যেমন কাটলো জবি শিক্ষার্থীদের ঈদ

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনার রাজত্ব। কোটি কোটি মানুষের আর্তনাদে প্রকম্পিত বিশ্বের প্রতিটি জনপদ। কিছুটা অস্বাভাবিকতার ছোঁয়ায় সব কিছুই এলোমেলো মনে হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) দাপটে মানুষ যখন প্রিয়জন হারানোর শোকে ব্যথিত ঠিক তখনি খুশির বার্তা নিয়ে উপস্থিত মুসলিম জগতের সবচেয়ে আনন্দের দিন পবিত্র ঈদুল-উল-আযহা। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জীবনে অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব হলো ‘ঈদ-উল আযহা’। এই দিনে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে তাদের প্রাণ।

কিন্তু করোনাকালীন ব্যতিক্রমভাবেই উদযাপিত হয়েছে এই ঈদ। ঈদের আনন্দ কিছুটা উপভোগ করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে যার মতো করে চেষ্টা করেছে। করোনাকালীন এই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের কেমন কাটলো ঈদ? বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ঈদ ভাবনা, আয়োজন, উদযাপন তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক- মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুজন আহমেদ বলেন, আমাদের মুসলীমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বলতে বছরে দুইটি ঈদ। ঠিক চোদ্দ কি পনেরো বছর আগে যখন গ্রামে শৈশবের সময় কাটাতাম তখন ঈদ আসছে আসছে জেনে নিজের মধ্যে একটা অন্যরকম আনন্দ কাজ করতো। সেই সময়ের কুরবানি ঈদ মানেই তো ভয়ে ভয়ে দূর থেকে গরু জবেহ দেখা কিংবা জবেহর পর সেই গরুর জন্য মন খারাপ করে থাকার গল্পগুলো অসাধারণ। বাড়ি ভর্তি মানুষ মিলে গোস্ত কাটাকাটি করে ব্যস্ত দিন পার করা আর তারপর পেট পুরে খাওয়া-দাওয়া। দিনভর খেলাধূলা আর হৈচৈ করে সময় কাটানো মূহুর্তগুলো জানান দেয় শৈশব কত সুন্দর।

বর্তমান বড়বেলা গুলো দেখে বড় চিন্তা হয়। আরে সেইদিনই তো রমজানের ঈদ পালন করলাম করোনা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আর এখনই কুরবানির ঈদের দিন ও ঘনিয়ে চলে আসলো। দিন কত দ্রুত পার হয়ে যায়। হিসেবের খাতায় বয়স বাড়ছে নাকি জীবন থেকে বয়স কমছে সেটাই বেশি ভাবায়। আহা সময় বড় বেমানান। ঈদ মানেই সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করা। বড় বড় ঈদ জামাত, কোলাকুলি-কুশল বিনিময় কিংবা আত্মীয় স্বজন পাড়া-প্রতিবেশির বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়া, পুরনো হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে আড্ডাগুলো বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মাঝে অনেকটাই সীমাবদ্ধতার মুখ দেখবে ।

কিন্তু তারপরেও আমাদেরকে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পরিবারের সাথে আনন্দ টা খুঁজে নিয়েছি। পশু কুরবানির মধ্যে দিয়ে আমরা সবাই আল্লাহর নৈকট্য লাভ আর গরীব-দুঃখীর হক আদায়ের চেষ্টা করবো। ত্যাগের মহিমায় আমাদের মাঝে শুদ্ধতা আসুক। সবার ঈদ ভরে উঠুক আনন্দ ও পূর্ণ মহিমায়। পরিশেষে বলবো, মহান আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা করুক।

মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসমা আলী মিম বলেন, মুসলমান সম্প্রদায়ের অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব “ঈদ-উল-আযহা”। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয় পশুকে কুরবানী করা হয় এই দিনে। বস্তুত মহামারীতে সকলের পক্ষে কুরবানী করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সামর্থ্যবানদের উচিৎ সমাজের সকল অসহায়দের নিয়ে কুরবানি করা। দিনটিকে নিয়ে সবার মধ্যেই কিছু চিন্তাধারা, পরিকল্পনা কাজ করে। চিন্তা পরিকল্পনা একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য একটাই, আনন্দের সাথে দিনটিকে উপভোগ করা। আমার কাছে ঈদ মানে হলো আপনজনের ঘরে ফেরার গল্প, সকলের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার গল্প।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে ঈদের সেই চিরচেনা আমেজ। প্রতি মুহূর্তে নতুন সংক্রমণ, নতুন মৃত্যুর খবরে সবাই যেন আতঙ্কিত। চারদিক যেনো করোনা আক্রান্ত ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের হাহাকারে ঘেরা। এমন অসুস্থ পৃথিবীতে যে ঈদ পালন করতে হবে তা কখনো ভাবিনি। করোনা আতংকে সব মিলিয়ে এবারের ঈদ আমার কাছে বর্ণহীন ফ্যাকাসে মনে হয়েছে। করোনাকালীন এবারের ঈদের পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চাচ্ছি। ঈদের দিন আম্মুকে রান্নার কাজে সহযোগিতা ছাড়াও অনলাইনে বন্ধুদের সাথে ঈদের সৌহার্দ্য বিনিময় করেছি। এ পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত সবার পাশে থাকা। যথাসম্ভব নিজের অবস্থান থেকে অন্যকে সাহায্য করা। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, পৃথিবী যেন তার আগের চিরচেনা রূপে খুব শীঘ্রই ফিরে আসে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবাহ্ বলেন, “ঈদ” মানেই আনন্দ। জীবনের নানা সময় নানাভাবে ঈদ পালনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। শৈশবের ঈদ গুলো ছিল একরকম, কৈশোরের ঈদগুলো ছিল অন্য আরেকরকম। তরুণ হওয়ার পর ঈদগুলো আরেকধরণের আনন্দ বয়ে আনতো। একবয়সের আনন্দগুলো একেকরকমের হলেও আনন্দ ঠিকই হতো। শৈশবের ঈদের আনন্দগুলো শুরু হতো মেহেদি ও নতুন জামা দিয়ে।

তারপর কৈশোরের দিনগুলোতে আরো সংযোজন ঘটলো ঈদ কার্ড কেনা। টিফিনের টাকা জমিয়ে হরেকরকমের ঈদ কার্ড কিনে ফেলতাম, তারপর বন্ধুদের ঈদের দাওয়াত দিতাম। তারপর ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর ঈদ মানে হয়ে উঠলো ঈদের ছুটি পাওয়া, টিকেট কাটার জন্য ব্যস্ততা অর্থাৎ বাড়ি আসার পূর্বপ্রস্তুতি। দলবদ্ধ হয়ে আমরা সবাই ফিরতাম নাড়ির টানে। একসাথে ফিরতাম ট্রেনে অথবা বাসে একঝাঁক তরুণ-তরুণী। ঈদের এই মজাটাও ছিল অন্যরকম। এবার এসবের কিছুই নেই। চারমাসের বেশী হলো বাড়ি এসে বসে আছি। একঘেয়ামিতে ভরপুর জীবন। করোনা ভাইরাসের কারণে ১৮ মার্চ ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি এসেছি। মাঝখানে চলে গেলো “ঈদ উল ফিতর”। আবার চলে এলো “ঈদ উল আযহা”।

এবার আর টানটান উত্তেজনা নেই। চারপাশের কিসের যেন অশান্তি! থমকে গেছে সবকিছু। এবার ঈদের জন্য নেই কেনাকাটা, নেই আলাদা উত্তেজনা। তারপরও সুখের সংবাদ এই যে এখনও টিকে আছি, বেঁচে আছি, পরিবারের সাথে আছি। আশারাখি ঈদের পর হয়তো সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই মহামারি কেটে যাবে। আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবো।

ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সাব্বির বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ-খুশির আমেজ। এই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে কত পরিকল্পনা! প্রতি বছর দিনটিকে ঘিরে মনের ভেতরে একটা ছটফটানি শুরু হয়ে যায় সবার মাঝে। বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর জন্য অর্থনৈতিক দুরবস্থা দেখা দেয়ার কারণে সমস্ত ধর্মীয় উৎসব উৎযাপনে ও বিরূপ প্রভাব পড়বে। যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে তাই প্রতি বছর ঈদে সবাই যেমনটা উপভোগ করে, এবার তেমনটা উপভোগ করতে পারবে না।

ঈদ নিয়ে এবার তেমন কিছুই ভাবনার নেই। প্রতি বছর ঈদ যেমন ভাবে উদযাপিত হয়, এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে হয়েছে। যদিও এবারের ইদুল আযহা ইদুল ফিতরের ন্যায় কেটেছে নানা প্রতিকৃলতার মধ্যে! এবারের ঈদের রুটিন ছিলো একটু ভিন্ন, ঈদের দিন ফজরের আযানের আগে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে মসজিদে গিয়েছিলাম ফজরের নামাজ পড়তে, নামাজ শেষ করে কবর জিয়ারত করতে গেলাম, যদিও জিয়ারতে খুব বেশি মানুষ হয়নি অন্য বছরের ন্যায়, কারন করোনা দূর্যোগ। জিয়ারত শেষ করে বাসায় আসলাম, গোসল করে প্রস্তুত হয়ে নামাজ পড়তে যাওয়ার পৃর্বে একটি ভিন্নরকম পরিকল্পনা ছিল সেটা হলো আব্বুকে এবার আমার ঈদ সেলামি দেওয়া, আব্বু আমাকে পাঁচশ টাকা সেলামি দিলো যা ছিলো আমার ঈদ কেন্দ্রিক সকল আনন্দের সেরা, আর সেটা কতটুকু আনন্দের ছিলো তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। অতঃপর ঈদের নামায পড়তে মসজিদে গেলাম, সবাইকে দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়তে হলো নামাজ শেষে কোলাকুলি করা হয়নি যেটা নামাজ কেন্দ্রিক সবচেয়ে আনন্দের ছিল! অতঃপর নামাজ শেষ করে খুব দ্রুত বাসায় চলে আসলাম কুরবানী করতে হবে। ইমাম সাহেবের ছেলে হওয়ার সুবাদে কয়েকটি কুরবানীর পশুকে আমার নিজেকেরই জবাই করতে হলো।

অতঃপর গোশত কাঁটা কেন্দ্রিক সকল কাজ শেষ করে কুরবানির মাঠ থেকে গোশত বাসায় নিয়ে আসলাম, এরপর আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মাঝে গোশত বিতরন করলাম। সব কিছুর মধ্যে একটি শূন্যতা অনুভূব করতেছিলাম কারন করোনা দূর্যোগের কারনে বড় বোন আমাদের বাসায় আসতে পারেনি আর এবার কোথাও ঘুরতেও যাওয়া হয়নি, ঈদের ঘোরাফেরা না হলে কেমন যেনো ঈদ মনেই হয়না। পরিশেষে অপেক্ষায় আছি সুস্থ একটি পৃথিবীর যেই পৃথিবীর মানুষগুলোর থাকবেনা করোনা অতংঙ্ক, চলাফেরায় থাকবে না কোনো বাঁধা, পৃথিবী হবে আগের মতো স্বাভাবিক। আল্লাহ আমাদের তার রহমতের চাদর দিয়ে জড়িয়ে নেবে এই কামনা করি।

আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন মৌরী জানায়, করোনায় এবারের ঈদে সবকিছু জানি কেমন থমকে গেছে!! করোনার ভয় মানুষের মন থেকে অনেকটাই কমে গেছে কিন্তু তাও মানুষের মধ্যে সেই দুশ্চিন্তা যেন ঘর পেতে বসেছে!! দীর্ঘ ৪ মাসে গৃহবন্দিত্বের সবাই জানি কেমন বিরক্তিকর জীবনে চলে এসেছে! এই কারনেই ঈদের আলাদা কোনো আমেজ পায়নি। অন্য সময় তো মানুষ বহুদিন পরে বাড়ি ফিরে ঈদের আমেজ, গরু কিনাকাটা সব মিলিয়ে পুরোই আলাদা একটা আনন্দের জন্ম হয়! কিন্তু এবারের ঈদটা পুরোটাই ভিন্ন।

পৃথিবী থমকে গেছে, তার সাথে সাথে মানুষের আনন্দগুলো থমকে গেছে। উচ্ছ্বাস নেই, নেই আগের মতো আর সেই আমেজটা। তবুও সবাই এই গৃহবন্দীটাকেই আপন করে নিতে হবে! পরিবারের মানুষ গুলোর সাথে ঈদের আমেজ ভাগাভাগি করে নিতে হবে! কিন্তু হ্যা! ঈদের আনন্দে এতোটাও মেতে থাকা যাবে নাহ! পরিবারের সবার কথা চিন্তা করে করোনার বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সবাই নিদিষ্ট দূরত্ব ও সকল নিয়ম মেনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে মহামারী এখনো সেরে উঠি নি! করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত সবার পাশে থাকা। যথাসম্ভব নিজের অবস্থান থেকে অন্যকে সাহায্য করা। নির্মমতার করোনাকাল পেরিয়ে নতুন ভোর আসবেই। আমরা সফল হবোই, ইনশাআল্লাহ। শুধু এই সময়টুকু আমাদের সাহস আর ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই আমাদের কুরবানি। সেই সাথে সমাজের অসহায়দের মাঝে কুরবানির পশুর সুষম বন্টন এবং নিজেকে কোলেস্টেরল মুক্ত খাবার থেকে যথাসম্ভব বিরত রেখে মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া জ্ঞাপনের মাধ্যমে কেটেছে আমাদের ঈদ। দোয়া করি সকলের ঈদ পরবর্তী সময় যেনো খুব ভালো ভাবে কাটে।

দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সাকা শিমু বলেন, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরে যখন ঈদের দিনটি চলে আসে, তখন এই খুশি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। ঈদের দিনটি আসলে অনেক বেশি উপভোগ করার দিন। খাওয়া- দাওয়া, ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেওয়া এসবের মাধ্যমে সুন্দরভাবে কেটে যেত দিনটি। স্কুল-কলেজের সময়টাতে ঈদের আগে অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতাম কবে ঈদের ছুটি দেওয়া হবে। আবার ছুটি দিলে মন খারাপও হতো, কেননা অনেক দিন বান্ধবিদের সাথে দেখা হবে না। সবমিলিয়ে তখন সময়টা অন্য রকম যেতো। ভার্সিটি লাইফ শুরু হওয়ার পরে ভেবেছিলাম এবারের ঈদটা অন্য রকম কাটবে।

ঢাকা থেকে বরিশাল আসবো, এটা ভেবে ভেবে কেমন জানি একটা উওেজনা কাজ করেছিলো। কিন্তু ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসে আজ আমরা সবাই ঘরবন্দী এক অসহনীয় জীবন কাটাচ্ছি। গত ১৬ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। অফিস-আদালতও বন্ধ রাখা হয়েছিল দীর্ঘদিন। পাশাপাশি অনেক রাস্তাঘাটও লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় হোম কোয়ারান্টাইনেই আমাদের সময় পার করতে হচ্ছে। এই গৃহবন্দি বিরক্তিকর সময় কাটাতে কাটাতে কখন যে ইদ চলে এলো টেরই পেলাম না।

অন্য বছর ঈদের সময়টাতে কেনাকাটার যে ধুম পরে, এবার আর তাও হলো না। আমি ও আমার পুরো পরিবার গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করি প্রতি বছর। কিন্তু করোনার জন্য এবার আর বাড়িতে যাওয়া হলোনা। তাই ঈদের দিনটি ঘরে বসেই কাটাতে হবে বলে ছিলো না বিশেষ কোনো পরিকল্পনাও। কোরবানির ঈদে দুপুর থেকে ব্যস্ততা বেশি থাকে। তাই সকাল থেকে দুপুর অবধি নিজের মতো করে কাটিয়েছি। ঘর গোছালাম, টিভি দেখলাম, নতুন কিছু ছবি দেখলাম, বন্ধু বান্ধবিদের সাথে ফোনালাপ করে ঈদের শুভেচ্ছা জানালাম। দুপুর থেকে মাকে সাহায্য করা শুরু করলাম।

পরিবারের সকলের সাথে আনন্দ-মজার কিছু সময় কাটাবো। আমি মনে করি ঈদ আনন্দ সবার জন্য সমান। তাই নিজের যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে কিছু অসহায়-দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানোর চেষ্টা করেছি ‘সেভ দা টুমুরু’ গ্রুপ এর মাধ্যমে। এবারের ঈদটা একটু ব্যতিক্রম ভাবেই কাটেছে সবার। এই সময়ে নিজের সুস্থ থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। তাই সকলে ঘরে থেকে, সুস্থ থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন এতটুকুই প্রত্তাশা রইলো।

পছন্দের আরো পোস্ট