নন-এমপিও শিক্ষক ও সরকারের দায়িত্ব

এস.এম.মিনহাজ কাদির।

প্রথমেই একটা জীবনের গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

মো.সেলিম রেজা,শিক্ষক;হাকিমপুর মহিলা কলেজ,চৌগাছা,যশোর। প্রায় ১৫ বছর এ কলেজে শিক্ষকতা করছেন।কলেজের সকল দায়িত্ব পালন করেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।তাই তারও দেখা হয়নি বেতন ভাতার মুখ। বেতন পান না তবু কলেজ ছাড়তে পারেন না;দায়িত্ববোধ,স্মৃতি,মায়া-মমতা আর ভালবাসায় আটকে আছে তাঁর ১৫ বছরের শিক্ষকতাজীবন। বলেন, কলেজে না গেলে আমার ছাত্রীদের কী হবে! ওরাতো পরীক্ষায় খারাপ করবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই ছুটে চলেন প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে।

এই ১৫ বছর তিনি শিক্ষকতা করতে পেরেছেন কারণ তিনি সচ্ছল। কিন্তু এমন অনেক শিক্ষক আছেন যাদের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল নয়।তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেও শিক্ষকতা চালিয়ে নিতে পারছেন না।দিনের পর দিন,মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এমপিওর জন্য অপেক্ষা করে অবশেষে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন প্রিয় পেশা।

প্রকৃতপক্ষে কি আমরা এসব শিক্ষকদেরকে শিক্ষকের মর্যাদা দিতে পেরেছি?পারিনি। স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসার এসব নন-এমপিও শিক্ষকদের আছে অভিজ্ঞতা। দেশের স্বার্থেই এসব অভিজ্ঞ শিক্ষকদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখা দরকার। তার জন্য প্রয়োজন তাদের আর্থিক নিরাপত্তা।

দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ২৭৩০ টির মতো প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক। কিন্তু যারা এখনো নন-এমপিও রয়ে গেছেন তাদের সংখ্যাও একেবারে কম নয়।মনে রাখতে হবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থাপনের অনুমতি,পাঠদান অনুমতি,একাডেমিক স্বীকৃতি সব কিছু দেয় বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করেন উপজেলা শিক্ষা অফিস ও আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয়।

সরকারি সকল নিয়ম শৃঙ্খলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে হয় এসব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও। বোধকরি এসব করণেই সরকার তার দায়বদ্ধতা এড়াতে পারে না। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনেকেই ভালো রেজাল্ট করে ভাগ্য পরিবর্তন করেন। কিন্তু তাদের শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরে না।

তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে যেমন সকল (২৬,১৯৩ টি) রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়েছিল তেমনি সকল নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করা দরকার।সাথে সাথে যত্রতত্র স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা খোলার রীতি বন্ধ করাও দরকার।

বর্তমানে শিক্ষা ব্যাবস্থা জাতীয়করণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা যায় এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু সরকারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় যদি এখন তা সম্ভব না হয় তবে মানবিক বিবেচনায় সকল নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানকে এমপিওর আওতায় আনা জরুরী। বিলাসিতা নয় এসব শিক্ষকদের দুমুঠো ডাল ভাতের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব।

এস.এম.মিনহাজ কাদির
শিক্ষক,গৌরীনাথপুর দাখিল মাদ্রাসা। মহেশপুর, ঝিনাইদহ।

পছন্দের আরো পোস্ট