খুবিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিচিতি সভা

খুবি প্রতিনিধি।

গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে সম্প্রতি যোগদানকারী শিক্ষকদের এক পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উপাচার্য  যোগদানকৃত নতুন শিক্ষকদেরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন শিক্ষকতার মতো মহাৎ পেশা আর নেই। শিক্ষকতা সাধারণ চাকরির মতো নয়। একজন শিক্ষকের সারা জীবন জ্ঞান চর্চা ও আহরণে নিবেদিত থাকতে হয়। শিক্ষকের পড়াশোনার বিস্তৃতি ঘটাতে হয়। একজন শিক্ষকের বহুমুখী জ্ঞান অর্জন করতে হয়। জ্ঞানের নিরন্তর সাধনাই একজন শিক্ষকের আরধ্য বিষয়। যিনি জ্ঞানের যতো গভীরে যেতে পারবেন, তিনি ততো প্রজ্ঞা ও বুৎপত্তি লাভ করতে পারবেন। টাকার পেছনে ছুটলে ভালো শিক্ষক হওয়া যাবে না। শিক্ষকতা পেশার মহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে হলে দেশ প্রেম,  মূল্যবোধ,  নীতি-নৈতিকতা, সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, পরচর্চা বাড়ছে বলেই জ্ঞান চর্চা কমে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিকতা সাম্প্রদায়িতকার চেয়েও খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে বহুমত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মিলন ঘটে, উৎকর্ষ লাভ করে, জ্ঞান সৃজন হয়, গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবন হয়, দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

এর আগে তিনি নতুন যোগদানকারী প্রভাষকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সভায় উপ-উপাচার্য বলেন, শিক্ষতকা আসলে আদর্শের জায়গা। জাতি গঠনে, মূল্যবোধ সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠায় শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষকতা আসলে সাধনা ও অনুশীলনের বিষয়।

তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয় তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তারপর মেধাবীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। যোগদানকারী শিক্ষকগণ বয়সে তরুণ ও অত্যন্ত মেধাবী। তাঁরা শিক্ষকতাকে মহানব্রত হিসেবে নিবেন এবং অনুশীলন ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। সভায় নতুন যোগদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন, সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রভাষক ইতি রাণী, সিএসই ডিসিপ্লিনের আমিনুল ইসলাম, ইসিই ডিসিপ্লিনের আব্দুল্লাহ আল মামুন বুলবুল ও ইতু পোদ্দার, ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের বিদিশা হক, আবুল বাশার, কে এম আব্দুল্লাহ আল-আমিন রাব্বী ও মো: রবিউল আলম রণি, গণিত ডিসিপ্লিনের শারমিন সুলতানা শান্তা এবং বিজিই ডিসিপ্লিনের অমিত সরকার।

পছন্দের আরো পোস্ট