অনলাইন ক্লাসকে সবার উপযোগী করার উপায়ঃ একটি প্রস্তাবনা

আঞ্জুমান আরা

কোভিড-১৯ এর কারনে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মাস বা ১ বছরের সেশনজটে পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।করোনা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব কবে নাগাদ শেষ হবে তা কারোই জানা নেই।এই মুহূর্তে সেশনজট নিরসনে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।ইতোমধ্যেই, ইউজিসি কর্তৃক নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে।

 

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছে এই অনলাইন ক্লাস করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তারা অনেকেই বলেছে গ্রামে নেটের স্পীড কম থাকায় প্রচুর বাফারিং হয় এবং কথা স্পষ্ট আসে না।এটা আরো বিরক্তিকর বিষয় যে এক লাইন বুঝলে পরের পাঁচ লাইন স্পষ্ট বুঝা যায় না।

 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ গ্রামে অবস্থান করে। আমরা সকলেই অবগত আছি যে গ্রামাঞ্চলে নেটের স্পীড একেবারে নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকরাও তাদের সময় নষ্ট করবে এবং বার বার বাফারিং এর কারনে ছাত্র শিক্ষক উভয়ই তাদের মনোযোগ ও আগ্রহ হারাতে পারেন।আর নেটের স্পীডের কারনে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যুক্ত হতে পারবে না। পুরো বিষয় টা হয়ে যায় “উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মত”।

এবার আসি অনলাইন ক্লাসের বিকল্প একটি চিন্তায়:

শিক্ষকরা যে সময় ধরে অনলাইনে ক্লাস নিবেন ঠিক এর চাইতে কম সময়ে যদি একটা নির্দিষ্ট টপিকের উপর লেকচার দিয়ে শিক্ষক নিজে ভিডিও বানায় আর ঐ ভিডিওটা যদি ডিপার্ট্মেন্টের CR কে দেয়।CR উক্ত ভিডিও গুলো ফেইসবুক বা মেসেঞ্জারের ইনফরমেশন গ্রুপে পোস্ট করবে।ভিডিও পেয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মত করে ভিডিও গুলো দেখে নিলো।উক্ত বিষয়ের শিক্ষক ভিডিও গুলো দেখে শেষ করার জন্য ছাত্রছাত্রীদের একটি ডেডলাইন দিয়ে দিলো।আর সেই ডেডলাইনের পরেই শিক্ষক জুম অ্যাপের মাধ্যমে বা গুগল মিটিংয়ের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আলোচনা করল যাদের এরিয়াতে নেটের স্পীড ভালো।সেক্ষেত্রে যারা একান্তই আলোচনা ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না তারা তাদের বন্ধুদের কাছে তাদের প্রশ্ন দিলো যে,স্যারের কাছে তার হয়ে প্রশ্ন টা করতে। স্যার ওই আলোচনা ক্লাসে সকল প্রশ্নের উত্তর দিবে। উল্লেখ্য যে, গুগল মিটিংয়ের ক্লাস রেকর্ড করা থাকবে।এর পরেও যদি কারো প্রশ্ন থাকে তাহলে শিক্ষককে ইমেইল, ফোনকল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিতে পারে।

 

একটা নির্দিষ্ট টপিকের উপর ভিডিও দেওয়া শেষ করে যদি শিক্ষক ঐ টপিকের উপর একটি হাতে লিখা সারমর্ম(Summary) এবং কিছু রেফারেন্স শিক্ষার্থীদের মাঝে দেয় , যাতে একান্তই যারা এই ভিডিও গুলো দেখতে পারবে না তারা ঐ সারমর্মের এবং রেফারেন্সের(রিডিং মেটেরিয়ালস) মাধ্যমে ধারনা পেলো।
শুধুমাত্র ক্লাসের উপর গুরুত্ব না দিয়ে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ের উপরও গুরুত্ব দিয়ে সেমিষ্টার এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
যেমন:শিক্ষকের প্রদানকৃত ভিডিও এবং সারমর্মের উপর ভিত্তি করে একটা গুরুত্বপূর্ণ এসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীদের দেওয়া যেতে পারে।

এতে নেট খরচও কম হবে এবং শিক্ষার্থীরাও সত্যিকারে উপকৃত হবে।

এইবার সবার মনে একটা স্বাভাবিক চিন্তা আসবেই যে, হয়ত ছাত্রছাত্রীরা রেকর্ডেড ক্লাস করবে না।ক্লাস না করলে এত কষ্ট করে লাভ কি?
একজন শিক্ষার্থী যখন জানবে স্যারের প্রদানকৃত ভিডিও ক্লাস গুলো এবং রিডিং মেটেরিয়ালসের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে তাকে এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে।তখন যেকোন শিক্ষার্থীই ক্লাস করতে বাধ্য হবে।এভাবেই হয়ত একটা সেমিষ্টার এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

এভাবে যদি শুরু করা যায় তাহলে নেটের খরচ কম হবে যেহেতু আমরা সবাই জানি জুম অ্যাপে ক্লাস করার জন্য অনেক মেগাবাইটের প্রয়োজন। জুম অ্যাপে ক্লাস করলে যত খানি মেগাবাইট খরচ হবে তার থেকে কম মেগাবাইট দিয়ে ভিডিও গুলো দেখে শেষ করা যাবে এবং কোন প্রকার বাফারিং ছাড়াই। এটা আমার একান্তই নিজস্ব মতামত।

 

আঞ্জুমান আরা
শিক্ষার্থী, স্মাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি), গোপালগঞ্জ।

পছন্দের আরো পোস্ট