বর্তমান যুগের সংক্রামক ব্যাধি ডিভোর্স

সৈয়দা মুনিয়া জান্নাত।

আল্লাহ প্রত্যেকটা মানুষকেই জোড়া নির্ধারণ করে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন । আল্লাহর হুকুমেই কিন্তু বিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে । স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অতি পবিত্র বন্ধন । ডিভোর্স নামক সংক্রামক ব্যাধি যখনই তাদের মগজে ভাইরাস ছড়ায় এবং মনের আঙিনায় প্রতিনিয়ত খেলা করে ঠিক তখনই বিবাহ বিচ্ছেদ মানে সম্পর্কের ফাটল ধরে ! আদিমযুগের মানুষের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে লক্ষলক্ষ বার চিন্তা করতো যে কাজটা ঠিক হচ্ছে কিনা ! তাই আদিমযুগে ডিভোর্সের হার ও ছিলো কম । কিন্তু বর্তমানযুগে ডিভোর্স একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

হাজব্যান্ড – ওয়াইফের একে অপরের সাথে বনিবনা হচ্ছেনা ঐ মুহূর্তেই শয়তানের খপ্পরে পরে হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে যে আমাদের আর একসাথে থাকা সম্ভব না । এ কোন অভিশপ্ত যুগে বাস করছি আমরা ? ডিভোর্সটা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে নিজেদের মাঝে বোঝাপড়ার ঘাটতি থাকার কারনে ।

স্বামী-স্ত্রী যদি হয়ে থাকে চাকুরীজীবি সে ক্ষেত্রে দেখা যায় একে অন্যকে সময় দেয়া যায়না । সম্পর্ক ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে বিশ্বাস । বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার পিছনে অন্যতম একটা কারন ইদানিং পরিলক্ষিত হচ্ছে – সন্দেহ ! বৈবাহিক জীবন যখনই সন্দেহের কারাগারে বন্দী হবে তখন বিশ্বাস কর্পূরের ন্যায় উড়ে যাবে আর তখন স্বামী স্ত্রী মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করে ডিভোর্স নামক সংক্রামক ব্যাধির সাহায্য নিয়ে ।

ডিভোর্স এর গন্ধ আকাশে বাতাসে অসীমহারে বেড়েই চলছে তার আরেকটি বড় কারন হচ্ছ পরকীয়া । স্বামী বিদেশ যার , পরপুরুষের ভালোবাসা লাগবে তার । আস্তাগফিরুল্লাহ কতটা নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছি আমরা ? ঠিক তেমনই পরিশ্রমী স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে পরকীয়া করে বেড়াচ্ছে অধিকাংশ কাপুরুষরা ।একটাবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেনা বাবামা ! ডিভোর্সের প্রভাব সবচাইতে বেশি পরে ছেলেমেয়ের উপর । মেন্টালিভাবে ভেঙ্গে পরে বাচ্চারা আর হীনমন্যতায় ভোগে যে কাকে বেছে নিবে মা কে নাকি বাবাকে !! কিন্তু একটি শিশুর মানসিক বিকাশ ও চরিত্র গঠনের জন্যে বাবামা দুইজনকেই দরকার ।

ভার্চুয়াল জগতের দ্বারা প্রভাবিত হয়েও এখন অনেকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেয় । দাম্পত্য কলহ লাগতেই পারে তৃতীয় ব্যাক্তির প্রবেশ মানেই সম্পর্কের ফাটল । স্বামী স্ত্রীর মনের মিল থাকতে হবে এর অভাব হলেই দূরত্ব সৃষ্টি হবে ।বিয়ে আসলে বর্তমানযুগে পুতুলখেলা হয়ে গিয়েছে ! মায়া আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে অচিন দেশে বোঝাপড়ার অভাবে ! স্বামী যদি আগুন হয় , স্ত্রীকে হতে হবে পানি ঠিক তেমনই স্ত্রী রাগলে স্বামীকেও হতে হবে পানি তবেই সম্পর্ক টিকবে !!! আর দুজনেই যদি আগুনের লেলিহান শিখার মতন জ্বলতে থাকে তবে সংসার করা তোহ দূরের কথা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে ।

বৈবাহিক জীবনে একে অন্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে । মধুর প্রেমের সূত্রপাত ঘটাতে হবে । তবেই ডিভোর্স নামক ব্যাধি জানালা দিয়ে পালাবে । যতই কর্পোরেট জব করিনা কেনো প্রতি সপ্তাহে স্বামী স্ত্রীর প্রকৃতির প্রেমে হারিয়ে যেতে হবে । দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে হবে । সারাদিনের সকল কাহিনী একে অন্যের সাথে ভাগাভাগি করতে হবে তাহলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ার সাথেসাথে বোঝাপড়াও শক্তিশালী রূপ ধারণ করবে তখন ডিভোর্স জানালা দিয়ে পালাবে !

স্বামীকে হতে হবে স্ত্রীর প্রতি যত্নবান , ঠিক তেমনি স্ত্রীকেও হতে হবে স্বামীর প্রতি যত্নবান ও শ্রদ্ধাশীল । ধর্মীয় বিষয় নিয়ে দিনশেষে দুইজনকে আলোচনায় বসতে হবে ! স্ত্রীকে হতে হবে অবশ্যই স্বামীর পিতামাতার প্রতি চরম যত্নবান ও শ্রদ্ধাশীল ! পুরুষদের ও হতে হবে স্ত্রীর পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বন্ধুভাবাপন্ন । কখনো শশুড় শাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবেনা ।

নিজের মা বাবার মতোই সেবাশ্রুশ্রূষা করতে হবে তবেই সংসারে সুখের প্রদীপ জ্বলবে ! কথায় আছে ” সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে ! পারিপার্শিক পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে ও অনেকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যা মোটেও ঠিক নয় । জীবন ক্ষনিকের , আজ আছে কাল নাই । ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে ঠুনকো জীবনে স্বামীস্ত্রীর ঝগড়ার সূত্রপাত হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয় কিন্তু ঠিক ঐ সময় সকলকে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে যে ডিভোর্সই একমাত্র সমাধান নয় বরং আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল থাকতে হবে ! কারন , ধৈর্যশীল ব্যাক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন ।

জীবন আপনার , সংসার ও আপনার তাই আজ থেকেই মাথা হতে ডিভোর্সের চিন্তা খুন করুন ।একে অন্যকে যথেষ্ট সময় নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করুন । তৃতীয়পক্ষের মানুষ সম্পর্ক নষ্ট করার জন্যে অনেক কিছুই করবে কিন্তু স্বামী স্ত্রী যদি নিজ জায়গা হতে শক্তিশালী থাকে তবে কারো বিন্দুমাত্র শক্তি নেই সম্পর্কের ইতি ঘটানোর । তাই নিজেদের মাঝে বন্ধন জোরালো করুন , স্বামী স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক ভালো করার জন্যে কোরআন হাদিসের আশ্রয় গ্রহণ করুন ! সম্পর্কের মাঝে স্বাদ খুঁজে না পেলে আঁধাররাতে নীরবে নিভৃতে তাহাজ্জুদ নামাজের মাঝ দিয়ে আল্লাহর সন্নিকটে যেয়ে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করুন তারপরেও প্লিজ ডিভোর্সের মতো আত্মঘাতী ভাইরাসের দ্বারা জেনেশুনে নিজেদের অনিষ্ট ডেকে আনবেন না ।

জীবন একটাই , বিয়ে ও হওয়া উচিত মেয়েদের একটাই ! একজন স্বামীকে নিয়েই সুখে থাকার মানসিকতা নিয়ে সংসারজীবন শুরু করুন , অন্যকে দেখে পরকীয়ার চিন্তা মাথার মগজ হতে দ্রুত খুন করুন । আর সুখী হতে চাইলে একে অন্যকে আপন করার মাঝ দিয়ে ডিভোর্স এর চিন্তাকে গুম করুন । ছেলেদের ও একজন অর্ধাঙ্গীকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত ।

 

Munia Jannat

সৈয়দা মুনিয়া জান্নাত

পছন্দের আরো পোস্ট