করোনায় পাল্টে গেল সমাজের চিত্র 

আবদুল্লাহ আল নোমান,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

দোকানপাটে নেই মানুষের ভীড়। খেলার মাঠে নেই কোন হইছই। রাস্তাঘাট ফাকা, চায়ের দোকানে নেই আড্ডা। এসব যেন সমাজের এক ভিন্ন চিত্র বহন করে।
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে একের পর এক নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ৷ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক খেলা থেকে শুরু করে বড় বড় সকল বৈশ্বিক আয়োজন৷ স্কুল, কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমে আসছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড৷ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার কারণে লোকসানে পড়ছে বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো৷ ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার আশংকায় রয়েছে বড় বড় প্রতিষ্ঠান৷ প্রতিদিনই ধ্বস নামছে শেয়ার বাজার গুলোতে।
বিমান চলাচল কমে যাচ্ছে, ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হচ্ছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হচ্ছে, কারখানাও বন্ধ হচ্ছে। যদিও সংখ্যা হিসেবে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা সংক্রামক ব্যাধির অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেনি এখনো, কিন্তু আক্রান্ত হয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ আর বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়েছে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে। ফলে সংখ্যার চাইতে বহুগুণ বেশি আজ করোনা সংক্রমণের ভয়। কোনো রোগ নিয়ে এতটা আতঙ্ক সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেনি। এর আগে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ নিয়ে এতটা ভীতিকর আতঙ্কও ছড়ায়নি। ছোট্ট এক ভাইরাস বুঝিয়ে দিল মুনাফার মানসিকতা দ্বারা পরিচালিত হলে মানুষ কতটা বিপন্ন আর অসহায় হয়ে পড়তে পারে! মানুষকে বাঁচতে এবং বাঁচাতে হলে মানুষের মানবিক বোধ ও দায়িত্বশীলতা আর রাষ্ট্রের ভূমিকা যে কত গুরুত্বপূর্ণ করোনার ধাক্কায় মানুষ তা আবার নতুন করে উপলব্ধি করল।
প্রায় সকলের মুখে এখন মাস্ক৷ এ মাস্ক চেহারা ঢাকার মুখোশ নয়, করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সার্জিক্যাল মাস্ক৷ মাস্কে ঢাকা পড়েছে মুখ, এ মুখগুলো ভিন্ন ভিন্ন৷ কিন্তু প্রতিটা মুখে লটকে থাকা যে আতঙ্ক- সেখানে কোন ভিন্নতা নেই।
পাল্টে গেছে সংবাদ পত্রের ধরণ। সেখানে কোন ভিন্নতা নেই৷ সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় ভয় দেখানো ভঙ্গিতে করোনার শিরোনাম৷ টেলিভিশনে দুনিয়াজুড়ে কোথায় কত আক্রান্ত হলো, কত মারা গেল তার চিত্র৷ আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা প্রকাশে এরা যতটা আগ্রহী, ততটা যেন নয় রোগমুক্তি আর সচেতনতা বিষয়ক তথ্য প্রচারে৷ সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন এ রোগ নিয়ে চলছে অসংখ্য গুজব৷
অধিকাংশ ওষুধের দোকানের কাউন্টারে বা দৃশ্যমান কোন জায়গায় নোটিশ টাঙানো- ‘মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার নেই’৷  ফুটপাতে অবশ্য মাস্ক পাওয়া যায়, তবে সেগুলো খুবই নিম্নমানের, এবং দামও বেশি৷ আগে যেটা দশ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটা ত্রিশ টাকা৷আর ফার্মেসীতে গ্লাবস, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকলেও  তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে র‍্যাবের অভিযানের ভয়ে অনেকে বিক্রি ও করেনা।
বিশ্বে যে মহামারি শুরু হয়ে গেছে তাতে সবাই ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। দোকানে কোন আডডা নাই। সবাই ঘরে বসে আছে।আবার অনেকে আইন রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে বাইরে বের হচ্ছেনা।সবার মাথায় টুপি।মসজিদে এখন জায়গা হয়না। ছোট বড় সবাই ভয়ে মসজিদ মূখী হয়ে গেছে।দোকানদার রা ক্রেতা পাচ্ছেনা। অনাহারে দিন কাটছে অনেকের।
করোনাকালীন অভিজ্ঞতা থেকে দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার পুরোনো ধারণায় ফিরে যেতে পারে। বিভিন্ন দেশ আন্তর্দেশীয় পণ্য চলাচলে স্বাস্থ্য সুরক্ষাজনিত বাধা অনেক বাড়াবে। এমনকি দেশে দেশে যানবাহন থেকে হোটেল পর্যন্ত ব্যবসা করতে হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এর ফলে পণ্যের দাম আগের চেয়ে বাড়বে। করোনা–পরবর্তী বেকারত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে একটা কঠিন পরিস্থিতির আভাস দেয়
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচকই নিম্নমুখী৷ তার মধ্যেও ভাল করছিল রেমিট্যান্স৷ চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ১০৪২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ ভাগ বেশি৷ এই গতি ধরে রাখা এখন কঠিন হয়ে যাবে বাংলাদেশের জন্যে৷
যেইসব দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এরইমধ্যে কমে গেছে৷ সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক বা ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনমত আয় করতে না পারলে দেশে পরিবারের কাছে আগের মতো টাকা পাঠাতে পারবেন না৷ তাই স্বভাবতই রেমিট্যান্স কমতে থাকবে৷ এর প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে৷
খেলাধুলায় পরিপূর্ণ  বিশ্বটি আজ বড় অসহায় এই ভাইরাসটির কাছে। আজ প্রায় একমাস হতে লাগল খেলাধুলা সব স্থগিত। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল, রাগবি,টেনিস এসব কিছু যেন করোনায় আটকে পড়ে আর্তচিৎকার দিচ্ছে।
আসলে প্রকৃতি বড়ই অদ্ভুত।এই সবকিছু আল্লাহর লীলা খেলা।যার সর্বশেষ খেলা করোনা ভাইরাস। এই খেলাটা কোথায় গিয়ে শেষ হয় উপরওয়ালাই ভাল জানেন।
পছন্দের আরো পোস্ট