খুবিতে স্বাশিপের বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা

খুবি প্রতিনিধি।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটাকে ভাবাই যায় না। এ দুই সত্তা কখনই বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ, দূরদর্শীতা, প্রজ্ঞা ও ক্যারিসমেটিক নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশ কখনও স্বাধীন হতো না।

তিনি বলেন পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলো, দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ, তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানো যেতো না, তাঁকে নিয়ে আলোচনা করা যেতো না। এই দীর্ঘ সময়ে ইতিহাসকে বিকৃত করে, বিভ্রান্ত তথ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের সত্য কখনও মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না।

তিনি গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ড. সত্যেন্দ্র নাথ বসু একাডেমিক ভবনের সিএসইর স্মার্ট ক্লাস রুমে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) আয়োজিত ঐতিহাসিক মার্চ: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের দূরদর্শীতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং এদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা,বাঙালির মুক্তির চেতনায় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মেয়র তার বক্তৃতায় বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ, লালন করে প্রকৃতপক্ষে সবার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা জরুরী। তা হলে সমাজে বৈষম্য থাকবে না, অন্যায় অত্যাচার থাকবে না, ঘুষ, দুর্নীতি থাকবে না। আর তা হলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। খুলনাসহ অনুন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্ধকার দূরীভূত করে উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা করেন। তিনি যা করেছেন অতীতে তা আর কেউ করেননি। আজ খুলনাসহ এতদাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আরও নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার আহবান জানান। সভায় মেয়র তাঁর ব্যক্তিগত ছাত্র রাজনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের নানা প্রেক্ষাপট ও ঘটনা বর্ণনা করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) এর সভাপতি প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুখ্যবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি বলেন এই মার্চ মাস বাঙালির অর্জনের মাস, মুক্তির বহ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করার মাস। কিন্তু পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, রেসকোর্স ময়দান, বঙ্গবন্ধুর নামসহ অনেক কিছুই উচ্চারণ করা যেত না। সেই অবরুদ্ধ এবং অন্ধকারময় কেমন পরিবেশ ছিলো তা আমরা কবি নির্মালেন্দুগুণের স্বাধীনতা শব্দটা আমাদের কেমন করে হলো এবং আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি এ দুটি কবিতা পড়লেই অনুধাবন করা যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনা এবং সেদিনকার লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি, উত্তেজনা, অগ্নিগর্ভ পরিবেশের চিত্র তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাশিপের নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাস। এ সময় স্বাশিপের সদস্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট