বিজয়ীদের হাতে ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জের পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর সংক্রমণ বিস্তার রোধে সকল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কাউট সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনলাইনে ২৬ মার্চ ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জ শুরু হয় এবং প্রতিযোগিটা শেষ হয় ৩১ মে। ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় ১০ জন বিজয়ীকে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে ৫ জন স্কাউটস সদস্য ও ৫ জন সাধারণ শিক্ষার্থী।

পুরষ্কার হিসেবে প্র্রথম বিজয়ী দেওয়া হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকা, ২য় বিজয়ী চল্লিশ হাজার, ৩য় বিজয়ী ত্রিশ হাজার, ৪র্থ বিজয়ী বিশ হাজার এবং ৫ম বিজয়ী দশ হাজার টাকা। ২ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত সাড়ে ৭ টায় অনলাইনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেয় প্রতিযোগিতার আয়োজনকরা।

বিজয়ী স্কাউট সদস্যরা হলেন, মেধা সরকার, সামিহা রাইসা সাবিহ্, সাদিক আল রাফি, মুহিবা তায়্যিবা তোহা, সানজানা রহমান লিমা এবং স্কাউট সদস্য ছাড়া বিজয়ীরা হলেন স্বর্ণা মাহমুদ, রাধা সেন, দিপ বিন্দু দাস, নাবিলা আলম, শাইনি নুসরাত।

ইউএনডিপি, বাংলাদেশ স্কাউটস ও ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ-এর সম্মিলিত উদ্যোগে অনলাইন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ মানেই পড়ালেখার কার্যক্রম বন্ধ নয়, ঘরে বসেই পরিবার থেকেই গড়ে উঠুক সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রম। এই উদ্দেশ্যে ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জে শুরু হয়। ঘরে বসেই ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জের দিকনির্দেশনা মতে অনলাইনের মাধ্যমে সবাই এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করেন। সাবান কিংবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সঠিক ভাবে হাত ধোয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুকে শেয়ার করে এতে অংশ নেন প্রায় ১৩,২৩৭ জন প্রতিযোগি। এর মধ্য থেকে বাছাই করে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় নানাভাবে ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষ যুক্ত হন। এই পুরো ক্যাম্পেইনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলেন কনসিটো পিআর।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেন, “অতীতে বারবার বিশ্বব্যাপী হাত ধোয়ার কথা বললেও করোনার কারনে বৈশ্বিকভাবে তা বাধ্যতামূলকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ডেটল হ্যান্ডওয়াশ চ্যালেঞ্জে প্রতিযোতায় ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষ নানাভাবে যুক্ত হয়েছেন। তাই হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশে আরো ব্যাপকহারে বাড়তো। এ কারনে বিজ্ঞান সম্মতভাবে আটটি ধাপে সঠিক নিয়মে হাত ধুতে হবে।”

বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার (সমাজ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য) ও প্রাক্তন সিনিয়র সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ড. মোঃ শাহ্ কামাল বলেন, “ইউএনডিপি, বাংলাদেশ স্কাউটস ও ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ-এর সম্মিলিত এ উদ্যোগটি মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে। তবে এটিই শেষ নয়, ভবিষ্যতেও আরো ধরনের উদ্যোগ নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। ”

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, “ করোনা মোকাবেলায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে আছে। এটি একটি বিশ্বব্যাপী মোকাবেলা। তাই বঙ্গবন্ধুর মতো বলতে হবে আমাদের করোনা মোকাবেলায় দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

রেকিট বেনকিজার -এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিশাল গুপ্তা বলেন, “ সম্মিলিত প্রতিযোগিতার উদ্যোগটি যে সফল হয়েছে তা প্রতিযোগিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া উচিত।”

ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ-এর শুভেচ্ছা দূত চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ বলেন, “দেশের এই করোনাকালীন মুহূর্তে আমাদের সবারই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। করোনা মোকাবেলা এটা কারও একার যুদ্ধ না। এটা একটি সম্মিলিত যুদ্ধ। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা ও করোনার স্বাস্থ্যবিধি আমাদের সকলকে মানতে হবে নিজের স্বার্থে এবং সর্বোপরি দেশের স্বার্থে।”

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি খুরশিদ আলম, ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক মোঃ রাকিব উদ্দিন, বিচারক প্যানেলর আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয় কমিশনার (জনসংযোগ, প্রকাশনা ও মার্কেটিং) সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার, বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন, বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় উপ কমিশনার (স্বাস্থ্য) ও ডিজাস্টার কো অর্ডিনেশন সেলের সমন্বয়ক মোঃ জামাল উদ্দিন শিকদার, বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক আরশাদুল মুকাদ্দিস প্রমুখ।

পছন্দের আরো পোস্ট