সুস্থ থাকার ঔষধ মানসিক প্রশান্তি

সৈয়দা মুনিয়া জান্নাত

বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত, তার মূল কারন ভয়াবহ দুশ্চিন্তা । প্রত্যেকটা মানুষই নির্দিষ্ট একটা বয়সে দুশ্চিন্তার জটিল বেড়াজালে আটকে যায় । কিন্তু বর্তমানযুগের মানুষ বলতে গেলে সবাই হতাশাগ্রস্থ । কারন প্রায় একবছর যাবত দানব করোনার রাজত্ব মানুষকে পুরোপুরি বিদ্ধস্ত করে দিয়েছে । মানুষ এখন অনেকেই অতিরিক্ত চিন্তা করতে গিয়ে নানা মানসিক সমস্যায় ভুগছে ।

প্রত্যেকটা মানুষের “মেন্টাল হেলথ” এর যত্ন নেয়া উচিত । কারন, আমরা সবাই এখন যান্ত্রিক জীবন নিয়ে এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছি যে নিজে কেমন আছি তা ভাবার ও সময় নেই । বর্তমান সময়ে মন ভালো থাকেনা বেশিরভাগ মানুষের । করোনা ভাইরাসের কারনে গৃহবন্দী থেকে মানুষের মেজাজ আরো বেশি খিটখিটে হয়ে গিয়েছে । মনমেজাজ একদম ভালো না থাকার কারনে মানসিক প্রশান্তির দেখা মিলা কঠিন হয়ে যায় ।

তাই মেন্টাল হেলথ এর দিকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে । সাবধানতা অবলম্বন করে একঘেয়েমি মনোভাব কাটানোর জন্যে ঘুরতে যাওয়া উচিত । একজায়গায় বহুদিন থাকার ফলে এমনিতেই ‘ ভালো লাগেনা ‘ রোগ আঁকড়ে ধরে । কিন্তু যদি মাঝেমাঝে ঘুরাফিরা করা যায় তাহলে মানসিক চাপ যেমন কমে ঠিক তেমনই শারীরিক অসুস্থতাও অনেকটা দূর হয় ।

শারীরিক অসুস্থতা দূর করা যায় ডাক্তার দ্বারা আর মানসিক অসুস্থতা দূর করার জন্যে প্রয়োজন সবসময় হাসিখুশি থাকা ও নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখা । নিজেকে চিন্তার কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া যায় মাঝেমাঝে ঘুরাফেরার মাধ্যমে । এতে যেমন মানসিক প্রশান্তির দেখা মিলে অন্যদিকে সকল ধরণের কাজকর্মে মন বসে ।

নিজেকে সবসময় কিছু না কিছুতে ব্যস্ত রাখতে হবে । “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা” আমরা সবাই কমবেশি জানি । যতটা পারা যায় ব্রেইনকে প্রোডাক্টিভ কাজে নিয়োজিত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে । পাশাপাশি গল্পের বই , হাদিস এর বই পড়া যেতে পারে এতে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যাবে খুব সহজেই । মানসিক প্রশান্তির ঔষধরূপে কাজ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ । একজন মুমিন ব্যক্তি যদি আল্লাহর নিকট তার যাবতীয় দুঃখকষ্টগুলো শেয়ার করে ও সাহায্য প্রার্থনা করে তাহলে অটোমেটিক মনে স্বর্গীয় শান্তির স্পর্শ অনুভব করা যায় । তাই কথোপকথন হতে হবে সৃষ্টিকর্তার সাথে বেশিবেশি তবেই মন ভালো রাখার জাদুকরী ফল লাভ করা সম্ভব অতি সহজে ।

পছন্দের আরো পোস্ট