আমি দেখেছি তাদের বুক ফাঁটা আর্তনাদ

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ॥

দেশে করোনা ভাইরাসের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সরকারী ও বেসরকারী অফিস আদালত, শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন সেক্টর, ব্যবসা বাণিজ্যসহ সব কিছু বন্দ ঘোষনা করা হয়েছে। দেশের মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন, মোট কথা দেশটি এখন ‘লক ডাউন’। দেশের এরূপ পরিস্থিতিতে সকল কর্মকর্তা বর্মচরীরা মাস শেষে ঠিকই বেতন পাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বাণিজ্য কিছুদিনের জন্য বন্দ থাকলেও কোন সমস্য হওয়ার কথা নয়।

সমস্য শুধু তাদেরই যারা দিন আনে দিন খায় এক কথায় কর্মজীবি খেটে খাওয়া মানুষের, একবেলা কাজ না করলে পেটে আহার জোটে না ঐ সকল ব্যক্তিদের কাতারে পড়েছে রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, স্কুটার চালক, অটো চালক চায়ের দোকানদার, মটর শ্রমিক, দিন মজুর, ভিক্ষুক, বেদে সম্প্রদায়, হিজরা সম্প্রদায়রা। সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে গ্রামের দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা, দেশের প্রতিটা শহরের মধ্যে কাজ করে কারা ? গ্রামের লোকজন এসে কাজ করে সন্ধ্যায় চাল ডাল কিনে গ্রামে ফিরে যায়। তাদের এখন কোন কাজ নেই কর্ম নেই ঘরে বসে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন পার করছে।

বিষয়টি নিয়ে আমি গত দু’দিন ধরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গুলো গ্রাম ঘুরে দেখেছি এবং তাদের সাথে কথাও বলেছি, তারা তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দিকে, কবে পাব চাল-ডাল-তেল-নুন। বর্তমান সরকার যে ত্রান সামগ্রী বিতরন করবে গরীব ও দুস্থদের মাঝে, এই ত্রান সামগ্রী যাদেরকে দেওয়া হবে তাদের লিষ্ট কুষ্টিয়া সদরের সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউপি সভাপতি, সেক্্েরটারী মিলে তা জেলা ত্রান অফিসে জমা দিয়েছেন।

উক্ত লিস্টে সকল গরীব দুখী, দিনমজুরদের নাম সেখানে নেই, আছে তাদের তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নাম। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, সকলকে দেওয়া সম্ভব হবে না। এক একটি ইউনিয়নের জনবল কাঠামোর ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা নির্ধারন করে চেয়াম্যানের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে তারা কাকে কাকে দিবে তার লিষ্ট আমাদের কাছে জমা দিবে তারপর আমরা নির্দিষ্ট তারিখে ঐ সকল কার্ডধারী ব্যক্তিদের মাঝে ত্রান সামগ্র বিতরন করা হবে। ইতিমধ্যে জানতে পেলাম ঐ সকল ত্রান সামগ্রী সেনা ও নৌ বাহিনী বিতরন করবে।

আমার প্রিয় মাতৃভূমি কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামে হলেও আমি আলামপুর ও জিয়ারখী ইউনিয়নের বিভিন্ন দিনমজুরদের সাথে কথা বলেছি, তবে সবচেয়ে বেশী কথা হয়েছে আমার নিজ মাতৃভূমি বালিয়াপাড়া গ্রামের কর্মহীন মানুষের সাথে। তারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখছে আর বুক থাবড়াচ্ছে আহারে আজ কেন শহরে গেলাম না, গেলেতো কিছু পেতাম এভাবেই তারা বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের দান দেখছে আর নিরবে চোঁখের জ্বল ফেলছে।

গ্রামের কর্মহীন মানুষের বুকের ভেতরের কান্না কেউ দেখতে না পেলেও আমি দেখেছি গত দুদিন ধরে। মুখ ফুঁটে বলতে পারছেনা ঠিকই কিন্তু তাদের চোঁখে ছল-ছল করা পানিই বলে দিচ্ছে তাদের কষ্টের কথা, দেখেছি তাদের বুক ফাঁটা আর্তনাদ, তাদের আর্তনাদ আমিও সহ্য করতে পারি নাই, দুদিনে অন্তত প্রায় ৫০ জন দুখী মানুষের কথা শুনেছি সবার চোঁখে মুখে একটাই কথা ডিসি এসপিরা কুষ্টিয়া শহরে চাল ডাল দিচ্ছে আমাদের দিচ্ছেনা কেন।

আমাদেরকে আগে ভাবতে হবে শহরের মধ্যে শ্রম দেয় কারা, শ্রম দেয় গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগলো, আজ তারা লক ডাউন হয়ে গ্রামের মধ্যেই বসে আছে। ইতিমধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রান মন্ত্রণালয় গত ২৮শে মার্চ ও ৩০শে মার্চ দু’তরফা ত্রান বিতরনের বরাদ্দ প্রদানের নোটিশ দিয়েছেন দেশের ৬৪টি জেলায়।

আমি বেশ কয়েকদিন ধরে একটি বিষয় লক্ষ্য করছি যে, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো শুধু শহরের মধ্যকার গরীব দুখীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করে যাচ্ছেন, তারা কিন্তু গ্রামের মধ্যে বসবাসকারী কোন গরীব দুখীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছেন না, করছে শহরের মধ্যে যে সকল শ্রমজীবি, গরীব দুখী ও ভিক্ষুক থেকে শুরু করে উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিরা, তারা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকেই সাহায্য পেয়েছে, মোট কথা গত এক সপ্তাহে এক-এক জন ব্যক্তি তিন চারটি সংস্থা থেকে বরাদ্দ পেয়েছে, ইতিমধ্যে ঐ সকল দুখী দরিদ্ররা আগামী ২/৩ মাসের আহার যোগাড় করে ফেলেছে।

কুষ্টিয়া সদর এমপি মাহাবুব উল আলম হানিফ গতকাল কুষ্টিয়াতে এসেছেন এসেই তিনি প্রথমে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরী সভা করেন কুষ্টিয়া সদরের সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার, কুষ্টিয়ার সকল বড়-বড় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ সাংবাদিক বৃন্দ।

সারা বিশ্ব যখন মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে কাঁপছে তখন কিছু অসাধু ব্যবসায়িরা নিজেদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে ফায়দা লুটে নিছে আর বিপাকে পড়ছে অসহায় সাধারন মানুষ এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন।

তার পর পরই জানতে পেলাম কুষ্টিয়ার এমপি মহোদয় তার নিজ তহবিল থেকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শ্রমজীবি, গরীব দুখী ও ভিক্ষুকদের জন্য একটি বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেছেন উক্ত বরাদ্দটি প্রকৃত গরীব ও শ্রমজীবি খেটে খাওয়া দিন মজুররা যেন পায়, সকল গরীব দুখী মানুষের পক্ষ থেকে মানণীয় এমপি মহোদয়সহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পছন্দের আরো পোস্ট