করোনাভাইরাস: সময় এখন সমন্বিত উদ্যোগের !

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

বর্তমান সময়ের আলোচিত বৈশ্বিক মহামারীর নাম কোভিড-১৯। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো করোনা ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এত ফ্যাসিলিটিজ, এত সুরক্ষা ব্যবস্থা, তবুও তারা পেরে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর অসহায়ত্ব মিডিয়ায় দেখা গেল এ মহামারীরতে যখন জনগণ বিপর্যস্ত, মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাচ্ছিলো না তখন বললেন আমি এখন উপরের দিকে তাকিয়ে আছি। কতটা অসহায় হলে একজন রাষ্ট্রপ্রধান এমন মন্তব্য করতে পারেন!

করোনাভাইরাস এক নিরব ঘাতকের নাম। সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৮৭৬ জন । মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ লক্ষ ৮১ হাজার ২১৮ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৪ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪৯০ জন। ১১ মে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধদিপ্তর এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট আক্রান্ত ১৪ হাজার ৬৫৭ জন , মৃত্যু হয়েছে ২২৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৫০ জন। আইইডিসিআর আপডেট ডাটা অনুযায়ী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিল ৫৯১৩ জন। যার মধ্যে ১৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে সেরে উঠেছেন এবং ১৫২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ২৪ এপ্রিল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হ্রাসের লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রনালয় মসজিদে ১২ জনের বেশি জামাতে যেন না হয় এবং সে সাথে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার ওপর বিধি নিষেধ জারি করা হয়।

একই দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় সাধারন ছুটির মেয়াদ নতুন প্রশাসনের মাধ্যমে ২৬ এপ্রিল হতে ৫ মে পর্যন্ত বর্ধিত করে। হয়তো বা এ ছুটি আবারও বাড়তে পারে। অসমর্থিত সূত্রের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, এ ছুটি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

১৯ এপ্রিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় কর্তৃক বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতিকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে। যেখানে আইইডিসিআর পরিচালককে সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এ কমিটি মূলত সরকারকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ, হাসপাতাল সেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবার নিয়োজিত চিকিৎসকদের হেলথ কেয়ার ইনভলভমেন্টকে উৎসাহিতকরনে নিয়োজিত থাকবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও আইইডিসিআর এর তথ্য মতে, কোভিড -১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ এপ্রিল, ১ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯৮.৩% এ দাড়ায়। ঢাকা বিভাগের ঢাকা শহরে আক্রান্তের মাত্রা ১ বিলিয়নের মধ্যে ৩২৬.৭%, নারায়নগঞ্জ ২০০.৫% এবং গাজীপুরে ১৪৭% ৬৪ জেলার মধ্যে বর্তমানে কোভিড – ১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে ৬১ জেলায়। যা খুবই উদ্বেগের বিষয়। কেবল মাত্র বাংলাদেশের তিনটি জেলা যথাক্রমে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি (চট্টগ্রাম বিভাগ) এবং খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা এখনও করোনা মুক্ত জেলা। বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বাধিক কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত বিভাগ ময়মনসিংহ (১৫.৫%) ১০,০০০০০ এরপর বরিশাল (১০.৪%), সিলেট (৭.৬%) এবং চট্টগ্রাম বিভাগ (৭%)। ২০-২৭ এপ্রিলের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলা যথাক্রমে মাগুরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া এবং ভোলা জেলায় প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার কোভিড – ১৯ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে মার্চ মাসে যখন বাংলাদেশ এ করোনা রোগী সনাক্ত হয়, মার্চ এর শুরু হতে যদি বাংলাদেশ সরকার বিদেশ হতে দেশে আগমন সীমতিকরন, বিভিন্ন দেশের সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিত তবে করোনায় এত দ্রুত হয়তো সারাদেশব্যাপী বিস্তৃতি ঘটত না। পরবর্তীতে সরকার বিমান, রেল, নৌ যোগাযোগ সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসে।

বিদেশ হতে আগতদের বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় চেক আপ করা, বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করার আরও বেশি প্রয়োজন ছিলো। যা হয়ত আমাদের জন্য শুভফল বয়ে আনতো। এছাড়া হোমকোয়ারেন্টাইন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন আরও জোরদার করা এবং পূর্ব পরিকল্পনা নেয়াও জরুরি ছিল। চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা নামক ভাইরাস গত ৩১ ডিসেম্বর নিউমোনিয়া বলে মনে করা হয় এবং ১১ জানুয়ারি ১ জন এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করে। গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও এক সংবাদ বিবৃতিতে দাবি করেন চীনের উহানের উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলোজী ল্যাব থেকেই করোনা ভাইরাস বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। যা কাতার ভিত্তিক সংবাদ চ্যানেল আলজাজিরা নিউজটি প্রচার করে। তার আগে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে চীনকে একইভাবে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী করেন। এর পূর্বে চীনের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউ এইচ ও) এর তীব্র সমালোচনা ও সংস্থাটিকে অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

আমাদের সরকার যদিও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোর মত করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন কিংবা কারফিউ জারি করেনি। তথাপি যে ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে একের পর এক নি:সন্দেহে বাস্তবমুখী। ঘরে থাকা, সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা, প্রয়োজনে কেবল ঘরের বাইরে যাওয়া। এখানে একটি বিষয় পরিস্কার করতে হয় যে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লকডাউন শিথিল করে অনেক রাজ্যে স্বাভাবিক জীবন যাপনের পথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।

আমাদেরকে ভাবতে হবে দীর্ঘদিন এ অবস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশঙ্কার কারণ হতে পারে। প্রবৃদ্ধির মাত্রা ৮.২% থেকে ৬.৫% এ নেমে যেতে পারে। সেদিক হতে হয়তো বাংলাদেশ সরকার সীমিত পরিসরে ১৮ টি মন্ত্রনালয়কে কার্যক্রম চালু করেছে। আবার ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিওএইচও) এর স্বাস্থ্যবিধির আলোকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড পোশাক শিল্প। এ শিল্পের সুরক্ষা খুবই জরুরি। এ শিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ নিয়োজিত। তাদের সুরক্ষার বিষয়ে নজর দিতে হবে। কলকারখানায় পর্যাপ্ত পরিমান হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সুরক্ষা সামগ্রী যেমন মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস সরবরাহ করতে হবে। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, শ্রমিকরা যেখানে বসবাস করে সেখানে তারা গাদাগাদি করে থাকে। সেখানে স্বাস্থ্য বিধি অথবা কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানা সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে কারখানাগুলোর মালিক পক্ষ যদি তাদের থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উদ্যোগী হন তাহলে স্বাস্থ্য বিধির আলোকে অনেকটা সুরক্ষা সম্ভব। মনে রাখতে হবে বিপুল পরিমান শিল্প কারখানা চালু করলে হবে না বরং সুরক্ষাও অতি জরুরি।

করোনা মহামারীতে দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং খাত অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রের আলোকে ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা জনগনের সেবায় নিয়োজিত। ব্যাংকে মানুষজনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষনীয়। বিশেষ করে সামাজিক দুরত্ব মানা, মাস্ক ব্যবহার করা শহর অঞ্চলে কিছুনা মানা গেলেও গ্রামীন জনপদে নিয়ম মানা খুবই কঠিন। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী বাংলাদেশের জনগন সবচেয়ে বেশি অসচেতন। এ ধারণাই বলে দেয় মানুষ ঘওে থাকতে চায় না। সে মোতাবেক ব্যাংকে যারা ফ্রন্ট লাইন যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ন তাদের সুরক্ষা অনেক ত্রুটিপূর্ণ। কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বেসরকারী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংবাদে এসেছে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক ১৮ মার্চ হতে সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী গণভবনের এক ভিডিও কনফারেন্স বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাইমারি থেকে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ক্লাসসমূহ টেলিভিশনে প্রচার করে আসছে।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গত ২৩ মার্চ এক পরিপত্রে উল্লেখ করে বিডিরেনের ডাটার মাধ্যমে জুম ক্লাউডে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে নির্দেশনা প্রদান করে। নির্দেশনার আলোকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ছুটি ঘোষণা করায় তারা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে চলে যায়। তাদের পক্ষে কিন্তু ডাটা ক্রয় করে স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপ /ডেক্সটপ কম্পিউটার ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। শতকরা ৪০% শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হতে পেরেছে যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। এখানে উল্ল্যেখ করা প্রয়োজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মোট শিক্ষার্থীর শতকরা ৬০ ভাগ নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে, তারা কষ্ট করে পড়াশোনা করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরি কমিশন দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করে এতে করে দেখা গেছে মাত্র ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে বাকি ৬০ ভাগ ছিল অফলাইনে।

গত ৮ মে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি পরিপত্র ঘোষণা করে, পরিপত্রে অনলাইন ক্লাস এর ব্যাপারে একটি সার্ভের ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে বাস্তবায়নের আলোকে কিভাবে এবং কতটুকু কার্যকর উপায় এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে সে ব্যাপারে মঞ্জুরী কমিশন উদ্যোগ নিয়েছে।

নিঃসন্দেহে এ ধরণের উদ্যোগ সময় উপযোগী । সময় উপযোগীতা ও বিদ্যমান বাস্তবতার আলোকে যে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ এর ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিলম্বিত এবং এসএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময় গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বন্ধ আছে, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন পড়েছে সেশন জটের কবলে। সমন্বিত উদ্যোগ ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে কেবলমাত্র এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা জরুরি।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আন্ত: মন্ত্রণালয় সমন্বিত ইউনিট গঠনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও সুরক্ষা সম্ভব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কৃষিমন্ত্রণালয়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মধ্যে আন্ত: যোগাযোগ স্থাপন জরুরি। কেননা গত দুই মাসের সরকার ঘোষিত বিভিন্ন পদক্ষেপ ছিলো সত্যিই প্রসংশনীয়। কিন্তু দেখা গেল যে এক মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সম্পর্কে অবগত নয় বলে মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়। এটি আসলে সমন্বয়হীনতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্ত: যোগাযোগ ও সুষ্ঠু সমন্বয়ই মূলত উত্তরনের অন্যতম উপায়। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম পন্থা। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি জন সচেতনতা বেশি যুক্তিযুক্ত। পাশ^বর্তী রাষ্ট্র ভারতে লকডাউন অমান্যকারীকে পুলিশ যে প্রতিক্রিয়ায় শাস্তির আওতায় এনেছে। বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ফোর্সসমূহ তার ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে। মানুষকে বুঝিয়ে, মানবিক জায়গা থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

বিশ্ববিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন বৈশ্বিক করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় করনীয় হতে পারে

(ক) সমন্বিত ট্রাস্ক ফোর্স গঠনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত দেশব্যাপী গৃহিত পদক্ষেপের মনিটরিং

(খ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে নতুন নতুন নির্দেশনা জারি এবং সেগুলো বাস্তবায়নে পাঠ প্রশাসনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরন

(গ) বিভিন্ন সেক্টরে ঘোষিত প্রনোদনার যথাযথ বন্টন নিশ্চতকরন

(ঘ) গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিক ও শিল্প কারখানার সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ অনুসরণ

(ঙ) কৃষকের ফসল সাঠক সময়ে মাঠ থেকে উত্তোলনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণও কৃষকদের জন্য কৃষি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ

(চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে করোনা টেষ্টের জন্য নতুন নতুন ল্যাব স্থাপন ও টেষ্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করনে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ। হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর জরুরি মনিটরিং ও পদক্ষেপ গ্রহণ, জেলায়, উপজেলা লেভেলে করোনা টেষ্টের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি

(ছ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মে মাসের ছুটির পর বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে খোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ক্লাসসমূহ সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি চার-পাঁচটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ

(জ) অনলাইন ভিত্তিক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমকে আরও সহজতরকরন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে গ্রামীন, রবি, বাংলালিংক এর সাথে সরকারী চুক্তির মাধ্যমে ফ্রি ডাটার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

(ঝ) নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত অসহায় মানুষদেরকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা সেবা চালু রাখা এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা, প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয় পত্রের আলোকে এলাকাভিত্তিক ডাটাবেস তৈরি করণ।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।সহকারী অধ্যাপক।সরকার ও রাজনীতি বিভাগ।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

পছন্দের আরো পোস্ট