ড্যাফোডিলে সিম্পোসিয়াম অন হসপিটালিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক।

বাংলাদেশের কালিনারি আর্টস এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইন্ডাষ্ট্রি-একাডেমিয়া ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে গতকাল (১০ই সেপ্টেম্বর ২০২০) দিনব্যাপী “ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোসিয়াম অন হসপিটালিটি” শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনষ্ঠিত হয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং অক্সফোর্ড কালচারাল কালেক্টিভ এর যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল এ সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হয় যেখানে ইউরোপ অষ্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ রিসোর্স পারসনরা বিভিন্ন সেশনে তাদের উপস্থাপনা অনলাইনের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন-ডিকসন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট (হাউজ অব লর্ডস) এর সদস্য ব্যারোনাস মনজিলা পলা উদ্দিন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস, DOCEH এর স্টিয়ারিং কমিটির নেতৃত্বে থাকা অক্সফোর্ড কালচারাল কালেক্টিভের চেয়ারম্যান মিঃ ডোনাল্ড স্লোয়ান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল পরিবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কনভেনার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল অক্সফোর্ড সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন হসপিটালিটি (ডিওসিইএইচ) এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কালিনারি আর্টস এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, এমপি বলেন, কোভিড-১৯ এর ফলে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দেশে পেরত এসছে, অনেকে জাকরি হারিয়েছে, পর্যটকরা আমাদেও দেশে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।সব মিলিয়ে আমাদেও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।তবে হতাশ হবার আশাবাদ ব্যক্ত কওে মন্ত্রী বলেন, রাতের শেষে যেম দিন আসে তেমনি আমাদেও পর্যটন খাত ও ঘুরে দাড়াবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে শক্তিশালী ও উন্নত করতে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ হসপিটালিটি সেন্টার অনেক বেশী অবদান রাখবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। তিনি আরো বলেন, হসপিটালিটি মানে শুধু রেস্টুরেন্টে কাজ করা নয় নয় , এর সংজ্ঞা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। আমরা যদি অমাদের জনবলকে পর্যটন ও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষত কওে তুলতে পারি তাহলে সারা বিশ্বে অঅমাদেও কর্মসংস্থান হবে। পর্যটন খাতে সারাবিশে চাকরির দুয়ার খোলা রয়েছে। আমাদের শুধু দরকার প্রশিক্ষিত জনবল। অঅর এই প্রশিক্ষিত জনবল তৈরীর কাজটি করবে ড্যাফোডিলের এি হসপিটালিটি সেন্টার।

বাংলাদেশ পর্যটন কপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহসান ১৯৭২ সালে পর্যপন করোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।প্রতিষ।টার পর থেকেই পর্যটন বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এখানে পর্যটন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত দেয়া হয়। তিনি বলেন, আমাদেও ক্কসবাজার আছে, অঅছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্তরবন, দেশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য নদী, সেই সাথে আমাদেও কালচারাল হেরিটেজ ও রয়েছে প্রচুর। এসব পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে দক্ষ জনবল দরকার। ড্যাফোেিলর এর হসপিটালিটি সেন্টার প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরীতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যারোনাস মনজিলা পলা উদ্দিন বলেন, টুরিজম ও হসপিটালিটি বিষয়ে বৃটেন ও বাংলাদেশ এক সঙ্গে কাজ করবে এটা নিসন্দেহে খুবই আনন্দের ব্যাপার। অঅরো আনন্দেও ব্যাপার যে এই হসপিটালিটি সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশের হসপিটালিটি বিষয়টি সারা পৃথিবীতে বিস্তৃতি লাভ করবে। হসপিটালিটি বিষয়ে মেয়েদের অঅরো বেশী এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। কেননা পারিবারিক হসপিটালিটির বিষয়টি মেয়োরাই দ্ষতার সাথে পরিচালনা করে থাকেন। হসপিটালিটি পেশাকে ত্বরান্বিত করতে ড্যাফোডিলের এ সেন্টার অসামান্য অবদান রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে সকালে এ সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধন কালে প্রধান মন্ত্রীর পারাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গরহর রিজভী বলেন,
বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি স্টেরের উন্নয়নের জন্য এ রকম একটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা খুবই দরকার ছিল। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন আন্তর্জাতিক মানের টুরিজম ও হসপিটালিটি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তেমনি বেকারত্ব দূরীকরনেও ভ’মিকা রাখতে পারবে। এসময় ড. গহর রিজভী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং অক্সফোর্ডকে ধন্যবাদ জানান এমন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য।

ড. গওহর রিজভী ডিশ বাংলাদেশ – ২০২০ সিম্পোজিয়ামের সাফল্য কামনা করে বলেন,এধরনের সিম্পোজিয়ামের ফলে মানুষের মধ্যে টুরজম ও হসপিটালিটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের টুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট সেক্টরের উন্নয়নের জন্য এ রকম সিম্পোজিয়াম আরো বেশী বেশী হওয়া উচত বলে মন্তব্য করেন ড. গওহর রিজভী বলেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খান বলেন, কোভিড-১৯ এর কারনে টুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টওে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য অঅমাদেও কোর্স কারিকুলামে পরিবর্তন আনতে হবে। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যে এমন উদ্যোগ নিয়েছে। ড্যাফোডিল অক্সফোর্ড সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠা এবং ডিশবা ংলাদেশ-২০২০ সিম্পোজিয়াম আয়োজন সেসব উদ্যোগেরই অংশ। এছাড়া ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানে রেস্টুর্টে ও হোটেল আছে বলে জানান তিনি।

ড. মোহাম্মদ সবুর খান আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ালেই চলবে না, তাদেরকে চাকরির নিশ্চয়তা ও দিতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলেই তাদের চাকরি নিশ্চিত হবে। ড্যাফোডিল অক্সফোর্ড সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন হসপিটালিটি শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন

পছন্দের আরো পোস্ট