আইইউবিতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবজাতির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো। গবেষকরা এখন এই সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিরও উচিৎ এই বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোড়দার করা, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-তে ‘ইউনাইটেড নেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসি)-তে আইইউবি’র ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি) এর ভূমিকা এবং ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬) এর জন্য কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচকরা এসকল মন্তব্য করেন। রাজধানীর বসুন্ধরায়, মার্চ ২, ২০২০ তারিখে এর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবি’র আইসিসিসিএডি’র পরিচালক অধ্যাপক সালিমুল হক। এছাড়া ডিএফআইডি-বাংলাদেশের প্রধান মিস জুডিথ হার্ভার্টসন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবতর্ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদির তাদের বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন এবং কপ-২৬ সম্পর্কে বাস্তবায়নযোগ্য নানা পরামর্শ তুলে ধরেন।

আইইউবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জনাব এ মতিন চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মিলান পাগন সেমিনারে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন এবং কার্যকর গবেষণা কাজে সব ধরণের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক সালিমুল হক তার উপস্থাপনায় আইসিসিসিএডি প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং এর বর্তমান ও ভবিষ্যত লক্ষ্যগুলি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেহেতু বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি হুমকিতে রয়েছে তাই এ বিষয়ে উচ্চমানের গবেষণা এবং পাঠ্যক্রমের ওপর জোর দেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে সকল সহযোগীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান অধ্যাপক হক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে এর সামাজিক প্রভাব বিশেষ করে আর্থ-সামাজিক, নারীর ওপর প্রভাব এবং সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষমতার দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন জুডিথ হার্ভার্টসন। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব থাকলেও এর মোকাবিলায় সামর্থের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যান্য দেশের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশকে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন সুদীপ্ত মুখার্জি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি একটি বিশেষজ্ঞ ফোরাম গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিকভাবে নানা সহায়তা করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. নুরুল কাদির জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে জনমানুষের উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং এ সংক্রান্ত জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট-এর ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল খালেক।

পরে, প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক, গবেষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রতিনিধি এবং আইইউবি’র শিক্ষার্থীরা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন তারা।

সেমিনারে আইইউবি’র বিভিন্ন স্কুলের ডিন, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

পছন্দের আরো পোস্ট