ভাওয়ালের রাজ্যে মৌচাকের রাণীই প্রথম পিআরএস

স্বর্ণক শাহী।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমেই পরিবর্তন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, চাহিদা তথা প্রায় সব কিছু। প্রতিযোগিতার পাল্লায় পিছিয়ে নেই মেয়েরা। বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার স্কাউট প্রোগ্রামে ১ জানুয়ারি ২০১০ সাল থেকে পরিভ্রমণকারী ব্যাজ (পাঁচ দিনে পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার) অর্জন মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। তখন শুরু হয় নানা আলোচনা – সমালোচনা, মেয়েরা কি পারবে পরিভ্রমণ করতে? তারা কি নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে? সব বাধাঁ অতিক্রম করে, নতুন রোভার স্কাউট প্রোগ্রামে প্রথম পরিভ্রমণ করে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের আওতায় গাজীপুর জেলা রোভারে দুইটি মেয়ে ইউনিট। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন রোভার স্কাউট নুসরাত জাহান রাণী।

শিশু ও যুব বসয়সীদের অতিরিক্ত যোগ্যতা অর্জন লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “স্কাউটস” স্কাউটিং বিশ্বব্যাপী (বর্তমানে ১৭১টি দেশে) যুব শিক্ষা মূলক ও সমাজিক আন্দোলন। ১৯০৭ সালে ব্যাডেন পাওয়েল লন্ডনে এই আন্দোলনের সূচনা করেন।

৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়ে “শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক” উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে সুনাগরিক গঠনে কাজ করে যাচ্ছে তিনটি শাখায় “কাব স্কাউট (৬ থেকে ১০+ বয়সী), স্কাউট (১১ থেকে ১৬+ বয়সী) ও রোভার স্কাউট (১৭ থেকে ২৫ বয়সী)”। নিদিষ্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্কাউট সদস্যরা ব্যাজ অর্জনের মাধ্যমে ব্যাজ বা স্তর অতিক্রম করে, অর্জন করে সর্বোচ্ছ অ্যাওয়ার্ড। রোভার স্কাউট শাখার সর্বোচ্ছ অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে, “প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড” (পিআরএস)।

বাংলাদেশে মোট পিআরএস-এর সংখ্যা ১৭০ জন। ঘন গজারি গাছের আচ্ছাদিত গহীন লাল মাটির টিলা ভাওয়ালের অরণ্য অঞ্চল গাজীপুর জেলা। বাংলাদেশ স্কাউটস গাজীপুর জেলা রোভারের যাত্রা ১৯৭৬ সালে। গাজীপুর জেলায় প্রথম পিআরএস অর্জন ২০১৯ সালে, মৌচাক ওপেন গার্ল-ইন-রোভার স্কাউট ইউনিট হতে অর্জন করে এক সংগ্রামী মেয়ে রোভার স্কাউট নুসরাত জাহান রানী।

জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মৌচাক, গাজীপুরে ১৯ জানুয়ারি ২০২০ মাহামন্য রাষ্ট্রপ্রতি ও চীফ স্কাউট মোঃ আবদুল হামিদ,রাণীকে পিআরএস অ্যাওয়ার্ড পরিয়ে দেন এবং সনদপত্র হস্তান্তর করেন। রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী রানী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে সম্পৃক্ততা ও সফলতা অর্জনের কথা উৎসর্গ করা হচ্ছে আগামী প্রজন্মের সকল মেয়েদের উদ্দেশ্যে।

যেভাবে স্কাউট আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া
২০০৬ সালে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে স্কাউটিং যোগদান করি। এসএসসি পাস করে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হই। কিন্তু আমাদের কলেজে রোভার স্কাউটিং কার্যক্রম না থাকায় স্কাউটিং এ আমার অংশগ্রহণ থেমে যায়। একদিন মোঃ শাহাবুদ্দিন স্যারের সাথে গাজীপুরে দেখা হলে স্যার আমার খোজ খবর নেন এবং স্কাউটিং বিষয়ে কথা হলে স্যারকে জানাই যে, আমাদের কলেজে স্কাউটিংএর কার্যক্রম নেই। তখন ওনার পরামর্শ অনুযায়ী কমিউনিটি বেইজড স্কাউট ইউনিট মৌচাক ওপেন স্কাউট গ্রুপে যোগদান করি রোভার স্কাউট হিসেবে। যার গ্রুপ সম্পাদক স্যার নিজেই।

স্বপ্ন দেখা শুরু 
বাংলাদশে স্কাউটস রোভার অঞ্চলের আয়োজনে, ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১১, রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাহাদুরপুর, গাজীপুরে “সপ্তদশ রোভার মুট” অনুষ্ঠিত হয়। মুটের অনেক প্রোগ্রামের মধ্যে একটি ব্যতিক্রম প্রোগ্রাম ছিল পিআরএস রি-ইউনিয়ন। রি-ইউনিয়নেই দেখতে পাই মোঃ হারুন-অর-রশিদ (সাগর) পিআরএস ভাই অ্যাওয়ার্ড পরেছে এবং আমার কৌতুহল জাগে মনে, সাগর ভাইয়ের কাঁধের অ্যাপুলেটটা কিভাবে অর্জন করলেন। আমি জানতে পারি যে তিনি পিআরএস অ্যাওয়ার্ড করেছেন। যা রোভার স্কাউটদের সর্ব্বোচ্চ সম্মানজনক একটি অ্যাওয়ার্ড। পরবর্তিতে আমাদের ত্রুমিটিং জানতে পারি যে গাজীপুর জেলাতে কোন পিআরএস নেই। তখন আমি মনে মনে স্থির করেছিলাম যে আমি একদিন পিআরএস অ্যাওয়ার্ডটি অর্জন করব। ওখান থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু এবং রোভার প্রোগ্রাম অনুযায়ী সকল কাজ ও শর্ত্য পর্যায়ক্রমে পূরণ করতে থাকি।

পরিবার থেকে সহযোগিতা যতটুকু 
একজন মেয়েকে স্কাউটিং করতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন হয় পারিবারিক সমর্থন। আমর ক্ষেত্রেও আমার পরিবারের সহযোগীতা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে আমার বাবা জনাব মোঃ নূর বাহাদুর। তিনি আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য সব সময় অনুপ্রাণিত করতেন, আমার মা জনাব বিলকিস বেগম ওনার সহযোগিতাও কম ছিল না। বিয়ের পর আমার স্বামী ড. মোঃ সাবিরোজ্জামান, অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার সহযোগীতা ও পরামর্শ আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাকে আরো দৃঢ় করেছে। আমি যখন স্কাউটিং কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতাম তখন তিনি আমাদের সন্তান সুসমি নুর জামান এবং সিয়ারা নুর জামান দুইজনকে সময় দিতেন।

রোভার স্কাউট প্রোগ্রামে যে ব্যাজ অর্জন বা কাজ করা চেলেঞ্জিং ছিল
রোভার প্রোগ্রামে আমার কাছে সব থেকে চ্যালেঞ্জিং ছিল, পরিভ্রমণকারী ব্যাজ অর্জন করা। এই ব্যাজ অর্জনে রয়েছে মৌচাকের অনেক মধুর স্মৃতি! গাজীপুর টু নরসিংন্দী, ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত মানচিত্র দেখে, কম্পাসের সাহায্যে (ডিগ্রী ও কদম অনুসরন করে) রোভার স্কাউট প্রোগ্রামের শর্ত অনুযায়ী, পাঁচদিনে পায়ে হেঁটে ১৫৯ কিলোমিটার পরিভ্রমণ করি (রোভার প্রোগ্রামে ৫ দিনে ১৫০ কি.মি. পথ পায়ে হেটে অতিক্রম করতে হয়)। এই সময় আমাকে শারিরিক ও মানসিক ভাবে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমি প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এই ব্যাজটা অর্জন এর মধ্য দিয়ে। আলোচনা – সমালোচনা, নানা বাধা, জটিলতা, যুক্তি-পাল্টা যুক্তি সব কিছু অতিক্রম করে শুরু হয় পরিভ্রমণের প্রস্তুতি। যখন প্রস্তুতি চলছে তখন মনের মধ্যে অনেক আনন্দ, আমরা পরিভ্রমণে যাব, যেন পহেলা বৈশাখ বা ঈদের উৎসব। প্রস্তুতি হিসেবে আমাদেরকে বলা হয় রুট পছন্দ করার জন্য, রুট পছন্দ করলাম গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি পর্যন্ত।

কিন্তু হঠাৎ আনন্দ শেষ! আমাদের পছন্দের রুটে যাওয়া হবে না, আমরা আমাদের রুটে যাওয়ার জন্য অনেক যুক্তি – পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করি, কিন্তু কোন যুক্তি কাজে আসে না ঢাকা – ময়মনসিংহ সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য। পরিভ্রমণ করতে হবে গাজীপুর থেকে নরসিংদী পর্যন্ত।

রুট হবে এইভাবে ঃ- গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হতে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মৌচাক, গাজীপুর  জামালপুর চৌরাস্তা হয়ে ভাওয়াল মির্জাপুর  রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাহাদুরপুর  বাংলা বাজার, তালহা বয়স্ক পূর্নবাসন কেন্দ্র  তালতলি, পিরুজআলী সড়ক ঘাট  বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভবানীপুর  পিংগাইল, রাজেন্দ্রপুর রেল গেইট  ভাওয়াল গড়, ধলাদিয়া কলেজ শ্রীপুর  সূর্য নারায়নপুর দিঘী  কাপাসিয়া, বঙ্গতাজের বাড়ি (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ত্রিমোহনী বঙ্গতাজ ডিগ্রী কলেজ  খিরাটি, মনোহরদী উপজেলা  বেলাব উপজেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উয়ারি বটেশ্বর সংগ্রহ শালা  ইটাখোলা পুটিয়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিবপুর ও বিসিক শিল্প নগরী  জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নরসিংদী ও নরসিংদী সরকারি কলেজ পর্যন্ত।

যাই হোক রোভার স্কাউট প্রোগ্রামের রোভার সহচর, সদস্য স্তর, প্রশিক্ষণ স্তর অতিক্রম করে সেবা স্তরে অবস্থান করছি। সেবা স্তর অতিক্রম করার পরিভ্রমণকারী ব্যাজ অর্জনের জন্য গাজীপুর টু নরসিংন্দী রুটেই যাবো, আমার স্বপ্ন যখন প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন।

পরিভ্রমণের প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় মানচিত্র অংকন নিয়ে খুবই সমস্যা হয়, তখন বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন স্যার ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। একই সাথে অনান্য কাজেও বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় উপ কমিশনার (প্রশিক্ষণ) মোঃ আরিফুজ্জামান, পিএস ও পিআরএস স্যার; মনসিক ভাবে প্রচুর অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সাবেক ঢাকা বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট (এসআরএম) প্রতিনিধি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা করেছেন পরিভ্রমণ সফল সমাপ্ত করার জন্য এবং আমার ইউনিটের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল।

নুসরাত জাহান রাণীইউনিট লিডার বা সিনিয়রদের সহযোগীতা ও আন্তরিকতা 
আমি খুবই ভাগ্যবান যে আমার গ্রুপ সম্পাদক, ইউনিট লিডার এবং সিনিয়রদের অনেক সহযোগীতা পেয়েছি। তারা আমার প্রতি খুবই আন্তরিক ছিলেন। সাবেক ঢাকা বিভাগীয় এসআরএম প্রতিনিধি-এর সহযোগিতা ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, তিনি আমার প্রতিটি কাজে আমার পাশে ছিলেন এবং প্রয়োজনে শাসন করেছেন। হঠাৎ মানসিক ভাবে যখন ভেঙে পড়েছি আমাকে উঠে দাঁড়াতে সহযোগীতা করেছে মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন স্যার এবং মোঃ রেজাউল করিম, পিআরএস ভাই। ওনারা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং আমাকে তৈরি হতে সহযোগীতা করেছেন আমার পাশে থেকে। এ ছাড়াও যে সকল স্যার/ ম্যাডম/ ভাই/ বোন আমাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেনঃ আমাদের গ্রুপের প্রধান উপদেষ্ঠা আরশাদুল মুকাদ্দিস, আমার ইউনিট লিডার অধ্যাপক মমতাজ বেগম, গ্রুপ সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন, আঞ্চলিক উপ কমিশনার (প্রোগ্রাম) শরিফুল ইসলাম, আঞ্চলিক সম্পাদক এ.কে.এম সেলিম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক কে.এম.এ.এম সোহেল, প্রফেসর মোঃ নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আবুল খায়ের, এ.এইচ.এম শামছুল আজাদ, এ.কে.এম আশিকুজ্জামান (বিপুল), মোহাম্মদ ইয়াছিনুর (রাকিব) পিআরএস, মোঃ আঃ ছালাম, মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন, মোঃ ওসমান গনি, মাসুদা আক্তার, রোভার স্কাউট আমেনা আক্তার প্রমুখ।

স্কাউটিংএর কার্যক্রম করার ক্ষেত্রে বাধাঁ 
মেয়ে ব্যক্তি হিসেবে যে কাজই করতে চায়, সেখানে কিছু বাধার সম্মুখিন হতে হয়। এটাই সাধারণ বিষয়। সেই বাধাঁকে অতিক্রম করাটাই হচ্ছে আসল ব্যাপার। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের মাঝ পথে ২০১৬ সালে আমার বিয়ে হয়ে যায়। নতুন জায়গায় চলে আসতে হয়। নতুন সংসার সামলে স্কাউটিংয়ে আর সক্রিয় থাকা সম্ভব হচ্ছিলনা। কিন্তু স্কাউটিং থেকে দূরে থাকাও ছিল আমার জন্য অনেক কঠিন একটি কাজ। নিজের মনকে স্থির করলাম আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করব। আমার স্বামী ড. মোঃ সাবিরোজ্জামান-এর সহযোগীতায় আবার শুরু করি। রোভার স্কাউট প্রোগ্রাম যেখানে থেমে ছিল, সেখান থেকে শুরু করলাম। আমি মনে করি ইচ্ছা থাকলে সকল বাধাঁকে উপেক্ষা করে সফল হওয়া সম্ভব।

ইউনিট লিডার বা সিনিয়রদের ‘সহযোগীতা ও শাসন’ 
হ্যাঁ, করেছেন। তিনি হলেন সাবেক ঢাকা বিভাগীয় এসআরএম প্রতিনিধি। স্কাউটিং বিষয়ে আমার প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করেছেন ও প্রয়োজনে শাসন করেছেন এবং শাস্তি দিয়েছেন। যখন শাস্তি পেতাম তখন খুবই খারাপ লাগতো। কিন্তু পরে যখন বুঝতে পাতাম আমার ভুলের জন্য শাস্তি পেতে হয়েছে তখন ভুলগুলো সংশোধন করার চেষ্টা করতাম। একবার আমাকে ইউনিটের কার্যক্রম ব্যাতিত অন্য সকল প্রোগ্রামে ০৬ (ছয়) মাস বিরত রাখেন। কারন জানতে চাইলে তিনি এক কথায় উত্তর দেন, “সময় হলে, উত্তর পাবে এবং সময়ই বলে দিবে”। সময় মতোই উত্তর পেয়ে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমি মনে করি, “শাসন করা তারই সাজে, সহযোগিতা করে যে”। ওনার মাধ্যমে আমি প্রথম বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় সদর দপ্তরে যাই, বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত স্কাউটিং বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘অগ্রদূত’এ সংবাদ পাঠ, উপস্থাপনা ও কবিতা আবৃত্তি করার সুযোগ পাই। সুযোগ পাই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের।

সংসার, পড়ালেখা এবং সংগঠন সমন্বয় 
আসলে এই বিষয়গুলোকে সমন্বয় করা একটু কঠিন ছিল আমার জন্য। সংসার এবং ‘মা’এর দায়িত্ব পালন করে, লেখাপড়া শেষ করে আমি সংগঠনের কাজ করতাম। আমার স্বামী ড. মোঃ সাবিরোজ্জামান-এর ভূমিকা ছিল এখানে অনেক বেশি। আমি যখন লেখা পড়া এবং সংগঠনের কাজ করতাম তখন সে আমাদের সন্তানের দায়িত্ব সে পালন করত। আসলে বিয়ের পর তার সার্বক্ষণিক সহযোগী ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না।

যাদের কথা মনে পড়ে বা মিস করি
স্কউটিংয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে প্রায় সবাইকেই মনে পড়ে। তাদের মধ্যে খুব বেশি মনে পড়ে যাদের সাথে পরিভ্রমণ করেছি, তাদের কথা। আমরা একসাথে অনেক কঠিন সময় পার করেছি। আমাদের একসাথে পিআরএস দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকজন স্কাউটিং থেকে দূরে সরিয়ে যায় আবার কেউ স্কাউটিংএ সম্পৃক্ত থাকলেও পিআরএস অর্জনের জন্য পরবর্তী কাজ সমূহ সম্পন্ন করে নাই। আমি তাদেরকে অনেক মিস করি।

ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য 
এক কথায় দুরুণ এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। স্বপ্ন পূরণের আনন্দ এবং তৃপ্তি এতো বেশি যা এখন অনুভব করছি। আমি কৃতজ্ঞ যেই সব মানুষদের প্রতি যারা আমাকে এই পর্যন্ত পৌঁছাতে সহযোগীতা করেছেন। এছাড়াও আমার ইউনিট মৌচাক ওপেন স্কাউট গ্রুপ, বাংলাদেশ স্কাউটস গাজীপুর জেলা রোভার, বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল এবং বাংলাদেশ স্কাউটস এর সহযোগীতা কখানোই ভুলার নয়। রোভার স্কাউট আমেনা আক্তারের সহযোগিতা চির স্মরণিয় হয়ে থাকবে আমার কাছে। নতুনদের উদ্দেশে একটা কথাই বলবো ইচ্ছা শক্তি থাকলে সব কিছুই করা সম্ভব। তাই লক্ষটাকে স্থির কর এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাও রোভার স্কাউট প্রোগ্রাম অনুযায়ী, সফলতা আসবেই। সর্বপরি সবার জন্য শুভ কামনা থাকলো।

পছন্দের আরো পোস্ট