ভর্তিচ্ছুদের পদচারণামুখর কলেজগুলো

বিশেষ প্রতিনিধি

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের কলেজগুলো রোববার ভর্তিচ্ছু নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের পদচারণায় বেশ মুখর হয়ে ওঠে। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই কলেজগুলোতে ভিড় করেন তারা। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

 

করোনা সংক্রমণ আতঙ্ক আর ক্লাস শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে সন্তষ্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিগগিরই পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা করছেন তারা। এরইমধ্যে আগামী অক্টোবর থেকে অনলাইনে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরুর আভাস দিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি।

 

গত ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলেও মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় ফলাফল প্রকাশ ও এইচএসসিতে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরইমধ্যে কিছুটা বিলম্বে হলেও অনলাইনে এসএসসির ফলাফল প্রকাশিত হয় ৩১ মে। আর দুই মাসের বেশি বিলম্বে গত ৯ আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে শুরু হয় একাদশে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম। এবারও মোট তিন ধাপে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির আবেদন নেয়া হয়। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন উত্তীর্ণ হলেও প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করেছে। পছন্দের কলেজে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরাই রোববার থেকে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে।

সূত্রমতে, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা চান্স পাওয়া কলেজে ভর্তি হতে পারবে। ভর্তির ক্ষেত্রে তিন স্তরের ফি নির্ধারণসহ অনুসরণীয় নীতিমালা এরইমধ্যে জারি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি।

রোববার সকাল থেকেই ভর্তি হতে চান্স পাওয়া কলেজগুলোতে ভিড় জমান অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা। রাজধানী সিটি কলেজের সামনে বেশ বড় আকারের ভিড়ই দেখা যায়। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেকটা ঢিলেঢালা মনোভাব ছিল সবার মধ্যে। প্রথম দিনেই বেশ সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। সারাদেশের কলেজগুলোতেও একযোগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে ভর্তি কার্যক্রম শেষে কলেজ না খুললেও আগামী অক্টোবর থেকে অনলাইনে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যে ১ অক্টোবর বাজারে এই ক্লাসের পাঠ্যবই বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে কেবল এই ক্লাস চলবে। যতটুকু সম্ভব সপ্তাহে দুই একটা হলেও ক্লাস নেয়া হবে। আর সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সরাসরি ক্লাস নেয়া যাবে।

 

সূত্রমতে, প্রথমে ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হলেও পরে সে সময় বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। আর একাদশে ভর্তি হতে আপাতত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা প্রশংসাপত্র জমা দেয়া লাগবে না বলে জানিয়েছৈ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সুবিধামত সময়ে এসব কাগজ কলেজে জমা দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে কোটা পাওয়া শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই কোটাপ্রাপ্তি উপযুক্ত প্রমাণ সনদ দাখিল করে ভর্তি হতে হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

 

ভর্তি ফি: একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। ফি নির্ধারণ করে দিয়ে বেসরকারি কলেজের ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন ও যাবতীয় খরচের বিষয়ে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছে এ কমিটি। মফস্বল, পৌর ও মেট্রোপলিটন এলাকার বেসরকারি কলেজগুলোর জন্য তিন স্তরের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সরকারি কলেজগুলোকে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ফি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এমপিওভুক্ত মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সেশন ফিসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগর ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না।
মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকার বেশি অর্থ আদায় করতে পারবে না।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আংশিক এমপিওভুক্ত বা এমপিও বহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ও এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ সাড়ে আট হাজার টাকা নিতে পারবে।

উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান এবার দেড় হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেড ক্রিসেস্ট ফি বাবদ ১২ টাকা নিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর পাঠ বিরতি থাকলে ও বিলম্বে ভর্তি হলে তাকে ১৫০ টাকা পাঠ বিলম্ব ফি এবং ১০০ টাকা বিলম্ব ভর্তি দিতে হবে।
সরকারি কলেজগুলোকে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ফি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ফি’র বেশি না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সব ফি রশিদের মাধ্যমে নিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

বর্তমান কোভিড-১৯ এবং অভিভাবকদের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয় বিবেচনা করে দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোকে উল্লিখিত ফিগুলো যতদূর সম্ভব মওকুফ করতে হবে।

 

ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে কলেজ, গ্রুপ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গ্রুপ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য গ্রুপে একবার ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীসময়ে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

 

সাব-কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি নীতিমালা না মেনে শিক্ষার্থী ভর্তি করালে সেই কলেজের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলসহ কলেজের এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে।
আর সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সব দায়-দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।#

পছন্দের আরো পোস্ট