“ঘুড়ি উড়ানো – বিনোদনের এক অনন্য মাত্রা”

কামারুজ্জামান শানিল

বিকেলের মিষ্টি রোদ যখন নীলচে আকাশটাকে সোনালী আভায় পরিপূর্ণ করে দেয় ঠিক তখন যদি দৃষ্টিগোচর হয় আকাশের বুকে রঙ বেরঙের ঘুড়ির উড়াউড়ি, অনুভুতিটা কেমন লাগবে? সত্যিই অসাধারণ লাগবে। নীল আসমানের বুকে এই সৌন্দর্য দেখে হৃদয়ে অর্কেস্ট্রা বাজবে না এমন হোমোস্যাপিয়েন্স এই গ্রহে খুঁজে পাওয়া গেলে সে হয়ত মানবরূপী এরিরা ফিফটি ওয়ানের বাসিন্দা। ঘুড়ি উড়ানো একটি খেলা হলেও এটাকে একটি শখের কাতারে ফেলা যায়। ঢাকা শহরে সাধারণত গ্রীষ্মকালের অল্প কয়েকদিন ঘুড়ি উড়ানোর প্রবল মাতামাতি দেখা গেলেও গ্রামাঞ্চলে শীতের বিদায় লগ্ন হতেই এর আগমন ঘটে, আর বৃষ্টির মৌসুম আসার পূর্ব অবধি ঘুড়ি উড়ানোর আমেজ থাকে।

ঘুড়ির আবিষ্কার নিয়ে মজার একটি ঘটনা রয়েছে। যদিও ঘটনার সত্যতা নিয়ে অনেক অভিজ্ঞ ব্যাক্তিই সন্দিহান।

ধারনা করা হয়ে থাকে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ অব্দে চীনা দার্শনিক মোজির হাত ধরেই ঘুড়ির আবিষ্কার। তৎকালীন সময়ে চীনারা মাথায় এক ধরনের পাতলা কাপড়ের টুপি পরিধান করত। টুপিগুলো এতটাই পাতলা ছিল যে সামান্য বাতাসেই উড়ে যাওয়ার প্রবনতা ছিল। এমন সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে এক প্রৌঢ় ব্যাক্তি একটি সুতার মাধ্যমে থুতনী আর কানের সহিত টুপিখানাকে বেঁধে রাখতেন। একদিন মোজি দেখলেন ওই বৃদ্ধ লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, আর তার টুপির সুতো ঢিলেঢালা হওয়ার দরুন মাথার উপরে টুপিটা বাতাসে উড়ছিল। এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর তিনি সুতো দিয়ে কোনো কিছু উড়ানোর ধারনাটি পেয়ে যান। অবশ্য এর পরই আমাদের এখনকার শৈল্পিক ঘুড়ি চলে আসে নি। চীনারা তখন দূরত্ব পরিমাপ করা, সংকেত আদান-প্রদান করা, বাতাসের গতি নির্ণয় করা ইত্যাদি কাজে ঘুড়ি ব্যাবহার করতেন। এমনকি চীনের শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার জন্য কাঠের তৈরি বিশেষ ধরনের এক ঘুড়ির সাথে বিস্ফোরক বেধে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এভাবেই মূলত ঘুড়ির উদ্ভব হয় এবং কালক্রমে ইউরোপীয়দের মাধ্যমে এটি একটি শখ এবং খেলায় রুপান্তরিত হয়।

ঘুড়ি আবিষ্কারের পর অনেক বছর যাবৎ ঘুড়ি তৈরি করা হত হাল্কা তন্তুজাতীয় সিল্কের কাপড় এবং বাঁশের কঞ্চি দিয়ে। কালের বিবর্তনে যখন ঘুড়ি উড়ানো একটি বিনোদনে উন্নীত হলো, তখন কাপড়ের পরিবর্তে কাগজ ব্যাবহার করা শুরু হয়। আর সেই কাগজ হয়ে থাকে খুবই পাতলা, যাতে ভারী হয়ে না যায় আবার ছিড়েও না যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সৌন্দর্য বর্ধনের সার্থে রঙিন কাগজ ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে নানা রঙের এবং নানা আকৃতির ঘুড়ি উড়ানো হয়ে থাকে। আকর্ষণীয় সব আকৃতিতে তৈরি ঘুড়ির রয়েছে বাহারি সব নাম। যেমন ডায়মন্ড ঘুড়ি, বার্ন ডোর ঘুড়ি, ডোপিরো ঘুড়ি, রোলার ঘুড়ি, স্লেড ঘুড়ি, বক্স ঘুড়ি, অক্টোপাস ঘুড়ি, ডেল্টা ঘুড়ি ইত্যাদি। ঘুড়ি উড়ানো যেহেতু একটি খেলা, তাই এই খেলায় প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য ঘুড়ি কাটাকাটি করা হয়। আর তাই বিশেষ ধরনের সুতোর সাথে মাঞ্জা লাগিয়ে সুতোকে ধারালো করা হয়। মাঞ্জা হচ্ছে কাঁচ ও আঠা মিশ্রিত এক বিশেষ ধরনের পদার্থ যা সুতোয় লাগিয়ে শুকিয়ে নেয়া হয়।

 

এবার ঘুড়ি নিয়ে কিছু অজানা তথ্য জেনে নেই। ১৭৪৯ সালে স্কটিশ দুই বিজ্ঞানী টমাস মেলভিন ও আলেক্সান্ডার উইলসন ঘুড়ির গাত্রে থার্মোমিটার যুক্ত করে আকাশে উড়িয়ে পৃথিবীর উপরের স্তরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ১৮৯৪ সালে ঘুড়ির সাথে এনিমোমিটার যুক্ত করে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩০০ ফুট উচ্চতায় পাঠিয়ে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডগলাস আর্কিবল্ড বাতাসের গতিবেগ পরিমাপের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ২০১১ সালে ব্রিস্টল ইন্টারন্যাশনাল কাইট ফেস্টিভ্যালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের ঘুড়িটি প্রায় ২০ মিনিট যাবৎ আকাশে উড়েছিল, যার আয়তন ১০৯৭১ বর্গফুট।

 

ঘুড়ি উড়ানো একাধারে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং সকল বয়সীদের বিনোদনে পরিণত হয়েছে। পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা হচ্ছে ঘুড়ি উড়ানো। পৌষ সংক্রান্তিতে পুরান ঢাকায় এটি মহা ধুমধামে পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বকর্মা পূজোয় ঘুড়ি উড়ানো হয়ে থাকে। তবে ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় এশীয় দেশগুলোতে ঘুড়ি উড়ানোর প্রচলন বেশি। সবচেয়ে বেশি ঘুড়ি উড়ানো হয় জাপানে। একদা জাপানে ঘুড়ি উড়ানোর প্রবনতা এতটাই তুঙ্গে উঠে যায় যে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম বন্ধ করে শুধু ঘুড়ি উড়াত এবং জাপান সরকার সাময়িক সময়ের জন্য ঘুড়ি উড়ানো নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়। ঘুড়ি উড়ানো নিঃসন্দেহে একটি মজার অভিজ্ঞতা। শহরের ঘুড়ি উড়ানো আর গ্রামের ঘুড়ি উড়ানোর মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। শহরে সাধারণত ছোট আকারের এবং নানা ধরনের নকশায় তৈরি ঘুড়ি উড়ানো হয়ে থাকে এবং কাটাকাটি তথা খেলার মাধ্যমে উপভোগ করা হয়। কিন্তু গ্রামে সাদামাটা নকশার অনেক বড় আকারের ঘুড়ি উড়ানো হয়। বক্স ঘুড়িই বেশি উড়ানো হয়। তবে খাচার মত তৈরি দ্বিমাত্রিক আকারের এক ধরনের ঘুড়িও উড়ানো হয়, আঞ্চলিক ভাষায় একে “চঙ্গা ঘুড্ডি’ নামে অভিহিত করা হয়।

 

ঘুড়ি নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা খুব মজার এবং রোমাঞ্চকর। ছোটবেলায় গ্রামের মানুষদেরকে এক অভিনব পদ্ধতিতে ঘুড়ি উড়াতে দেখেছি। বিশাল আকারের দ্বিমাত্রিক ঘুড়িগুলো (চঙ্গা ঘুড্ডি) বাদামী রঙের কাগজ দিয়ে তৈরি করা হত। আকাশে উড়ার সময় এগুলো খুবই মনোমুগ্ধকর লাগত। আর ঘুড়ির নিচের অংশে বড়, মাঝারি পুরুত্বের অথচ হালকা দড়ি লাগানো থাকত যাকে বলা হত লেজ। এই লেজের কারনে ঘুড়ির ভারসাম্য বজায় থাকত, সেই সাথে সৌন্দর্য আরো বেড়ে যেত। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো প্লাস্টিকের বস্তা থেকে তন্তু খুলে নিয়ে ঘুড়ির উপরের দুই প্রান্তের সাথে সটান বেঁধে দেয়া হত। উপরে উড়ার সময় এই তন্তুগুলো বাতাসের সাথে কম্পন তৈরি করে এক ধরনের ব্যতিক্রমী শব্দ তৈরি করত। নিচে থেকে শব্দগুলো অনেকটা বেহালার মত লাগত। শেষ বিকেলে বিলের মধ্যে ধু ধু বাতাসের মধ্যে সারি সারি খেজুর গাছের নিচে দাড়িয়ে এমন ঘুড়ি উড়ানো, সেই সাথে এমন বেহালার ন্যয় সুর, সে এমন এক অনুভুতি যা কোনো উপমা দ্বারাই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে সন্ধ্যার সময়। সন্ধ্যার কিছুক্ষন পূর্বে ছোটবড় সবাই যার যার ঘুড়ি নিয়ে মাঠে চলে আসত। এরপর সবার ঘুড়িতে নানা রঙের বাতি লাগানো হত। আঁধার ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সব ঘুড়ি আকাশে উড়ানো হত। তখন সন্ধ্যার আকাশটা যেন নানা রঙের খেলায় মেতে উঠত। সে যে কেমন অনুভূতি তা লিখে প্রকাশ করার মত নয়। সেই বেহালার ন্যায় সুর তো আছেই, সেই সাথে ধু ধু বাতাসের মধ্যে দাড়িয়ে সবাই গলা ছেড়ে গান ধরে। আর আকাশে তো রঙের মেলা চলছেই। এমন এক মধুময় মুহূর্ত যেকোনো মানুষের হৃদয়ে দোলা দিবে।

 

বড়ই শূণ্যতা অনুভব করি সেই দিনগুলোর। আবারও যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলো! সেই বিকেল বেলায় ঘুড়ি আর লাটাই নিয়ে দৌড়ে চলে যেতাম মাঠে। বন্ধু ঘুড়ি ছাড়ার সাথে সাথে লাটাই হাতে দৌড় দেয়ার সময় হাফপ্যান্ট পরিধান করা উন্মুক্ত শরীরে বাতাস লাগলে যেন শিউরে উঠতাম। দখিনা বাতাসে যখন বাহারি রঙের ঘুড়ি উড়ে নীলাম্বরখানি রঙিন করে দিত, তখন যেন প্রকৃতি এক নতুন রূপ পেত। যেন আকাশটাকে সাজানো হয়েছে এক নব লাবণ্যে। ঘুড়ির সাথে যেন এই দুরন্ত মনও উড়ে বেড়াচ্ছে। যেন ঘুড়ির চোখে মুক্ত আকাশকে দেখছি। সেই মেঠোপথ যেন বারবার ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই বিকেল বেলার ধু ধু বাতাস যেন অনুভুতির জগতে আগমন করে কানের সাথে ধাক্কা লেগে শাঁ শাঁ শব্দ করছে। সেই সন্ধ্যার আকাশে রঙের মেলা যেন নয়নে ভেসে ওঠে। ছোট-বড় সবার কণ্ঠে শুনা সেই গান আর আধার আসমানে বেহালার সুর যেন বারবার শ্রবনেন্দ্রীয়তে বেজে ওঠে। সেই স্মৃতি যেন বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আজকাল হয়ত শিশু কিশোররা এভাবে ঘুড়ি উড়ায় না। হয়ত সেই সোনালী অতীত আর ফিরে আসবে না। আজকাল তো বিনোদনের ষোল আনাই প্রযুক্তির মধ্যে প্রবেশ করে ভুলে যাচ্ছি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অস্তিত্ব। আজকাল আমাদের গায়ে আর মাটির গন্ধ পাওয়া যায় না, ঘুড়ি বানাতে গিয়ে হয়ত কারো হাত গাব গাছের আঠায় কালো হয়ে যায় না।

আমাদের বাল্যকালে বড়দের যতটা ঘুড়ি উড়াতে দেখা যেত, বর্তমানে বড়দের এতটা ঘুড়ি উড়াতে দেখা যায় না। তবে, ছোটবেলায় সবারই কমবেশি ঘুড়ি উড়ানোর অবিজ্ঞতা রয়েছে। হয়ত আমার অভিজ্ঞতাটা একটু ব্যাতিক্রম ছিল। তাই জানার আকাঙ্খা জেগেছিল আরও কয়েকজনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। কথা বলেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধুর সাথে।

 

বন্ধু কৌশিক তার ছোটবেলার ঘুড়ি উড়ানোর অবিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন –
আকাশে রঙিন ঘুড়ি দেখলে কার না কৈশোরে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে! গাঁয়ের ছোট্ট নদীটির পাড়ে সবুজ ঘাসের মাঠে লাটাই নিয়ে সারাটা দিন কাটিয়ে দিলেও মনে অতৃপ্ত কিছু থেকেই যায়। কেননা আমরা ঘুড়ি হিসেবে নিজের মনেকেই উড়িয়ে দেই খোলা আকাশে। আর উড়তে কে না ভালোবাসে? গ্রামে যাদের শৈশব-কৈশোর কেটেছে, তাদের প্রায় সবারই ঘুড়ি উড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে। আমার বাবা প্রথম আমাকে ঘুড়ি বানানো শেখায়। খুব যে কঠিন তাও না, আকার অনুযায়ী কাগজ কেটে, তাতে আঠা দিয়ে কয়েকটি বাঁশের চিকন কাঠি আটকে দিলেই হয়ে যায় ঘুড়ি। এবার ঘুড়িকে সুতার সাথে বেঁধে, সুতার আরেক মাথা লাটাইয়ে পেঁচিয়ে দিলেই হয়ে গেল ঘুড্ডী। আমার এখনো মনে পড়ে বাবার হাতে ঘুড়ি আর আমার হাতে বোতল দিয়ে বানানো লাটাই। বাবা বললেই আমাকে দৌঁড় দিতে হবে লাটাই নিয়ে। আমি এতই উত্তেজনায় ছিলাম যে প্রথম দৌঁড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলাম। ব্যাথাও পেয়েছিলাম, কিন্তু যখন ঘুড়ি পাখির মত খোলা আকাশে উড়ছিল আমার ব্যাথা নিমিষেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি নিজেকেই ঘুড়ির সাথে কল্পনা করে উড়ছিলাম। আমার শৈশবের স্মৃতির অন্যতম খুশির মূহুর্ত ছিল তখন। আরও ভালো লাগত যখন বন্ধুরা সবাই মিলে মাঞ্জা দিতাম সুতায়, আর বিকেলে হতো ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগীতা। তখন আকাশে যেন রঙের মেলা লাগত, রং বেরঙের পাখি একসাথে ঝাঁক বেধে পুরো আকাশ ঘিরে থাকত আর যখন কোনো ঘুড়ি কাটা পড়ত তখন যে কে আগে ধরবে এই মূহুর্ত গুলোই ছিল যেন জীবনের রঙিন এলবামে আটকিয়ে রাখার মতো। পরিশেষে আপনি যখনই কারো কাছে ঘুড়ি উড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে জানতে চাইবেন, সে ব্যক্তি তখনই তার শৈশবে ফিরে যাবেন। এক বার হলেও ঘুড়ির সাথে সে তার গ্রাম, বন্ধু সবাইকে এই প্রযুক্তির অভিশাপময় যুগে জীবনের ফেলে আসা রঙিন অধ্যায় স্মৃতিচারণ করে। মনে যে তৃপ্তি পাবে, মন খুলে হাসবে সেখানেই ঘুড়ি উড়ানোর সার্থকতা।

 

আরেক বন্ধু টুটুল তার ঘুড়ি উড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন –
ঘুড়ি উড়ানো আমাদের শৈশবের একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে। খোলা মাঠ হোক বা বাড়ির ছাদ। ২ টাকা থেকে ঘুড়ির দাম শুরু হতো। অনেক দামের ঘুড়িও ছিলো। আর যারা পারতাম না, তারা পলিথিন আর শলার কাঠি দিয়ে ঘুড়ি বানাতো। তারপর কাঠির মধ্যে সুতা পেছিয়ে নাটাই বানিয়ে উড়াতাম। আর মাঞ্জা কাটা, ঘুড়ি কাটাকাটির পর ঘুড়ি ধরতে যে দৌড় দিতাম, সেটা হাতে পাবার পর ছিলো শৈশবে বিশ্ব জয়ের আনন্দ। তাছাড়া ঘুড়ি কাটাকাটি নিয়ে মারামারিটা মাঝে মাঝে বাসা পর্যন্ত চলে আসার পর বাবা মা এর হাতে নাটাই এর লাঠি পিঠে ভাঙ্গাটাও ছিলো স্বাভাবিক দূর্দশার ভয়াল মূহুর্ত। তবে ঘুড়ি মানে তো শুধু মাঞ্জা নাটাই আর ভো কাট্টা নয়। তার চেয়েও আরো অনেক কিছু। ঘুড়িই কখনও বার্তাবাহক, ঘুড়ি কখনো প্রেমপত্রবাহক। আরে ঘুড়িই তো আকাশের বিদ্যুতকে চিনিয়ে ছিল। নিত্য নতুন কম্পিউটার, মোবাইল গেম যখন গ্রাস করছে এ যুগের শৈশব কৈশোরকে তখন তাদের দেখে প্রায় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ঘুড়িগুলো। মাঝে মাঝে গ্রামে গঞ্জে বা শরতে কিছু বাচ্চাদের খালি গায়ে ঘুড়ি উড়াতে দেখলে অবচেতন মনে হাতড়াতে চায় ফেলে আসা দিনগুলোতে। যদিও ঘুড়ি দিয়ে এককালে সত্যিই বন্ধুদের সুতা পেছিয়ে প্রিয় বন্ধুর মিল খুজতাম। আর ঘুড়িগুলো আকাশের রং পাল্টে দিতে দিতে সময়টাকেও পাল্টে দিলো।

————————-
কামারুজ্জামান শানিল
পরিসংখ্যান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

পছন্দের আরো পোস্ট