ড্যাফোডিলের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তার ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী নানা আয়োজন উদযাপন করতে শুরু করেছে। আজ রবিবার (২৪) বিকেল ৩টায় প্রথম দিনের আয়োজনে ‘অনুভবে এবং অনুভূতিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার, একাডেমক এফেয়ার্সের ডীন প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল, প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর এম সামছুল ইসলাম, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এ এম এম হামিদুর রহমান, বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মাসুম ইকবাল, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান প্রমুখ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সকল ক্লাবের শিক্ষার্থীবৃন্দ। তারা গান, আবৃত্তি, অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মেতে ওঠে।

উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, শিক্ষার্থীদের ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এবছর মহামারির কারণে আমাদের সবুজ ক্যাম্পাসে সম্মিলিতভাবে মেতে ওঠা হলো না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সীমিত পরিসরে হলেও অনুষ্ঠান করার চেষ্টা করব।

ড. মো. সবুর খান বলেন, ১৯ বছরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাফল্যের খাতায় অনেক অর্জন যুক্ত হয়েছে। সবুজ ক্যাম্পাস, বিশাল অবকাঠামো, শিক্ষার্থীদের জন্য হল, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি, ইনোভেশন ল্যাব, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিয়ে স্থান করে নেওয়া ইত্যাদি সবকিছুই সম্ভব হয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলবদ্ধ পরিশ্রমের কারণে। এসময় তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান বলেন, আজ থেকে ১৮ বছর আগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটি ভাড়া করা ভবনে যাত্রা শুরু করেছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন ১৫০ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে নিজস্ব ক্যাম্পাস আছে। এসবই সম্ভব হয়েছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে। এজন্য ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্হে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃতি আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের নামী দামী ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে ড্যাফোডিলের। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়েই সবচেয়ে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেন।
আগামীকাল আরও দুটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের আয়োজনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ড্যাফোডিলিয়ান’ শীর্ষক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যে সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে ‘ড্যাফোডিল অ্যালামনাই-সেদিন আর এদিন’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি মাত্র ৬৭জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন ২০ হাজারেরও বেশি। মাত্র ১৯ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি অর্জন করেছে বিশ্বস্বীকৃত টাইমস হায়ার এডুকেশন, কিউ এস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ও ইউ আই গ্রিন ম্যাট্রিক্স রাংকিংয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান। এছাড়া শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা কর্ম, গ্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান, বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান ও পরিবেশের জন্য অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্বীকৃতি। দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে সর্বাধিক সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর। অর্জন করে নিয়েছে ওয়ার্ল্ড কোয়ালিটি কমিটমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, গ্লোবাল এমিটি অ্যাওয়ার্ড, এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বিজনেস স্কুল অ্যাওয়ার্ড।

পছন্দের আরো পোস্ট