স্বপ্ন পূরণের বাস্তব গল্প

আব্দুল্লাহ আল নোমান।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে শিক্ষার্থীদের কঠিন এক ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারার সুযোগ অর্জন করে নিতে হয়। ভালো প্রস্তুতি আর ইউনিক কিছু টেকনিক অবলম্বন করে জয় ছিনিয়ে আনাটাও অসম্ভব কিছু নয়। ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে চাইলে একজন শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে সবার আগে। পছন্দের বিষয় ঠিক করার পর দেখতে হবে, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষয়টা পড়ার সুযোগ রয়েছে। পছন্দের বিষয় কিন্তু একটা না হয়ে বেশ কয়েকটাও হতে পারে। কারণ কয়েকটা বিকল্প হাতে থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে।

১০ ই এপ্রিল ২০১৮,সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছি।। উচ্চ শিক্ষার সিঁড়ি হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাকে। কিছুদিন পরেই শুরু হবে শিক্ষা জীবনের কঠিনতম ভর্তিযুদ্ধ। পড়াশুনার বিরাম নেই । একটাই লক্ষ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের একটি আসন নিশ্চিত করা।সবার আশা থাকে রেজাল্ট বের হলে ভাল একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।আমিও ব্যতিক্রম নয়।এই আশা নিয়ে আমিও পাড়ি দিলাম চট্টগ্রামে।উদ্দেশ্য একটা, ভর্তি কোচিং এ ভর্তি হব।চট্টগ্রাম যাওয়ার পর ইনডেক্স কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলাম।

যাচ্ছিল দিনকাল ভাল।পড়ালেখা, খেলাধুলা, ঘুরাফিরা,নতুন বন্ধু  ইত্যাদি কে নিয়ে চলছিল আমার দিন।তবে প্রায় প্রতিদিন ক্রিকেট খেলতাম আর টিভিতে খেলা দেখতাম।আমি আবার মেসি আর সাকিব পাগল মানুষ।ওদের খেলা থাকলে কোনদিন মিস যেতনা।কারন আমি ভাবতাম মেসির খেলা না দেখলে মেসি হয়তো রাগ করে বসবে।

তার মাঝে হুট করে একদিন আমার রেজাল্ট বের হল।রেজাল্ট খুব একটা খারাপ না।তবে ছাত্র হিসেবে রেজাল্ট মোটেও  সন্তুষ জনক নয়।রেজাল্ট বের হওয়ার পর আব্বু আম্মুকে জানালাম।ওরাও তেমন খুশি নয় আমার রেজাল্ট নিয়ে।যদিও আব্বু শিক্ষিত লোক হিসেবে তেমন কিছু বলেনাই।

কয়েকদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম ছাড়লেন।হাজারো আশা নিয়ে ঢাবি আর চবির ফরম তুললাম।তখন থেকে স্বপ্ন বুনতে লাগলাম বিশ্ববিদ্যালয়  জীবনের।আস্তে আস্তে পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসল। আমার পড়াশোনা ও চলছিল।যখন পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে নিলাম তখন মনে হলো একবুক স্বপ্ন হাতে নিলাম।ঢাবির হল থেকে যখন পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম আকাশ টা তখন মাথার উপর যেন আঁচড়ে পড়ল।শেষ!ঢাবি স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।পরে আশা ছিল চবি তে সেখানে ও হলোনা।

বাবা-মা আফসোস করতে  লাগল।এত টাকা পয়সা খরছ করার পরও কোথাও চান্স পেলাম না।এই হতাশা টা নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম।পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম বটে।কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্ষত টা আমাকে বারবার পুড়িয়ে যাচ্ছে।তাই চিন্তা করলাম সেকেন্ড  টাইম পরীক্ষা দিব।তাই একাডেমিক পড়াশোনার সাথে সাথে ইংরেজি গ্রামার আর সাধারণ জ্ঞান টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।সময় তো আর অপেক্ষা করেনা।এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ ফাইনালের  রুটিন দিয়ে দিল।সামনে সেকেন্ড টাইম এর ভর্তির সময় ও কাছাকাছি চলে আসল।তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার পড়াশোনা ও বাড়িয়ে দিলাম।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা যখন শেষ হল ততদিনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ফরম দিল।নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফরম নিলাম।প্রথমে পরীক্ষা ছিল নোয়াখালী তে।এরপর কুমিল্লায়।ডিসেম্বর ৫,২০১৯, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি রেজাল্ট বের হল অবশেষে  মেরিট লিস্ট এ আমার নাম আসল।রেজাল্ট হাতে পাওয়ার পর আব্বুকে ফোন দিলাম।বললাম নোয়াখালী তে আমার মেরিট ১৩৫ এ এসেছে।আব্বু তখন বলল আমার বাবা অবশেষে প্রমান করল।

আমার পছন্দের তালিকায় সবার উপরে ছিল আইন বিভাগ।যখন ভাইভার জন্য ডাকল তখন মনে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খেতে লাগলো। ভালো কোন বিষয় পাবোতো?পছন্দের বিষয় টা কি আমার ভাগ্যে জুটবে?এমন হাজারো প্রশ্ন নিয়ে ভাইভা দিতে গেলাম।আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আইন বিভাগে আমার কপাল খুলল তখন থেকে নিজের স্বপ্ন টাকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছি।

অবশেষে আমিও একজন পাবলিকিয়ান।আমিও এখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাসের  যাত্রী। আলহামদুলিল্লাহ আজ আমার স্বপ্নও সত্যি হল

আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ এর মধ্যেই আমার মঙ্গল লিখে রেখেছেন। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যেই করেন। আল্লাহ তাওয়ালা কারও সাথে অবিচার করেনা।

 হতাশ হয়ো না, চেষ্টা করো শেষ পর্যন্ত। তোমার চেস্টা সঠিক হলে, অবশ্যাই তুমি সফল হবে।আল্লাহ তাওয়ালা কারও সাথে কোন অবিচার করেন না।

পছন্দের আরো পোস্ট