শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে করনীয়

মোঃ জিয়াউল হুদা হিমেল।

মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে রয়েছে সব বয়সী মানুষ। বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা মানসিক স্বাস্থ্য, এরমধ্যে শিশু, কিশোর, যুব বয়সীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যা মোকাবেলা করে। করোনা মহামারীর কারণে গৃহবন্দী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী।

এ বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠী বন্ধুদের সাথে গল্প, খেলাধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে বেশ কিছু সময় কাটান কিন্তু এই গৃহবন্দি হওয়ার কারণে সকল ধরনের চলাফেরা মেলামেশা কথাবার্তা সময় কাটানো বন্ধ, তাই তারা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছে না শিশু-কিশোররা তাদের মনের কথা, ভাবের আদান-প্রদান, জানা-অজানা বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে কৌতুহলী থাকে এবং এই কৌতুহল নিবারনের জন্য তাদের স্কুল কলেজ সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তার বিপরীতে এখন পরিবারের মধ্যে চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ, এতে করে তাদের মানসিক চাপ অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে তাই শিশুকিশোর যুবদের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের মানসিক অবস্থা ভালো রাখতে পারি! এই বিষয়ে পরিবারের সকলের সচেষ্ট হতে হবে। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক যারা রয়েছেন তারাও মানসিক চাপে রয়েছেন, উপার্জনক্ষম হয়ত আয় উপার্জন নিয়ে অধিক চিন্তায় আছেন। তারপরও আপনার সন্তান, ছোট ভাই-বোন বা অন্য শিশু-কিশোর সদস্যদের প্রতি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের একা একা বেশিক্ষণ থাকতে দেয়া যাবে না। শিশু-কিশোরদের সাথে কথা বলুন, ওদের সাথে সময় কাটান। শিশু-কিশোররা অনেক প্রশ্ন করবে, জবাব দিন, বুঝিয়ে বলুন।

বাড়িতে পারিবারিক ভাবে খেলা ধুলার ব্যবস্থা করুন। পড়ালেখা ও করাতে হবে, তবে ভালো রেজাল্ট “জিপিএ ৫” ইত্যাদি নিয়ে চাপাচাপি করবেন না। উদাহরণ স্বরূপ প্রতিবেশি বা আত্মীয় কারো সন্তান এর ভালো রেজাল্ট বা প্রাপ্তি নিয়ে কথা শোনাবেননা বা তুলনার করবেন না। ধর্মীয় কাজে যুক্ত করুন। সংসদ টিভির ক্লাস রুটিন দেখে আপনার সন্তানের ক্লাসটি করতে সহযোগিতা করুন। অনলাইনে সমাজিক সংগঠনের সচেতনতা মূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করুন। কোন বিষযে পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোরদের আড়ালে তা সমাধান করার চেষ্টা করুন। তাদের উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

দাদা দাদি বা নানা নানী বা ওই বয়সী সদস্যদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পূর্বপুরুষ দের গল্প করতে বলুন শিশুরা গল্প শুনতে ভালোবাসে, তাদের সময় ভালো কাটবে এবং পারিবারিক ইতিহাস জানবে।

একসাথে খাবার খাবেন, গল্প করবেন , টিভি দেখতে পারেন এতে করে পারিবারিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। নতুন কিছু শেখার জন্য উৎসাহ দেবেন, রান্না শেখাতে পারেন, ঘরের কাজ করার জন্য আগ্রহী করে তুলুন। ডিজিটাল ডিভাইস এর সঠিক ব্যবহার করুন, ইন্টারনেট এর ব্যবহার করে বন্ধু, আত্মীয়দের সাথে  যোগাযোগ আড্ডা ব্যবস্থা করে দিন। তবে মনে রাখবেন ডিজিটাল ডিভাইস এর উপর বেশি নির্ভরতা একাকীত্ব তৈরি করবে, সামাজিক পারিবারিক জীবন থেকে দূরে নিয়ে যাবে। এর কারণে কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যথাযথ ব্যবহার ও সময় উপযোগি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ জরুরি ভাবে খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চাদের বকাঝকা, মারধর করা বা শাস্তি দেয়ার বেপারে খুব সাবধান থাকতে হবে। শারীরিক প্রহার শিশুদের মানসিক ভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। অভিভাবকগণ আপনাকে একাধারে বন্ধু, সহপাঠি, খেলারসাথী, শিক্ষক ও অভিভাবক সব ধরনের আচরণ করতে হবে। আপনার পরিবারের শিশুকিশোর আপনার সন্তানটি ভালো থাকলে হাসি খুশি থাকলে আপনার মানসিক অবস্থা ও ভালো থাকবে।

মোঃ জিয়াউল হুদা হিমেল

মোঃ জিয়াউল হুদা হিমেল।

ইয়ুথ ইক্টিভিস্ট ও মাস্টার ট্রেনার, মেন্টাল হেলথ এওয়ারনেস প্রোগ্রাম ও ডেপুটি ন্যাশনাল কমিশনার, বাংলাদেশ স্কাউটস।

পছন্দের আরো পোস্ট