জাবি উপাচার্য রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম রচিত Women’s Work Gender And Kinship গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী নারীদের জীবন-যাপন জানতে গ্রন্থটি একটি অসাধারণ গবেষণাকর্ম। বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে গবেষক এ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

এই গ্রন্থে একজন নারী কীভাবে তাঁর স্বামী, সন্তান এবং সংসার পরিচালনা করেন, সেসব তথ্য চমৎকারভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। একজন নারী গ্রাম থেকে কী পরিস্থিতিতে শহরে আসে এবং কীভাবে শহরে এসে নতুন কর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়, কীভাবে নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়- তা এ গ্রন্থে বিষদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বস্তিবাসী মানুষকে জানতে এই গ্রন্থ বিশেষ সহায়ক হবে। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম গ্রন্থটির বাংলা সংস্করণ বের করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গতকাল বিকেলে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির ওপর আলোচনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন, নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সমাজ বিশ্লেষক খন্দকার সাখাওয়াত আলী এবং স্থপতি ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ সালমা এ. শফি।

অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন তাঁর আলোচনায় বলেন, একজন নিম্ন আয়ের নারী কীভাবে তার সংসার রক্ষণাবেক্ষণ করেন, কীভাবে তিনি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন গ্রন্থকার সবকিছু সহজ ভাষায় পাঠকের বোধগম্য করে উপস্থাপন করেছেন। অধ্যাপক নাসির উদ্দিন তাঁর আলোচনায় বলেন, একজন আয়-রোজগারহীন স্বামীর একজন উপার্জনক্ষম স্ত্রীর প্রয়োজন রয়েছে। এই বেকার স্বামীর প্রয়োজনীয়তার নেপথ্য কারণ, উপযোগিতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্বামীর প্রতি বিরূপ মনোভাব, জীবন বৈচিত্র্য এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে। খন্দকার সাখাওয়াত আলী বলেন, এই গ্রন্থে মা, শ্বাশুরি, সন্তান এবং যাদের নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি উৎসর্গ করার মধ্যদিয়ে গ্রন্থকার একজন নারীর চিরায়ত বৈশিষ্ট্যের নিদর্শনগুলো আন্তরিকতার সাথে বর্ণনা করেছেন। সমাজ চিনতে এবং সমাজ জানতে গ্রন্থটি একটি অসাধারণ কর্ম।

গ্রন্থ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সঞ্চাচালনা করেন অধ্যাপক আহমেদ রেজা। ৩২৬ পৃষ্ঠায় রচিত এ গ্রন্থটির প্রকাশক আইনুল হোসেন। তিনি এ এইচ ডেভলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ, ঢাকা থেকে গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন। প্রকাশ কাল ২০১৯। প্রচ্ছদ এঁকেছেন কাজী মো. মহসিন। গ্রন্থটিতে অধ্যায় রয়েছে নয়টি। নৃবিজ্ঞান পঠনে এবং নৃবিজ্ঞান গবেষণায় গ্রন্থটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পাঠক মহলে সমাদৃত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

পছন্দের আরো পোস্ট