খুবিতে শিক্ষক সমিতির অভিনন্দন ও সংবর্ধনা

খুবি প্রতিনিধি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আজ ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৩ টায় আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাতের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যকাল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তাঁকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। একই সাথে প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা উপ-উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় এবং টেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় সমিতির পক্ষ থেকে তাঁদেরকে অভিনন্দন জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল শিক্ষকের উপস্থিতে পরিপূর্ণ মিলনায়তনে একটানা প্রায় চারঘন্টার এ অনুষ্ঠান বেলা সোয়া তিনটায় শুরু হয়ে রাত পৌণে আটটায় শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়ির থেকে শুরু করে নবাগত শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপাচার্য এবং উপাচার্য হিসেবে তাঁর দশবছরের বেশি দায়িত্বকালীন সময়ের অনেক স্মৃতি, অনেক ঘটনা, অভিজ্ঞতা তাঁরা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গ্রহণযোগ্যতার পিছনে কাজ করেছে তাঁর সবাইকে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা ও কৌশল। তিনি তাঁর দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্বপালনের সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ভিন্নমতকে সবিশেষ বিবেচনায় না নিয়ে বরং সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও কাজ করার নীতিকে প্রাধান্য দেন। কিছু কিছু সময়ে ছোটখাট সমস্যার উদ্ভব হলেও তিনি তাঁর সমাধানে ধৈর্য্য, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরিবার হিসেবেই তিনি সবসময় দেখতে চেয়েছেন। করোনাকালে মহাবিপদের সময় আক্রান্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের সহায়তায় সর্বোত্তম প্রচেষ্টার মানবিকতা প্রদর্শন করেছেন। বক্তারা তাঁর অসীম ধৈর্য্য, প্রশ্নাতীত সততা, অক্লান্ত পরিশ্রম, অবিশ্রান্ত অধ্যবসায়, অসম্ভব সৌজন্যতা, অদম্য মনোবল, সহকর্মীসুলভ অমায়িক ব্যবহার, মানবিকতা, শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনে নিরন্তর প্রচেষ্টা, অবকাঠামো উন্নয়নে একের পর এক পদক্ষেপ এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়কে একান্তভাবে নিজের ভেবে দেখার মতো গুণাবলীর কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন।

সংবর্ধনার জবাবে উপাচার্য বলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার নির্ধারিত কর্মমেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়মানুয়ায়ী বিদায় নিতে হচ্ছে। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর স্মৃতিতে চিরকাল জাগরুক থাকবে। তিনি বলেন আমি আপনাদের কাছে আপনজন হয়ে থাকতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গেলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যাহত উন্নয়ন ও শিক্ষা ও গবেষণার সাফল্য তাঁকে যেনো আনন্দ দেয় তিনি সে প্রত্যাশা করেন। তিনি যেনো দূর থেকেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তি দেখতে পান। শিক্ষকদের প্রতি তিনি বলেন শিক্ষকদের সবসময় সত্যের সন্ধানী হতে হবে। কোনো গুজব বা কান কথায় বিশ্বাস না করে, মন্তব্য না করে বরং প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য জানতে হবে। তিনি আরও বলেন একটি প্রতিষ্ঠান ও পেশাকে মনে প্রাণে ধারণ করতে পারলে,

সেখানে নিবেদিত হয়ে কাজ করতে পারলে, ভিন্নমত বা চিন্তাকে প্রাধন্য না দিয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে সে প্রতিষ্ঠানে সাফল্য আসে। তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সে প্রচেষ্টা নিয়েছেন । তার পরও যদি তাঁর কোনো কাজে বা কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ জানান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কার্যকালে তিনি সবার সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে অভিনন্দিত দ্ইু অথিতি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা এবং ট্রেজারার সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন এবং একজন সফল উপাচার্য হিসেবে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের মানবিক গুণাবলী, প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতার ভূয়শী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং অপর দুই অতিথিকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. এটিএম জহিরউদ্দীন, প্রফেসর সামিউল হক, প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন, প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাস, প্রফেসর ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহান, প্রফেসর ড. গোলাম রাক্কিবু, প্রফেসর ড. শাহনেওয়াজ নাজিমুদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ড. তুহিন রায়, সহকারী অধ্যাপক পুণম চক্রবর্তী, প্রভাষক উজ্জল তালুকদার।

আরও অনেকে বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের বক্তব্য ই-মেইলে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. তানজিল সওগাত। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল ও স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় উপাচার্য পতœী প্রফেসর ড. মোর্বারা সিদ্দিকাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট