রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আইইউবিতে দিনব্যাপি সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক।

ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) তে ‘রোহিঙ্গা: সিটি অন দ্যা হিল’ শীর্ষক দিনব্যাপি এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। আইইউবি’র স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্সেস এর গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গর্ভনেন্স (জিএসজি) প্রোগ্রামের আয়োজনে ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকে বাংলাদেশে মানবিক ও প্রত্যাবাসন চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার,রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই এবং দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করায় যুক্তরাজ্য সবসময় বাংলাদেশের পাশেই রয়েছে বলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অন মাইগ্রেশন (আইএমও),বাংলাদেশের চিফ অব মিশন, জর্জি গিগেউরি এবং জাতিসংঘের শরানার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র অ্যাসিসটেন্ট রিপ্রেসেনটেটিভ, ফুমিকো কাশিওয়া। তারা বলেন, এই সঙ্কটের ফলে রোহিঙ্গারা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন আইইউবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, এ মতিন চৌধুরী এবং আইইউবি’র প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট (ইএসটিসিডিটি)-এর চেয়ারম্যান, মিসেস নিলুফার জাফরুল্লাহ।

উদ্বোধনী পর্বে আরও বক্তৃতা করেন আইইউবি’র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মিলান পাগন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ তার বক্তৃতায় বলেন, ৮০ এবং ৯০ দশকের বিপরীতে বর্তমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে স্যাটেলাইটচিত্রে  এটা পরিস্কার যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা হয়েছে।

এজন্য দেশটির বিরুদ্ধে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে আরও দেশকে এগিয়ে আসার আহবান জানান,অধ্যাপক ইমতিয়াজ। আইইউবি’র ভারপ্রাপ্ত ডিন,অধ্যাপক ইমতিয়াজ এ হুসেইন সম্মানিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের উদ্দেশ্য সফল করতে সারাদিনে আরও ৩টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আইইউবি’র শিক্ষকদের পাশাপাশি দেশের স্বনামধন্য পন্ডিত ব্যক্তিরা উপিস্থিত থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং আলোচনায় অংশ নেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মাসুদ বিন মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ এবংভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর, ড. মার্সি টেমবন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো।

সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে আরও বক্তব্য রাখেন আইইউবি’র বে অব বেঙ্গল ইনস্টিটিউট প্রজেক্টের সিনিয়র ফেলো,তারিক এ করিম; সাবেক পররাষ্ট্র সচিব,শহিদুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন; অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন; ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের, ড. তাসনিম সিদ্দিকী; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান; এশিয়ান উনিভার্সিটির জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের, ড. শাহরিন শাহজাহান নওমী; রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ব্র্যাকের সিনিয়র পরিচালক, কে এ এম মোর্শেদ, ইউএনএইচসিআর’র সাবেক পরিচালক, শামসুল বারি,অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল,এম মোহাম্মদ আসাব উদ্দিন, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেট রিমুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক, ড. সিআর আবরার এবং মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্টের, আসিফ মুনির।

এছাড়া আইইউবি’র শিক্ষকরাও ভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা ও নিবন্ধ উপস্থাপন করেন।

পছন্দের আরো পোস্ট