স্বাস্থ্যখাত নিয়ে স্বতন্ত্র জোটের তিন দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক।

কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকেই স্বাস্থ্যখাতের চরম নৈরাজ্য, লুটপাট, সমন্বয়হীনতা এবং অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা আমাদের চোখে পড়ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি রাজশাহীতে অপেশাদারদের নমুনা সংগ্রহে নষ্ট হয়েছে নমুনা এবং কিট, একই ঘটনা কুমিলা মেডিক্যালেও, আটশত কিট নষ্ট হয়েছে সেখানে। বরিশাল মেডিক্যালে দুই শিফটে কাজ করার মতো লোক পাওয়া যাচ্ছেনা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তড়িঘড়ি করে ল্যাবরেটরি স্থাপনের পর দক্ষ লোকবলের অভাবে সেগুলোকে পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যেসব সফিস্টিকেটেড ল্যাবরেটরি টেকনিক ব্যবহার করা হচ্ছে, এসব যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য দরকার পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। যাদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে তাদের এই বিষয়ে দুই চার দিনের দায়সারা প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে সঠিক রেজাল্ট পাওয়ার সংখ্যা যেমন করে কমছে, তার সাথে হতভাগ্য রোগীদের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলো শুরু থেকেই এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলো এবং গ্রাজুয়েটদের কোনোপ্রকার মূল্যায়ন করেনি। কোর্স কারিকুলামে কাদের পিসিআর সহ সমস্ত মলিকুলার টেকনিক তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে হাতে-কলমে শেখানো হয় এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও হয়তো এই স্বার্থান্ধ পদধারীদের কাছে নেই। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিক্ষেত্রেই ডাক্তারদের সামনে ঠেলে দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারকেরা তাদের চরম অদক্ষতা, কুপমন্ডুকতা এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ দিয়েছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

 

মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনলোজি, ফার্মাসি শিক্ষার্থীদের কোর্স কারিকুলামে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় ব্যবহৃত পিসিআর পদ্ধতির ভাইরাস শনাক্তকরণটি পড়ানোর পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখানো হয়। কোভিড শনাক্তকরণে শুরু থেকেই এই বিষয়গুলোর শিক্ষার্থী এবং গ্রাজুয়েটদের নিয়োগ দেওয়া হলে বিপুল পরিমাণ নমুনা এবং কিট নষ্ট হতো না। কিছু জায়গায় এই শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন শুধুই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে, তাদেরকে আনা হয়নি কোন প্রকার সম্মানী ও বীমার আওতায়। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলে স্বেচ্ছাসেবী ও তার পরিবারের দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা এটি।

 

একটা দেশের স্বাস্থ্য খাতে এমবিবিএস ডাক্তার যেমন একটা অপরিহার্য অংশ, তেমনি অপরিহার্য একজন বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, বায়োটেকনোলজি কিংবা ফার্মাসিস্ট। অথচ আমরা বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কেবলমাত্র ডাক্তারদের নিয়োগ দেখতে পাই। এর বাহিরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলছে বিশেষজ্ঞ লোকদের ছাড়াই, স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেডিকেল খাতের কোন ধরনের বিশেষজ্ঞ নন। স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থার জন্য ভূক্তভোগী আমরা সবাই।
তাই অবিলম্বে,
১। স্বাস্থ্যখাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাইক্রোবায়োলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, বায়োটেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবী করছি।
২। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে করোনা ডিটেকশনে যারা কাজ করছে তাদের সম্মানী এবং স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।
৩। পরবর্তী বিসিএস থেকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাইফ সাইন্স গ্রাজুয়েটদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।#

পছন্দের আরো পোস্ট