শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া সমস্যা সমাধানে জবি প্রশাসনের কমিটি গঠন

জবি প্রতিনিধি।

শিক্ষার্থীদের চলমান মেসভাড়া সংক্রান্ত সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় করণীয় সুপারিশ করার জন্য কমিটি গঠন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নূর মোহাম্মদকে দায়িত্ব দিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ টাইমলাইনে দেয়া এক অফিস আদেশে এ কথা জানান।

অফিস আদেশে বলা হয়, ড. নূর মোহাম্মদ ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগান্তিতে থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় সুপারিশ করবেন।

সুপারিশ কমিটির দায়িত্বে থাকা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, যারা মেসে থাকেন এমন শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ৪টি ভাগে ভাগ করা হবে। যেমন, সমস্যার দিক থেকে মৃদু সমস্যা, মধ্যম সমস্যা, গুরুতর সমস্যা ও চরম সমস্যা। বাড়িওয়ালাদের ক্ষেত্রেও ৪ ভাগে ভাগ করে কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বাসা ভাড়া সমস্যা সমাধানে যারা কাজ করছেন এমন প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভাগীয় চেয়ারম্যন ও প্রক্টর অফিসের কাজ থেকে তথ্য নিয়েই রিপোর্টটি করা হবে। এছাড়াও তথ্য নিতে প্রতিদিনকার জন্য একটি গুগুলমিট এর মাধ্যমে সবার সাথে আলোচনা করা হবে।

ছাত্র প্রতিনিধিরা কোন প্রস্তাবনা দিতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ বাসা ভাড়া সমস্যা সমাধানে যারা কাজ করছেন তারা অব্যশ্যই প্রস্তাবনা দিতে পারবেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের এরূপ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জবির ৭ দফা আন্দোলনের সমন্বয়কারী রাইসুল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এরূপ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। করোনা সংকটের প্রথম থেকেই আমরা যারা শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া সমস্যা নিয়ে কাজ করছিলাম তাদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪ দফা প্রস্তাব রাখা হয়েছিলো। আমরা আশা করি এই কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ৪ দফা বাস্তবায়ন হবে এবং মেসভাড়া সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

প্রসঙ্গত, এরআগে মেসভাড়া সমস্যার সমাধানের জন্য ৪ দফা প্রস্তাব দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এবং ৪ দফা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দাবি জানিয়ে আসছিলো শিক্ষার্থীরা। ৪ দফার মধ্যে রয়েছে, অার্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিতে হবে় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। সরকারের দায়িত্বশীলদের সাথে সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত মেস ভাড়া কমপক্ষে ৫০% মওকুফের ব্যবস্থা নিতে হবে, সেমিস্টার ফি সহ অন্যান্য ফি মওকুফ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে, ক্যাম্পাস খোলার এক সপ্তাহের মধ্যেই ছাত্রীহল চালু করতে হবে।

পছন্দের আরো পোস্ট