উদ্যোক্তা তৈরিতে দেশী-বিদেশী ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প

খুবি প্রতিনিধি।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে উদ্যোক্তা গড়ে ওঠাকে উৎসাহিত করা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে এ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা তৈরির উদ্দেশ্যে ইউরোপিয়ান কমিশন এর ইরোসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে এমইএলবিইউ (মোর ইন্টারপ্রিনিউরিয়াল লাইফ ইন বাংলাদেশী ইউনিভার্সিটিজ) শীর্ষক একটি প্রকল্প কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশী আনুমানিক প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার মূল্যমানের এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে তিন বছর। প্রকল্পটির বাংলাদেশ অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউরোপের অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছে জার্মানীর লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল দুপুরে অনলাইন কিকঅফ মিটিং এর মাধ্যমে প্রকল্পটির কার্যক্রম সূচনা করা হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বিশ্বব্যাপি করোনা পরিস্থিতির কারনে প্রকল্পটির উদ্বোধনে এ পন্থা অবলম্বন করা হয়। উপাচার্য তাঁর উদ্বোধন বক্তব্যে নতুন উদ্যোক্তা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও জোরালো ভুমিকার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন। উপাচার্য তাঁর নিজের এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে সম্ভব সকল প্রকার সহায়তা প্রদানের আশ্বাস ব্যক্ত করেন। তিনি এ প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রকল্পের সাফল্য কামনা করেন।

প্রকল্পটিতে সংযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয় পোল্যান্ডের মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি অফ স্তেতিন, এবং বাংলাদেশের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়.গোপালগঞ্জ, নর্দান ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এন্ড টেকনোলজি খুলনা এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।

প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষক অনলাইনে সংযুক্ত থেকে কার্যক্রম বাস্তবায়ন সূচনাপর্বের এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন।প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ উপযোগী মডিউল প্রণয়ন করা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোক্তা সহায়ক কেন্দ্র স্থাপন করা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে স্টার্ট-আপ উৎসাহিত করা এবং সমর্থনের জন্য একটি ক্রাউডসোর্সিং প্লাটফরম গড়ে তোলা।

এছাড়া প্রকল্পের অধীনে খুলনা এবং জার্মানির লাইপজিগ শহরে দুটি সামার স্কুল আয়োজন করা যেখানে প্রত্যেকটি অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও এই প্রকল্পের অধীনে একটি আঞ্চলিক ইনোভেশন প্লান কম্পিটিশন আয়োজন করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম সমন্বয়কারী জার্মানীর লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. উটজ ডোম্বার্গার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন এবং Kickoff Meeting এ সংযুক্ত থেকে এ কর্মসূচির যাত্রাসূচনা জন্য ধন্যবাদ জানান।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুন্নবী এ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের সমন্বয়কারী এবং বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ মুরছালিন বিল্লাহ এবং ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ।

পছন্দের আরো পোস্ট