মানবেতর জীবন যাপনে শিক্ষক,কর্মচারীরা 

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে সর্বপ্রথম ১৯৬৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি অনেক চড়াই উৎরাই পার করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে অনার্স মাষ্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া হচ্ছে, পাশাপাশি কারিগরি বোর্ডের স্বীকৃতি পেয়ে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শাখায় ভর্তি হয়ে ভাল রেজাল্ট করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন। আজ সেই প্রতিষ্ঠানের মানুষ গড়ার কারিগরেরা করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে দ্রব্যমূল্যোর উর্ধগতির এই দু:সময়ে গত ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অন্যদিকে মার্চ মাসও পেরিয়ে যাচ্ছে তবুও তারা বেতন ভাতা পাচ্ছেন না বলে প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা গেছে।

করোনা নিয়ে গত ১৮ মার্চ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রোড্রের জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষনে তিনি বলেন, “জনগন আমার অক্সিওজন, তারা সুস্থ থাকলে আমি সুস্থ” দেশের জনগনের উদ্যেশে বলেন, প্রিয় কানাডাবাসী, আমি জানি আজ সবাই কঠিন সময় পার করছেন। আশা করি এই বিপদ আমরা কাটিয়ে উঠবো তবে সেই জন্য আপনাদের সাহায্য আমার দরকার। আপনাদের জন্য আমি আজ প্রধানমন্ত্রী, জনগনের সেবা ও নিরাপত্তা দেয়া আমার প্রধান কাজ, আমি চাইলে নিজে ঘরে বন্দি থাকতে পারতাম, তবুও রিস্ক নিয়ে আপনাদের খোজ খবর নিচ্ছি, বের হচ্ছি। কারন আপনারাই আমার অক্সিজেন। আপনারা সুস্থ থাকলেই আমি সুস্থ। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা আগামী এক মাস নিজ বাসায় অবস্থান করুন। শুধু মাত্র মেডিসিন+ প্রয়োজনীয় খাবার+ পানীয় দোকান গুলো খোলা রাখবেন।

তবুও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি নাগরিকের বাসায় এক মাসের যাবতীয় সব ধরনের খাবার পানি মেডিসিন মাস্ক আমরা পৌছে দিচ্ছি। তাছাড়া আপনাদের যখন যা লাগে আপনাদেরকে দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করবেন, আপনাদের বাসায় সব কিছু পৌছে দেয়া হবে। তবুও বের হবেন না। ভয় নেই কাউকে অনাহারে মরতে হবে না। আপনারা নিজ বাসায় অবস্থান করুন। সচেতন থাকুন। আপাতত আমাদের দেশ লকডাউন করে দিচ্ছি। পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার খুলে দিব। আমার উপর আপনারা আস্থা রাখুন। আপনারা যারা অফিস আদালত কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত ছিলেন, আপনাদের কারো কাজে যেতে হবে না। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফিস কারখানা বন্ধ ঘোষনা করলাম। ভয় নেই, আপনাদের সবার একাউন্টে আপনাদের মাসিক বেতনের টাকা পৌছে যাবে। শুধু তাই নয় আপনারা যারা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন, সেই ভাড়াও সরকার বহন করবেন। আপনাদের ভালো রাখাই আমার কাজ। যারা সরকারের নিয়ম মানবে তাদের এককালিন অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। এই মানবতার দূত কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রোড্রেকে নিয়ে সোসাল বিভিন্ন গন মাধ্যম, প্রিন্ট্র, ইলেতট্রনিক মিডিয়া ও সোসাল মিডিয়াতে ঝড় চলছে।

অথচ ঐ দেশ থেকে আমাদের দেশটি সম্পূর্ণ ভিন্নরূপ পুরোটাই উল্টা মরার উপর খাঢ়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে। এই মহা দূর্যোগের সময় উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৭২ জন শিক্ষক কর্মচারী এখনো ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন ভাতা পান নাই বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক কর্মচারীরা।

উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৭২ জন শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে মাত্র ৫০ জন শিক্ষক কর্মচারী এমপিও ভূক্ত বাকী সবাই নন এমপিও ভূক্ত যে সকল শিক্ষক কর্মচারী নন এমপিও ভুক্ত তাদের বেতন ভাতা প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকে প্রদান করে আসছিল। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সর্ব বৃহত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেই সাথে রয়েছে প্রচুর পরিমান গচ্ছিত অর্থ। উক্ত অর্থ দিয়েই পূর্বে থেকেই সকল শিক্ষকদের বেতন ভাতা, বাড়ী ভাড়াসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। হঠাৎ করেই এই দূর্যোগের মুহুর্তে তাদের বেতন ভাতা আটকিয়ে যাওয়ার ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বর্তমানে তারা হতাশার মধ্যে দিন পারছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারীদের অগ্রীম বেতন ভাতা প্রদানের সংবাদ পাওয়া গেছে।

তারা জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতে তাদের সংসার চালাতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। যেভাবে জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে তাতে তারা সংসার নিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরিবার পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কলেজের দিবা প্রহরী শাহাবুদ্দিন জানান, আমাদের কলেজের ফান্ডের সমস্যা নেই। আমরা অল্প বেতনে সংসার চালায়।

এখন যদি এই স্বল্প বেতনও না পাই তাহলে কিভাবে চলবো। কলেজের নৈশ প্রহরী বলেন, রাত জেগে কলেজ পাহারা দিই তারপরেও যদি বেতন না পাই তাহলে আমাদের কি উপায় হবে। কলেজের পিয়ন রাশেদুল আক্ষেপ করে বলেন, স্যাররা যখন যা বলে আমরা করে দিই, তাহলে মাস গেলে পয়সা পাব সে আশায় বসে থাকি। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ফান্ড থেকেই কয়েক যুগ থেকে বেতন ভাতা প্রদান করে আসছিল কিন্তু এই দূর্যোগের মধ্যে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির বাজারে হঠাৎ করেই আমাদের বেতন বন্দ হয়ে পড়েছে বর্তমানে আমরা এখন দিশেহারা, পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসে গেছি।

উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক কর্মচারীরা কলেজের বর্তমান নবনিযুক্ত সভাপতি কুষ্টিয়া জেলার মানবতার সেবক ও মিডিয়া বান্ধব সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করে বলেন, পূর্বের নিয়ম মতে কলেজের ফান্ড থেকে সকল শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা, বাড়ীভাড়া ভাতাসহ আনুসংগিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করার আহবান জানান।

পছন্দের আরো পোস্ট