লাহ বাবলু,সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৭০ হাজার গৃহহীনকে ঘর ও জমি দিয়েছেন। এ কাজটি অনেক সূচারু রুপে সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় সম্পন্ন করেছেন। কাজটি জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কমিটি, উপজেলা কমিটি ও সাংবাদিকবৃন্দ তদারকি করেছেন। আমি মনেকরি এ কাজে কেউ ফাঁকি বাজি করার সুযোগ পাইনি। কাজেই এটা গিনেস বুকে জায়গা করে নিবে।

মঙ্গলবার সকালে আশাশুনি উপজেলার বড়দলে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় মুজিবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত সোনার বাংলা স্বপ্ন পল্লীর নাম ফলক উন্মোচন, উপকারভোগীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন, নলকূপ স্থাপন ও উপকারভোগীদের সাথে উঠান বৈঠককালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি সোনার বাংলার স্বপ্ন পল্লীর উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনাদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর দেওয়া হয়েছে। সোনার বাংলা স্বপ্ন পল্লীর সকল সদস্যকে সন্ধ্যার পরে পড়ালেখা শিখতে হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সোনার বাংলার স্বপ্ন পল্লীর নিরক্ষর সদস্যগণকে স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। এখানে স্যাটেলাইট ক্লিনিক চালু হবে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই পল্লীর সকলকে নিয়ে সমবায় সমিতি করে দেওয়া হবে। এখানে আপনাদের গোসলের জন্য পুকুর খনন করা হবে। সুপেয় পানির জন্য রেইন হার্বেস্টার সিস্টেম তৈরী করে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আপনাদের সকল সহযোগিতা আমরা দেব। তবে কাজ আপনাদের করতে হবে, আকাশ থেকে চাউল ডাউল লেপ-তোষক কিছুই পাড়বে না। আমরা আপনাদেরকে প্রশিক্ষণ দেব, সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে আপনাদেরকেই কাজ করতে হবে। এসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করায় উপকারভোগীদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজার সভাপতিত্বে এসময় জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, বিপিএটিসি’র প্রশিক্ষনার্থী সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ সালাউদ্দীন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন সুলতানা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেমা খাতুন মিলি, পিআইও সোহাগ খান, এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মোল্যাসহ দুজন উপকারভোগী বক্তব্য রাখেন।

ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় এসময় বিপিএটিসি’র প্রশিক্ষনার্থীবৃন্দ, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, বীরমুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট